jagannathpurpotrika-latest news

আজ, ,

সর্বশেষ সংবাদ



শ্রীমঙ্গলে প্রবাসীকে হয়রানীর অভিযোগ: ইউপি চেয়ারম্যান সুফি মিয়ার প্রত্যাখ্যান

নিজস্ব প্রতিবেদক :: মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার ১নং মির্জাপুর ইউপি চেয়ারম্যন সুফি মিয়া বলেছেন, লন্ডন প্রবাসী মামাত ভাই শেখ মোহাম্মদ আবদুল নূর ৫ মে শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন ডেকে আমার বিরুদ্ধে যে সকল অভিযোগ করেছেন তা মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। আব্দুল নূর সেখানে নিজের বেআইনি কর্মকান্ড, অন্যের সম্পদ দখলসহ সন্ত্রাসী কর্মকান্ড ঢাকতে সাংবাদিকদের বিভ্রান্ত করতে আমার বিরুদ্ধে বানোয়াট তথ্য সরবরাহ করেছেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে ১নং মির্জাপুর ইউপি চেয়ারম্যান মো. সুফি মিয়া তার ব্যক্তিগত কার্যালয়ে সাংবাদিকদের কাছে এসব কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে মিথ্যা তথ্য উপস্থাপনের প্রতিবাদ জানিয়ে সুফি মিয়া বলেন, ‘ আমার কোন বাহিনী নেই, এলাকার ১৮ হাজার মানুষ ভালবেসে ভোট দিয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত করেছেন’।

 

তিনি বলেন, ‘৪ বছর আগে একটি ভুয়া আম মোক্তারনামা বানিয়ে অন্যের সম্পত্তি আত্মসাৎ করতে আবদুল নুর আমাকে ব্যবহার করতে চেয়েছিলেন। আমি গরীবের হক কেড়ে নিতে রাজি না হয়নি। এরপর থেকে তার সাথে আমার সম্পর্ক নেই। এলাকার মুরুব্বি, প্রবীন নবীন সকল মানুষ অবগত রয়েছেন, তার পিতার সম্পত্তি বন্টন বা কেনা বেচায় আমার কোন সম্পর্ক নেই। তাছাড়া তার পিতার সম্পত্তি বিক্রি বা বন্টনে আমার বাধা দেয়ার আইনগত অধিকার থাকার কথা নয়। আব্দুল নূর সম্প্রতি এই সম্পত্তির অংয় থেকে ৩০ কেয়ার জায়গা বন্দক দিয়ে অর্থ গ্রহন করেছে। লাখ লাখ টাকার গাছ বিক্রি করে আত্মসাৎ করেছে। আমি বাধা দিলে এসব করলেন কি ভাবে?’ সুফি মিয়া বলেন, পিতার সম্পত্তি একাই আত্মসাৎ করার উদ্দেশ্য আব্দুল নুর নানা ফন্দিফিকির করছে। এজন্য সে সম্পত্তির অংশিদারদের বাদ দিয়ে একটি উত্তরাধিকার সনদের জন্য ইউনিয়ন অফিসে আবেদন করেন। উত্তরাধিকার সনদ পেতে সরকারি বাধ্য বাধকতা রয়েছে। একজন ইউপি সদস্য আবেদন যাচাই করে সীল স্বাক্ষর দেয়ার পর পরবর্তী দু দিন অধিকতর যাচাই করে অংশীদারদের তালিকা সঠিক হলে তবেই সনদ ইস্যু করার নিয়ম। পরবর্তীতে অংশীদারদের তালিকা সঠিক রেখে সনদ দেয়া হয়েছে’। নির্বাচনে চাঁদা দাবীর বিষয় উল্লেখ করে চেয়ারম্যান সুফি মিয়া বলেন, ‘জীবনে ৫ বার নির্বাচন করেছি। একবার সদস্য ও এবার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছি। সব দল মত নির্বিশেষে মানুষ ভোট দিয়েছেন। আবদুল নুরের থেকে আমার বাপ দাদার সম্পদ কম নয়। ৪ বছর থেকে যার সাথে মুখ দেখা বন্ধ, মা মারা যাবার পর যে লোকটি বোনকে দেখতে পর্যন্ত বাড়িতে আসেনি তার কাছে চাঁদা চাইতে যাব কোন যুক্তিতে’।

 

মন্দির ভাঙ্গার অভিযোগ খন্ডন করে চেয়ারম্যান সুফি মিয়া বলেন, ‘১৯৭৪ সালে বাপ-দাদার কেনা জমিতে ফিসারী করার সময় আমার বিরুদ্ধে এই মিথ্যা অভিযোগ করা হয়েছিল। পরে শ্রীমঙ্গলের হিন্দু সম্প্রদায়ের শীর্ষ ব্যাক্তিবর্গ সরেজমিন পরিদর্শন করেন। এলাকার স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রবীন লোকজন স্বাক্ষী দিয়ে বলেছেন এখানে কখনো মন্দির ছিল না। অভিযোগটি মিথ্যা প্রমানিত হয়েছে। অথচ আবদুল নুর আমার সম্মানহানি করতে এই মীমাংসিত ইস্যু সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপন করে হীন স্বার্থ চরিতার্থ করার অপচেষ্টা করেছেন’।

আব্দুল নূর পাচাউন বাজারে একটি মার্কেট দখলে রাখার যে অভিযোগ করেছেন চেয়ারম্যান সুফি মিয়া এবিষয়ে মার্কেটের কেয়ার টেকার– কে সাংবাদিকদের সামনে হাজির করেন।
এসময় কেয়ার টেকার বলেন, ‘চেয়ারম্যান দীর্ঘদিন যাবত মার্কেটের এক অংশ ভারা নিয়ে রেখেছেন আরেক অংশ ভিন্ন ব্যাবসায়ীদের কাছ ভাড়া দেয়া আছে। এই মার্কেটের ভাড়ার সব টাকা আব্দুল নূর নিয়ে থাকেন’। মার্কেটটি চেয়ারম্যান সুফি মিয়ার দখলে এমন অভিযোগ প্রত্যাক্ষান করেন তিনি।
এদিকে আবদুল নুরের পিতার সম্পত্তির অংশিদার তার সৎ মা, বোন এবং অন্যরা সাংবাদিকদের সামনে উপস্থিত হন। এসময় তারা তাদের সম্পত্তি বিষয়ে চেয়ারম্যান সুফি মিয়ার কোন হস্তক্ষেপ এর বিষয়ে কোনদিন কিছু শুনেননি বলে সাংবাদিকদের জানান।