jagannathpurpotrika-latest news

আজ, ,

সর্বশেষ সংবাদ
«» তিন বিষয়ে এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়া হবে «» ফুফাত বোনকে ধর্ষণের চেষ্টা অভিযোগে মামাত ভাই কারাগারে «» ছাতকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ৪ হাজার ৬শ টাকা জরিমানা «» জগন্নাথপুরে মেম্বার পদপ্রার্থী খোরশেদ আলীর ঈদ শুভেচ্ছা «» জগন্নাথপুরে জিয়া লাইটিং এন্ড পুষ্প কেন্দ্র’র পক্ষথেকে ঈদ শুভেচ্ছা «» জগন্নাথপুরে বিশিষ্ট সমাজসেব, শিক্ষানুরাগী সৈয়দ তালহা আলমের ঈদ শুভেচ্ছা «» মাদরাসা খোলার অনুমতি চায় হেফাজত «» ছাতকে ১৯টি মামলার পলাতক আসামী ডাকাত সর্দার গ্রেফতার «» দিরাইয়ে বেতনের টাকা কেটে নিয়ে তোপের মুখে ফেরত দিল অফিস সহকারী «» ওসমানীনগরে জোরপূর্বক ধর্ষণের অভিযোগে বিশ্বনাথের ধর্ষক গ্রেফতার



সিলেটের বিয়ানীবাজারে আওয়ামী লীগের নতুন কমিটির বিরুদ্ধে কেন্দ্রে নালিশ

ডেস্ক রিপোর্ট :: সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলা আওয়ামী লীগ আর বিতর্ক যেনো সমার্থক। ইস্যুরও অভাব নেই। যখন তখন যেকোন ইস্যুতে মাঠ সরগরম। এমনটাই চলছে দীর্ঘদিন থেকে। এবার সদ্য অনুমোদিত কমিটি নিয়ে শুধু বিতর্কই নয়, স্বয়ং আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দফতরে অভিযোগ জমাও ও তা রিসিভ করাও হয়েছে। এক্ষেত্রে ইস্যু বহুবিধ। যেমন ত্যাগী নেতাদের বঞ্চিত হওয়া, রাজাকার পরিবারের সদস্যকে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেয়া, জামায়াত-শিবির-বিএনপি নেতাদের কমিটিতে অন্তভূর্ক্ত করা ইত্যাদি। এই শেষ নয়, অভিযোগ আরও আছে। এই কমিটিতে এমন অনেককেই  রাখা হয়েছে যারা দীর্ঘদিন থেকে রাজনৈতিক ক্ষেত্রে নিস্ক্রিয় আবার কেউকেউ দীর্ঘদিন থেকে অবস্থান করছেন প্রবাসে। সব থেকে মারাত্মক অভিযোগটি উঠেছে সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে। তার বাবা ছিলেন রাজাকার! এটি অবশ্য নতুন নয়, অনেক পুরানো। এই অভিযোগপত্রে স্বাক্ষর করেছেন বিয়ানীবাজার উপজেলা আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত অন্তত ২৫ জন নেতাকর্মী। সম্প্রতি ( ১৭ জুন ২০২১ ) বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সভাপতির কার্যালয়ে এসব অভিযোগ এবং তার সপক্ষে অন্যান্য নথিপত্র পাঠানো হয়েছে। অভিযোগকারীদের একজন বিয়ানীবাজার উপজেলা পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান আবুল কাশেম পল্লব, এবারের সম্মেলনে অন্যতম সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী মো. হারুনুর রশীদ দীপু, বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজের সাবেক ভিপি মো. সাইফুল ইসলাম নিপু। নিপুর আবেদনের সাথে আরও ২৪ জন নেতাকর্মীর স্বাক্ষর রয়েছে। তারা হলেন বিয়ানীবাজার কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. বেলায়েত হোসেন, বিয়ানীবাজার প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মিলাদ মো. জয়নুল ইসলাম, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক নেতা ছাব্বির আহমদ, আ’লীগ নেতা শাহীন আলম হৃদয়, মো. হাবিবুর রহমান রাছেল, উপজেলা যুবলীগের সাবেক সহসভাপতি অহিদু রেজা মাসুম, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক নেতা নুরুল আমীন, সাবেক যুবলীগ নেতা কাওছার আহমদ, বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সজীব ভট্টাচার্য, লাউতা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গৌছ উদ্দিন, উপজেলা আ’লীগের সাবেক সদস্য মতিউর রহমান মাষ্টার, সাবেক বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক ফখরুল ইসলাম, বিয়ানীবাজার পৌর আ’লীগর সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. হাবিবুরর রহমান, সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সাবেক অর্থ সম্পাদক মো. মাহবুব হোসেন জুয়েল, সাবেক চেয়ারম্যান জমির উদ্দিন, আ’লীগ নেতা খছরুজ্জামান, জিয়াউর রহমান, নাসির উদ্দিন, ছাদিক আহমদ, সুমন, রুহুল আলম জালাল, মো. নাজিম উদ্দীন, জিল্লুর রহমান, আব্দুল জলিল, হুমায়ুন কবীর ও সাঈদ। সবার অভিযোগ প্রায় একই। আবুল কাশেম পল্লব তার অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেছেন, ২০১৯ সালের ১৪ নভেম্বর উপজেলা আ’লীগের কাউন্সিলে সাধারণ সম্পাদক পদে প্রতিন্দ্বিতা করে সম্মানজনক ভোট পেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু পরে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের সময় তার কোন মতামতই নেয়া হয়নি। তার অভিযোগ, ঘোষিত কমিটিতে অনেকেই জামায়াত-শিবির ও বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন।

