jagannathpurpotrika-latest news

আজ, ,

সর্বশেষ সংবাদ



হরতালে সংঘর্ষের ঘটনায় দুই মামলায় আসামি ২৮০০, সংঘর্ষে আহত ৩৩

ডেস্ক রিপোর্ট :: কেন্দ্র ঘোষিত বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনকে ঘিরে বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে। কিশোরগঞ্জে মঙ্গলবার বেলা ১২টা থেকে দেড়টা পর্যন্ত এই সংঘর্ষের সময় শহরের পুরান থানা মোড় ও একরামপুর মোড়সহ আশেপাশের এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদল নেতাকর্মীদের পাথর ও ইটপাটকেলের জবাবে পুলিশ রাবার বুলেট ও টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে। এতে এক পরিদর্শকসহ পুলিশের ৩ সদস্য এবং বিএনপির ৩০ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। অন্যদিকে রোববার হেফাজতে ইসলামের ডাকা হরতালকে ঘিরে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, পুলিশকে আহত করা, ভাঙচুর, ত্রাস সৃষ্টিসহ বিভিন্ন অভিযোগে সন্ত্রাস দমন আইনে সোমবার কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানায় দুইটি মামলা দায়ের করেছে। এর মধ্যে শহরের পুরান থানা এলাকায় সংঘর্ষের ঘটনায় সদর মডেল থানার পরিদর্শক (ইন্টিলিজেন্স অ্যান্ড কমিউনিটি পুলিশিং) জয়নাল আবেদীন বাদী হয়ে দায়ের করা মামলায় হেফাজত নেতা মাওলানা শেরজাহান মোমেনীকে প্রধান আসামি ও জেলা বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আশফাকসহ হেফাজত ও বিএনপি-ছাত্রদল-যুবদলের মোট ৩৭ জনের নামোল্লেখ ও অজ্ঞাত ২৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া শহীদী মসজিদ-গৌরাঙ্গবাজার এলাকায় সংঘর্ষের ঘটনায় ১ নং পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক সোহরাব মিয়া বাদী হয়ে দায়ের করা মামলায় হেফাজত নেতা মাও. শেরজাহান মোমেনী ও জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মো. মারুফ মিয়াসহ হেফাজত ও বিএনপি-ছাত্রদল-যুবদলের মোট ১৭ জনের নামোল্লেখ ও অজ্ঞাত ২৫০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ঘটনার দিন আটক ৭ জনের মধ্যে চারজনকে পুরান থানা এলাকার মামলায় এবং তিনজনকে শহীদী মসজিদ-গৌরাঙ্গবাজার এলাকার মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে চালান দেয়া হয়েছে।

হরতালের দিন দুপুর ১২টা থেকে বিকাল পর্যন্ত হরতাল সমর্থকদের সঙ্গে পুলিশ ও আওয়ামী লীগ-যুবলীগ-ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। এর মধ্যে দুপুরে জেলা আওয়ামী লীগ অফিসে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করে হেফাজত নেতাকর্মীরা। এ সময় বঙ্গবন্ধু, প্রধানমন্ত্রী ও জাতীয় চার নেতার ছবিতে আগুন ধরিয়ে দেয় হামলাকারীরা। এর জের ধরে সন্ধ্যায় বিএনপি’র জেলা ও সদর উপজেলা দুটি কার্যালয়েই হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করা হয়। সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে শহরের স্টেশন রোডে অবস্থিত কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা বিএনপি’র অস্থায়ী কার্যালয়ের তালা ভেঙে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। একই সময়ে শহরের রথখলা তমালতলা এলাকায় অবস্থিত জেলা বিএনপি’র অস্থায়ী কার্যালয়ের তালা ভেঙে সেখানেও ভাঙচুর করা হয়। এ সময় বিএনপি অফিসের আসবাবপত্র বাইরে এনে অগ্নিসংযোগ করা হয়। ফলে এ নিয়ে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি দুই দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা চলে আসছিল। এ পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় বিএনপি’র পূর্ব ঘোষিত বিক্ষোভ কর্মসূচি ছাড়াও রোববার বিএনপি’র জেলা ও সদর উপজেলা শাখার দুটি কার্যালয় পুড়িয়ে দেয়ার প্রতিবাদে মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় জেলা শহরের রথখলা ময়দান থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করার কর্মসূচি ছিল। কর্মসূচির অংশ হিসেবে শহরের বয়লা এলাকা থেকে জেলা বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক হাজী মো. ইসরাইল মিয়ার নেতৃত্বে একটি মিছিল ও শোলাকিয়া এলাকা থেকে জেলা বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক ও পৌর বিএনপি’র আহ্বায়ক আমিনুল ইসলাম আশফাকের নেতৃত্বে আরেকটি মিছিল পুরান থানা এলাকায় পৌঁছার পর আগে থেকে অবস্থান নেয়া বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও র‌্যাব মিছিলে বাধা দিলে সংঘর্ষ শুরু হয়। প্রায় দেড় ঘণ্টা সময় ধরে দু’পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ চলে। এ সময় শোলাকিয়া-পুরান থানা এবং একরামপুর-পুরান থানা সড়কে অবস্থান নিয়ে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা পুলিশের উপর পাথর ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে এবং রাস্তায় আগুন জ্বালিয়ে ব্যারিকেড সৃষ্টি করে। দফায় দফায় পুলিশ গুলি ও টিয়ারশেল ছুড়ে বেলা দেড়টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলেও এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছিল।

 

কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি মো. আবুবকর সিদ্দিক পিপিএম জানান, করোনা পরিস্থিতিতে সমাবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকলেও সরকারের নির্দেশনা উপেক্ষা করে পুলিশের অনুমতি ছাড়া হাজারখানেক বিএনপি নেতাকর্মী লাঠিসোটা নিয়ে মিছিল বের করে। বাধা দিলে তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ৪৮০ রাউন্ড গুলি ও ৩০ রাউন্ড টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। সংঘর্ষে পরিদর্শক (ইন্টিলিজেন্স অ্যান্ড কমিউনিটি পুলিশিং) জয়নাল আবেদীনসহ পুলিশের তিনজন সদস্য আহত হন। এ ঘটনায় পুলিশ দুইজনকে আটক করেছে।

 

অপরদিকে জেলা বিএনপি’র সভাপতি মো. শরীফুল আলম জানান, পুলিশের গুলি ও লাঠিচার্জে বিএনপি ও বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের ৩০ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মারুফ মিয়া ও সহ-সভাপতি সায়েদ সুমন, জেলা যুবদলের সহ-সভাপতি ফয়সাল হোসেন ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম রুবেল, পৌর যুবদলের আহ্বায়ক আলমগীর হোসেন এবং যুগ্ম আহ্বায়ক এমদাদ হোসেন।

 

এদিকে টান টান উত্তেজনার মধ্যে রথখলা ময়দানে জেলা বিএনপি’র প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। জেলা বিএনপি’র সভাপতি মো. শরীফুল আলমের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপি’র সহ-সভাপতি রুহুল হোসাইন ও এডভোকেট শরীফুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম ও সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল। জেলা বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমুল আলম সমাবেশ পরিচালনা করেন। সুত্র: মানবজমিন