jagannathpurpotrika-latest news

আজ, ,

সর্বশেষ সংবাদ
«» তিন বিষয়ে এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়া হবে «» ফুফাত বোনকে ধর্ষণের চেষ্টা অভিযোগে মামাত ভাই কারাগারে «» ছাতকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ৪ হাজার ৬শ টাকা জরিমানা «» জগন্নাথপুরে মেম্বার পদপ্রার্থী খোরশেদ আলীর ঈদ শুভেচ্ছা «» জগন্নাথপুরে জিয়া লাইটিং এন্ড পুষ্প কেন্দ্র’র পক্ষথেকে ঈদ শুভেচ্ছা «» জগন্নাথপুরে বিশিষ্ট সমাজসেব, শিক্ষানুরাগী সৈয়দ তালহা আলমের ঈদ শুভেচ্ছা «» মাদরাসা খোলার অনুমতি চায় হেফাজত «» ছাতকে ১৯টি মামলার পলাতক আসামী ডাকাত সর্দার গ্রেফতার «» দিরাইয়ে বেতনের টাকা কেটে নিয়ে তোপের মুখে ফেরত দিল অফিস সহকারী «» ওসমানীনগরে জোরপূর্বক ধর্ষণের অভিযোগে বিশ্বনাথের ধর্ষক গ্রেফতার



সিলেটে শফি চৌধুরীর মন্তব্য ‘তোলপাড়’

জেএসবি টুয়েন্টিফোর :: স্বতন্ত্র প্রার্থী হলেন। বিএনপিও করলো বহিষ্কার। এরপরও দমে নেই শফি চৌধুরী। নির্বাচন করবেনই- এমন ঘোষণা তার। দল থেকে বহিষ্কারের পর এখন ‘নিরপেক্ষ’ মানুষ তিনি। ভার্চ্যুয়াল যুগে ভোটকেন্দ্রিক একের পর এক মন্তব্য করছেন তিনি। এসব মন্তব্য মাঝে-মধ্যে হচ্ছে ব্যক্তিকেন্দ্রিকও। ফলে পাল্টা জবাবও পাচ্ছেন তিনি। সব মিলিয়ে সিলেটে ভোটের আগে ভোটের মাঠকে সরব করে তুলেছেন শফি আহমদ চৌধুরী। এসব নিয়ে হচ্ছে তোলপাড়ও। সিলেট-৩ আসনের উপনির্বাচন। এ নির্বাচনে প্রার্থী হতে আলোচনায় ছিলেন বিএনপি নেতা শফি চৌধুরী। চিকিৎসার জন্য গিয়েছিলেন আমেরিকায়। সেখান থেকে ১৪ই জুন ফিরে আসেন সিলেটে। এসেই ১৫ই জুন স্বতন্ত্র হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। বিদেশ থেকে ফিরেই গণমাধ্যমের এক প্রশ্নের জবাবে জানিয়েছিলেন- হাবিবকে (আওয়ামী লীগ প্রার্থী) তিনি চিনেন না। কখনো দেখেন নি। প্রয়াত এমপি মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরীর স্ত্রী ফারজানা চৌধুরীকে মনোনয়ন না দেয়ায় তাদের আহ্বানে তিনি এসে নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন।’ তার এই বক্তব্যে পাল্টাও দিয়েছিলেন হাবিবুর রহমান হাবিব। দল থেকে বহিষ্কারের পর বিএনপি নিয়ে জানিয়েছেন প্রতিক্রিয়া। তিনি জানান- ‘আমাকে শোকজ করা হয়েছিল। আমি তিন পাতার একটি চিঠিতে জবাব দিয়েছিলাম। সেখানে আমি নির্বাচন করার কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত বলেছি। বলেছিলাম- এলাকার মানুষের চাওয়া, জনতার চাপে পড়ে আমি ভোটে দাঁড়িয়েছি। বিএনপি ভোটের দল। ভোটে না যেতে যেতে মাঠপর্যায়ে খুবই করুণ অবস্থায় আছে দলটি। ইলেকশনে না গিয়ে বিএনপির অবস্থা দিন দিন মুসলিম লীগের মতো হয়ে যাচ্ছে।’

 

 

তিনি জানান- ‘আমি মাটি ও মানুষের রাজনীতি করি। এই রাজনীতি থেকে কেউ বিচ্ছিন্ন করতে পারবে না। বিএনপির স্থানীয় কিছু নেতা বিভিন্ন সময় আর্থিকভাবে ফায়দা নেন, তারাই কেবল সক্রিয়। তবে আমার পক্ষে জনসাধারণ সক্রিয়। জীবনের শেষ এই নির্বাচনে নিশ্চিত বিজয়ী হবো।’ তার এই বক্তব্যে ক্ষুব্ধ বিএনপি নেতারা। শফি চৌধুরীকে নিয়ে সিলেট বিএনপি অস্বস্তিতে রয়েছে বলেও জানান।