 

পল্লব উল্লেখ করেন, এ কমিটিতে উপজেলা আওয়ামী লীগের অনেক ত্যাগী পরীক্ষিত এবং সক্রিয় নেতাকর্মী বাদ পড়েছেন। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে প্রতিন্দ্বিতাকারীরা বিপুল ভোট পেলেও তাদের মতামত ছাড়াই পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়েছে। এসব নেতার সহযোগী কর্মী বা সমর্থকদেরও পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে রাখা হয়নি। তাই পল্লব বিয়ানীবাজার উপজেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান কমিটি স্থগিত করে নতুন করে কমিটি পূণঃগঠনের  দাবি জানিয়েছেন।

 

 

মো. হারুন আহমদ দীপুর অভিযোগও প্রায় একই। তবে তিনি সরাসরি বর্তমান কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের দিকে অভিযোগের আঙুল তুলেছেন। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, তাদের উদ্দেশ্যমূলক আচরণের কারণে ভবিষ্যতে অনেক ত্যাগী নেতাকর্মী নিস্ক্রিয় হয়ে পড়তে পারেন। আর তাই এ কমিটি স্থগিত করে নতুনভাবে কমিটি পূণঃগঠনের জোর দাবি দীপুর।

 

 

এদিকে বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজের সাবেক ভিপি সাইফুল ইসলাম নিপুসহ ২৫ জনের স্বাক্ষরকৃত অভিযোগনামায় বর্তমান কমিটির বিরুদ্ধে অন্তত ১৫টি মারাত্মক অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে। সেগুলো হচ্ছে, প্রকাশিত কমিট অনুমোদনের ক্ষেত্রে মেয়াদ সংক্রান্ত কোন তথ্য বা তারিখ উল্লেখ না করা যা গঠনতন্ত্র পরিপন্থী, সভাপতি পদে প্রতিন্দ্বিতা করায় সর্বশেষ কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক নজমুল ইসলামকে পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে রাখা হয়নি। অথচ তিনি বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজের সাবেক ভিপি, উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতিও ছিলেন। সভাপতি-সম্পাদকের প্রতিহিংসার শিকার হয়ে তার এই পরিণতি। এমনকি তাকে সহযোগীতা করায় বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজের সাবেক ভিপি হোসেন আহমদকেও কমিটিতে রাখা হয়নি। একই কারণে সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থীদের কোন মতামত ছাড়াই পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং তাদের সহযোগীদেরও কমিটিতে স্থান ঠাঁই হয়নি।
কমিটিতে অন্তর্ভূক্তির লোভ দেখিয়ে মোটা অংকের আর্থিক লেনদেনেরও অভিযোগ তুলেছেন তারা। উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার সভাপতি-সাধারণ সম্পাদককেও কমিটিতে রাখা হয়নি যা দলীয় গঠনতন্ত্র পরিপন্থী। কমিটিতে ৮ জন প্রবাসীকে অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে অথচ জামায়াত-শিবিরের হাতে নির্যাতিত বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজের সাবেক ভিপি ছরওয়ার হোসেন ও সাবেক জিএস ফারুকুল হককে কমিটিতে রাখা হয়নি।
