jagannathpurpotrika-latest news

আজ, ,

সর্বশেষ সংবাদ
«» জগন্নাথপুরে মিরপুর ইউনিয়নে আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী শেরীন বিশাল ভোটে চেয়ারম্যান নির্বাচিত «» ছাত্র মজলিস শ্যামপুর থানার বার্ষিক কর্মী সমাবেশ অনুষ্ঠিত «» জগন্নাথপুরে রাত পোহালেই ভোট যুদ্ধ শুরু ॥ কে হচ্ছেন সেই ভাগ্যবান চেয়ারম্যান «» ছাতকের কিলবার্ণ এন্ড হামস্টেড মুসলিম কালচারাল সেন্টারের ইমাম ও খতিবকে সংবর্ধনা «» ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহযোগী সদস্য সমাবেশে আবাসিক হলগুলোতে গড়ে ওঠা টর্চার সেল ধ্বংস করতে হবে: ছাত্র মজলিস «» ছাত্র মজলিস ঢাকা মহানগরী উত্তরের বার্ষিক সহযোগী সদস্য সমাবেশ অনুষ্ঠিত «» প্রধানমন্ত্রী-রাষ্ট্রপতি নিয়ে কটাক্ষ, সিলেটের মোগলবাাজার থেকে আটক ১ «» ছাত্রলীগের মিছিলে খুনের রক্ত: ভিপি নুর «» ছাত্র জমিয়তের মতবিনিময় সভায় অাগামি ১১ জানুয়ারী সিলেট বিভাগীয় সদস্য সম্মেলন ঘোষণা «» ফেসবুক ব্যবহারকারীদের উদ্দেশ্যে শাহীনুর পাশা চৌধুরীর কিছু কথা



১ দিনের বাঙ্গালী : হুসাইন আহমদ মিসবাহ

এক দিনের বাঙ্গালী : হুসাইন আহমদ মিসবাহ

 

পহেলা বৈশাখ, বাংলা সনের প্রথম দিন। মোগর সম্রাট জালালুদ্দিন মুহাম্মদ আকবর প্রতিষ্ঠিত বাংলা সনের জন্য দিনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সারা বছর যারা বাঙ্গালী সংস্কৃতি উপেক্ষাকে করে, তারাও এই দিনটিতে খাটি বাঙ্গালী সাজার প্রতিযোগিতায় মত্ত্ব হয়। বিশেষত তরুণ-তরুণীরা প্রচন্ড আবেগ ও উৎসাহ নিয়ে বাঙ্গালী সেজে হাজির হয় রমনার বটমূল, বাংলা একাডেমীর আশ পাশ কিংবা অন্য কোথাও।
সারা বছর বাঙ্গালী সংস্কৃতিকে অবজ্ঞা করা তরুণ-তরুণী, আবাল-বৃদ্ধ পহেলা বৈশাখে বর্ষ বরণের আঙ্গিনায় উপস্থিত হন বাঙ্গালী পোষাকে। তাদের গায়ে শোভা পায় লাল পেড়ে সাদা শাড়ি, লুঙ্গি-পাঞ্জাবী।
শাড়ি, লুঙ্গি, পাঞ্জাবী, বাঙ্গালী পোষাক হলেও লাল-সাদা রংটি প্রশ্নবিদ্ধ। অনেকের মতে, এটা এসেছে সনাতনধর্মীয় সংস্কৃতি থেকে। সিঁদুরের লাল ও শাঁখার সাদা থেকেই এই লাল-সাদার আগমন। যদি তাই হয়, তাহলে এই লাল-সাদা অবশ্যই মুসলমানদের জন্য বর্জনীয়। এক্ষেত্রে আমরা স্বাগত জানাতে পারি, স্বাধীতার প্রতীক লাল-সবুজকে।
আর পহেলা বৈশাখে এদের খাবার মেনুতে স্যান্ডুইচ, চায়নিজ কিংবা বার্গার এর পরিবর্তে, তাদের সামনে দেখা যায় বাঙ্গালীর ঐতিহ্যবাহী মাটির সানকিতে পান্তা ভাত, সাথে পদ্মার ইলিশ মাছ। পিয়াজ এবং কাচা মরিছে কামড় দিয়ে তৃপ্তির ডেকুর তুলেন ১ দিনের বাঙ্গালীরা।
বছরের ৩৬৪ দিন পশ্চিমা সংস্কৃতিতে যাদের আপাদমস্তক ডুবে থাকে, পোষাক-পরিচ্ছেদ, চাল-চলন, আচার-ব্যবহার, কথা-বার্তা, খাবার-দাবার সব কিছুতেই সারা বছর তারা বাঙ্গালী সংস্কৃতিকে তাচ্ছিল্য করেন। বাংলাদেশের জাতীয় পোষাক লুঙ্গি-পাঞ্জাবীকে সারা বছর ব্যক্তিত্ব ও আভিজাত্যের অন্তরায় মনে করেন। অন্যদিকে অনাথ, অসহায়, দীনহীন, নিরুপায়দের জন্যেই সারা বছর বরাদ্ধ থাকে পান্তা ভাত। বিলাসীতার জন্য নয়, বিকল্প কোন খাবার যোগার করতে না পেরে বেচে থাকার তাগিদেই তারা, পান্তাভাত ও কাচা মরিছের স্বাদ গ্রহণ করে। অসহায়রা ঘরের চালের ছিদ্র দিয়ে পড়া পানিতে ভিজে স্যাত স্যাতে হয়ে যাওয়া মেঝেতে বসে পান্তাভাত খায় লবণ, পিয়াজ ও কাচা মরিছ দিয়ে। পদ্মার ইলিশের গন্ধ কেবল তারা অনুভব করে, কল্পনা করার দুঃসাহস তারা দেখাতে পারে না।
গরীব অসহায়দের প্রতি আমরা সহযোগিতার হাত বাড়াতে না পারলে, তাদেরকে নিয়ে উপহাস করার কোন অধিকার আমাদের নেই। আমরা কি একটি বারের জন্যেও ভেবেছি, কারো বেচে থাকার শেষ অবলম্বন পান্তাকে সারা বছর অবজ্ঞা করে মাত্র ১দিন বিরাট আয়োজনে সেটাকে বরণ করা উপহাসের তালিকায় পড়ে কি না?! এই একদিন আমাদের বাঙ্গালী সাজায়, তাদের মনের অবস্থা কেমন হয়, যারা বাধ্য হয়ে সারা বছর বাঙ্গালী থাকে। ৩৬৪ দিন বিদেশী সংস্কৃতিতে গা ভাসিয়ে মাত্র ১ দিন বাঙ্গালী সাজা সেটা কি খোদ বাঙ্গালী সংস্কৃতির সাথে উপহাস নয়?
আমাদের সামগ্রিক আচরণে যেন আমরা বলতে চাই- “এসো হে বৈশাখ এসো এসো,
সারাদিন আমাদের সাথে থেকে বিকেলে চলে যেও, সারা বছর তোমার সাথে আর যোগাযোগ রাখতে পারবো না, আগামী বছর এই দিনে আবার তোমায় স্মরণ করবো। তোমার জন্য আমাদের ৩৬৫ দিনের মাত্র ১ দিন বরাদ্ধ রেখেছি। লেখক মোবাইল 01712-100057