সিলেট জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আব্দুল আহাদ খান জামাল তার ফেসবুক আইডিতে শফি চৌধুরীর বক্তব্যের জবাব দিয়েছেন। এক সময় শফি চৌধুরীর ঘনিষ্ঠজন ছিলেন বিএনপির ওই নেতা। খান জামাল জানিয়েছেন- ‘তিনি (শফি চৌধুরী) ক্ষিপ্ত আমার উপর সেটি হচ্ছে বিগত প্রহসনের জাতীয় নির্বাচনের পর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে সিলেটের সবক’টি আসনের প্রার্থী ও সিনিয়র নেতৃবৃন্দকে নিয়ে পর্যালোচনা সভার আয়োজন করা হয়। সেখানে জানতে চাওয়া হয়- নির্বাচনের পর নিহত, আহত ও মামলা হামলায় জর্জরিত নেতাকর্মীদের খোঁজখবর ও দেখভাল করছেন কিনা সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রার্থীরা। আমি আমার বক্তব্যে সেদিন নিজের নির্বাচনী এলাকার প্রার্থী শফি চৌধুরীর নির্বাচনের পরদিন এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়া, মামলা হামলায় জর্জরিত ও কারাবন্দি নেতাকর্মীদের খোঁজখবর না নেয়া এবং নির্বাচনের দিন পুলিশের গুলিতে নিহত বালাগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক শহীদ সায়েম সোহেলের পরিবারের পাশে না দাঁড়ানোর অভিযোগ করলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন এবং তার বক্তব্যের সময় তিনি সবকিছু দেখভাল করছেন বলে মিথ্যাচার করলে আমি তার প্রতিবাদ করি। এ সময় তার সঙ্গে আমার উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হলে একপর্যায়ে তিনি আমার উপর ক্ষিপ্ত হয়ে সভাস্থল ত্যাগ করেন। যার প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনসহ নেতৃবৃন্দ।’ শফি আহমদ চৌধুরী ৮৬ সালের জাতীয় নির্বাচনের উদাহরণ টেনে এনে তখনকার ১৫ দলের প্রার্থী পীর হাবিবুর রহমান সম্পর্কে মন্তব্য করেছেন।

ওই মন্তব্যে শফি চৌধুরী জানিয়েছেন- নির্বাচনে ১৫ দলের মনোনীত প্রার্থী ছিলেন পীর হাবিবুর রহমান। তিনি ন্যাপের লোক ছিলেন। আর আমি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সেই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করি। ওই নির্বাচনে আমি বিজয়ী হয়েছিলাম, কিন্তু আমাকে পরাজিত দেখানো হয়েছিল। রাত দেড়টা-দুইটা পর্যন্ত আমি ৩০-৪০ হাজার ভোটের ব্যবধানে এগিয়ে ছিলাম।’ তার এই মন্তব্যেরও প্রতিবাদ জানিয়েছেন প্রয়াত পীর হাবিবুর রহমানের সন্তানরা। পীর হাবিবুর রহমানের ছেলে যুক্তরাজ্য প্রবাসী ওলিউর রহমান ওলি, হাবিবুর রহমানের মেয়ে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী রুকসানা হাবিব রুমি, নাতি (লন্ডন প্রবাসী) সৈয়দ ইসমাইল হোসেন লিটন ও নাতি সৈয়দ বেলায়েত আলী লিমন জানিয়েছেন- ‘সাবেক সাংসদ শফি আহমদ চৌধুরীর প্রতি সম্মান রেখে বলছি- ভুল তথ্য উপস্থাপন করে জনগণকে বিভ্রান্ত করবেন না। একজন বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদের কাছ থেকে এমন মিথ্যা ও বেফাঁস মন্তব্য কাম্য নয়। এমন বক্তব্য সত্যিই দুঃখজনক। ১৯৮৬ সালে যিনি (পীর হাবিবুর রহমান) নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি এ দেশের সর্বজন শ্রদ্ধেয় নেতা ও উপমহাদেশের প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ। যার যার ভিন্ন দল ভিন্ন মত থাকতে পারে। কিন্তু সর্বজন শ্রদ্ধেয় পীর হাবিবুর রহমানকে নিয়ে এমন বেফাঁস আর মিথ্যাচারমূলক বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে আমরা শফি আহমদ চৌধুরীর প্রতি বক্তব্যটি প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছি।’