একইভাবে বিয়ানীবাজার উপজেলা আওয়ামী লীগ যারা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, তাদের পরিবারে সক্রিয় নেতাকর্মী থাকা সত্তে¡ও তাদের কাউকেই কমিটিতে রাখা হয়নি। বর্তমান কমিটির সহসভাপতি নাজিম উদ্দিন, আলহাজ শামসুদ্দিন খান ও হাজী মুশতাক আহমদ স্থায়ীভাবে বিদেশে চলে গেছেন। দীর্ঘদিন থেকে তারা দলীয় কার্যক্রমে অনুপস্থিত। অপর সহসভাপতি অধ্যাপক আব্দুল খালিকের পিতা তছির আলী ছিলেন একজন চিহ্নিত রাজাকার, আশরাফুল ইসলামের পিতা মনির আলী ও ভাই শিহাবুল ইসলামও রাজাকার ছিলেন। আর তার ছেলে নাবিল আহমদ অস্ত্র ব্যবসায়ী হিসাবে চিহ্নিত এবং সশস্ত্র অবস্থায় সম্প্রতি সে গ্রেফতারও হয়েছে।

মারাত্মক সব অভিযোগ উঠেছে এই কমিটির সাধারণ সম্পাদক মকসুদুল ইসলাম আউয়ালের বিরুদ্ধে। তার পিতা কুটুচাঁন মেম্বার হল্ট রাজাকার হিসাবে চিহ্নিত। আর তিনি নিজে নাকি বিয়নাীবাজার সিনিয়র মাদ্রাসায় পড়ার সময় শিবিরের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন! এরপর তিনি ছাত্র ইউনিয়ন এবং বাকশাল ছাত্রলীগে যোগদান করেছিলেন।

সিলেট-৬ গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজার আসনের সাংসদ, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের দিকে ইঙ্গিত দিয়ে অভিযোগে বলা হয়, তার ব্যক্তিগত সহকারী হওয়ার সুবাদেই তিনি বিয়ানীবাজার উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন। এ কমিটির আইন বিষযক সম্পাদক অ্যাডভোকেট জমিস উদ্দিন প্রায় ২০ বছর থেকে রাজনীতিতে নিস্ক্রিয়। কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক ইসলাম উদ্দিন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসাবে নির্বাচন করেছিলেন। তার আপন ভাই এখলাছ উদ্দিন স্থানীয় জামায়াতের রোকন সদস্য। ধর্মবিষয়ক সম্পাদক আব্দুল মুছব্বির মাষ্টার ২৫ বছর ধরে রাজনীতিতে নিস্ক্রিয়। তাছাড়া তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যলয়ে পড়াকালীন সময়ে শিবিরের রাজনীতি করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক জুবের আহমদের পিতা ওয়ার্ড জামায়াতের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং তিন ভাইও জামায়াত-শিবিরের রাজনীতির সাথে জড়িত।

এদিকে সিলেট জেলা আওয়ামী লীগ একই পরিবার থেকে দু’জনকে কমিটিতে নেয়া হবে বলে সিদ্ধান্ত নিলেও সভাপতির পরিবারের ক্ষেত্রে এ নিয়ম মানা হয়নি। কারণ বর্তমান কমিটির মহিলা বিষয়ক সম্পাদক ডা. তাহমিনা খাতুন বর্তমান সভাপতি আতাউর রহমানের স্ত্রী। অথচ এই নিয়মের কারণে বঙ্গবন্ধুর সহচর ও স্থানীয় আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এমএ আজিজের পরিবারের একজন সদস্য এবং বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজের সাবেক ভিপি ও জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সদস্য সাইফুল ইসলাম নিপুকে কমিটিতে রাখা হয়নি।

এ কমিটির যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল কুদ্দুস টিটু দীর্ঘদিন থেকে যুক্তরাষ্ট্রে বাস করছেন। তার আপন ভাই নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গি সংগঠন হিজবুত তাহরিরের সক্রিয় সদস্য। তার বিরুদ্ধে নাশকতা ও জঙ্গি আইনে অনেক মামলা বিচারাধীন। ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতা শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল কাদির আঞ্জুমানে আল ইসলাহর রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত। সাংগঠনিক সম্পাদক হুমায়ুন কবিরের পিতা মাওলানা তবারক আলী ওরফে তবই মোল্লা রাজাকার ছিলেন। তার আপন ভাই বেলাল আহমদ বিএনপি নেতা আর স্ত্রী শশুর এবং নিকটাত্মীয়দের অনেকেই জামায়াত শিবিরের রাজনীতির সাথে যুক্ত। সহ দফতর সম্পাদক জহিরুল হক রাজু সাধারণ সম্পাদক আউয়ালের নিকটাত্মীয় হওয়ায় কমিটিতে স্থান পেয়েছেন। ছাত্রলীগ বা যুবলীগের রাজনীতির কোন অভিজ্ঞতাই তার নেই। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তার বাবা আপ্তাব আলীর ভূমিকা ছিল অত্যন্ত বিতর্কিত। আবার কোষাধ্যক্ষ গৌছ উদ্দিন খান খোকা পক্ষাঘাতগ্রস্ত। তিনি হাঁটাচলা করতে পারেন না। তার পিতা আব্দুল হাদি খানও ছিলেন একজন স্বীকৃত রাজাকার।

কার্যকরি সদস্যদের মধ্যে ময়নুল ইসলাম ও ময়নুল হোসেন যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী। আমির উদ্দিন আলীওর, আছার উদ্দিন ও আব্দুল কাদির সাবে জাতীয় পার্টি নেতা। কনক কান্তি ধর স্থায়ীভাবে ইটালি প্রবাসী। নোমান আহমদের ভাই সফিক উদ্দিন একাত্তরে রাজাকার ছিলেন। কামরুল হকের পিতা আব্দুস সাত্তার ছিলেন শান্তি কমিটির সদস্য। সাগর দাস চৌধুরী বর্তমানে চট্টগ্রামের স্থায়ী অধিবাসী। আহবাব হোসেন খানের দুই ভাইয়ের একজন বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজের সাবেক সভাপতি। তারা জামায়তাতের প্রভাবশালী নেতা এবং বর্তমানে প্রবাসে থেকে সরকার বিরোধী তহবিল সংগ্রহে ব্যস্ত। রফিক উদ্দিন গত বিএনপি সরকারের আমলে দলটির বিয়ানীবাজার শাখার মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এছাড়া জয়নুল ইসলাম রফিক আ’লীগের রাজনীতিতে নবাগত এবং সাধারণ সম্পাদক আউয়ালের প্রতিবেশী। হোসেন আহমদ এনুকে কেউ কখনো আ’লীগের রাজনীতিতে দেখেন নি। কাওছার আহমদ ছাত্র শিবিরের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন।

এসব অভিযোগের সাথে বাদপড়া ত্যাগী নেতাদের তালিকাও দেয়া হয়েছে। তালিকার শুরুতেই আছে উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম আহবায়ক এবং বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজের সাবেক জিএস ফারুকুল হকের নাম, যিনি একাধিকবার জামায়াত শিবিরের হামলায় আহত হয়েছিলেন। এছাড়াও আছে বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক ভিপি সরওয়ার হোসেন। তিনিও জামায়াত শিবিরের হামলায় একাধিকবার গুরুতর আহত হয়েছিলেন।

এছাড়াও আছে বিয়ানীবাজার উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক, উপজেলা যুবলীগের সাবেক আহবায়ক ও বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজের সাবেক ভিপি নজমুল ইসলাম, আরেক সাবেক ভিপি হোসেন আহমদ, সাবেক ভিপি ও জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সদস্য সাইফুল ইসলাম নিপু, লাউতা ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান ও সাবেক সাহিত্য সম্পাদক বিযানীবাজার কলেজ ছাত্র সংসদ, বিয়ানীবাজার প্রেসক্লাবের বর্তমান সভাপতি ও বিয়ানীবাজর কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সজিব ভট্টাচার্য, বিয়ানীবাজার কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক বেলায়েত হোসেন, বিয়ানীবাজার প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মিলাদ মো. জয়নুল ইসলাম, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সদস্য ও মাথিউরা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান জমির উদ্দিন, উপজেলা যুবলীগের সাবেক সহসভাপতি ও একধিকবার জামায়াত শিবিরের হামলায় আহত অহিদুর রেজা মাসুম, বিয়ানীবাজার উপজেলা পরিষদের সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী  লীগের সাবেক মহিলা বিষয়ক সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা রুমা চক্রবর্তী, উপজেলা পরিষদের বর্তমান মহিলা ভাইস চেয়ারম্যন রুকসানা বেগম লিমা, মুড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক নজরুল ইসলামসহ মোট ৬৪ জন। তারা বিভিন্ন সময় বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজ ছাত্রলীগ, উপজেলা ছাত্রলীগ, যুবলীগ বা আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন।

বিষয়টির প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করলে সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নাসির উদ্দিন খান বলেন, পেছনে না টেনে সামনের দিকে দেখা উচিৎ। এসব কিছু মিটমাট হয়ে গেছে। যারা অভিযোগ দিয়েছেন বলে শুনেছি তারা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাথে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করছেন। সুতরাং এগুলো মিটমাট হয়ে গেছে। কোন সমস্যা নেই। তারা প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানেও উপস্থিত ছিলেন। তবে নাসির খানের এই বক্তব্য অস্বীকার করেছেন অন্যতম প্রধান দুই অভিযোগকারী হারুনোর রশীদ দীপু ও সাইফুল ইসলাম নীপু। তারা বলেন, আমরা পৃথকভাবে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি পালন করেছি, র‌্যালি করেছি। যে স্বজনপ্রীতি ও অনিয়ম তারা করেছেন, তার বিরুদ্ধে আমরা দলীয় প্রধানের হস্তক্ষেপ চেয়ে আবেদন করেছি। আমরা আমাদের অবস্থানে অটল।

দীপু আরও বলেন, এমপি এলাকায় এলে আমরা এমনিতেই দেখা করি। সেদিনও দেখা করেছি। তবে উপজেলা আওয়ামী লীগের কোন কর্মসূচিতে আমরা ছিলাম না। আমরা যে পৃথকভাবে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করেছি- এসংক্রান্ত সংবাদও বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশ হয়েছে। তার একটি লিঙ্কও দিয়েছেন তারা।

এ ব্যাপারে কথা বলতে চাইলে আরেক অভিযোগকারী, বিয়ানীবাজার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কাশেম পল্লবের মোবাইলে একাধিকবার কল দিলেও তিনি রিসিভ করেন নি।

আওয়ামী লীগ প্রধানের দফতরে অভিযোগের বিষয়টি মোটেও জানেন না বিয়ানীবাজার উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পদক দেওয়ান মকসুদুল ইসলাম আওয়াল। তিনি বলেন, কেউ অভিযোগ করতেই পারে। একাত্তর সদস্যবিশিষ্ট কমিটিতে ৭১ জনকে জায়গা দিতে গিয়ে কেউ কেউ হয়ত বাদ পড়েছেন। তারা অভিযোগ করতে পারেন। তবে কমিটিতে বিএনপি জামায়াত শিবির জাতীয় পার্টি বা রাজাকার পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতির কথা অস্বীকার করেছেন তিনি। বলেন, এসব মিথ্যা বা বানোয়াট অভিযোগ। তদন্ত করলে এসবের কোন সত্যতা পাওয়া যাবেনা। তবে তার আগে দেখার বিষয়, যারা অভিযোগ করেছেন তারা আমাদের দলের জন্য কতটা ত্যাগী বা নিবেদিত প্রাণ। বিষয়টি বুঝতে হবে।