jagannathpurpotrika-latest news

আজ, ,

সর্বশেষ সংবাদ



যুবলীগের সংবাদ সম্মেলনে স্বাধীন মেম্বার যুবলীগের কেউ নন

জেএসবি টুয়েন্টিফোর :: সুনামগঞ্জের শাল্লায় হিন্দু গ্রামে হামলার ঘটনায় করা একটি মামলার প্রধান আসামি শহীদুল ইসলাম স্বাধীন যুবলীগের কেউ নয় বলে জানিয়েছে ক্ষমতাসীন দলের সহযোগী সংগঠনের জেলা শাখা।
স্বাধীন দিরাই উপজেলা সরমঙ্গল ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য। তিনি ওই ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ এসেছে। শনিবার প্রথম প্রহরে মৌলভীবাজার থেকে স্বাধীনকে আটক করে পুলিশের তদন্ত সংস্থা পিবিআই। দুপুরে যুবলীগ সুনামগঞ্জ জেলা শাখা কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে আসেন সংগঠনের নেতারা। লিখিত বক্তব্যে জেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক খন্দকার মঞ্জুর বলেন, ‘শহীদুল ইসলাম স্বাধীন নামে জনৈক ব্যক্তিকে ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি হিসেবে কিছু কিছু প্রিন্ট, ইলেক্ট্রনিক মিডিয়াসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উপস্থাপন করা হয়, যা আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে ওই ব্যক্তি যুবলীগের কোনো সাংগঠনিক ইউনিটের সঙ্গে জড়িত না। আমরা এই ধরনের সংবাদ পরিবেশনের জন্য তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ২০০৭ সালের পর থেকে দিরাই ও শাল্লা উপজেলায় যুবলীগের কোনো পূর্ণাঙ্গ সাংগঠনিক কমিটি নেই। ওই বছর রঞ্জন রায়কে সভাপতি ঘোষণা করে কমিটির বাকি সদস্যদের নাম পরে জানানোর কথা বলা হয়। কিন্তু ১৪ বছরেও সেই কমিটির অন্য কারও নাম জানানো হয়নি। তবে রঞ্জন রায়ের সঙ্গে স্বাধীনের ঘনিষ্ঠতার তথ্য জানাচ্ছেন যুবলীগের সঙ্গে সম্পৃক্তরাই।
সুনামগঞ্জ যুবলীগ থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তি
‘মনগড়া’ সংবাদ পরিবেশন না করার জন্য সাংবাদিকদের প্রতি অনুরোধও জানানো হয় সংবাদ সম্মেলনে।
এই হামলায় দায়ী ব্যক্তিদের খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়ারও আহ্বান জানায় যুবলীগ। স্বাধীনের ব্যক্তিগত নৌকায় ‘৯নং ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি’ লেখার কারণ জানতে চাইলে যুবলীগ নেতা খন্দকার মঞ্জুর বলেন, ‘সংগঠনের নাম ব্যবহার করে অনেক সময় অনেক মানুষ বিভিন্ন সুযোগসুবিধা নিয়ে নেয়। আমরা তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেব।’ গত বুধবার দিরাই উপজেলা থেকে একদল লোক এসে শাল্লার নোয়াগাঁওয়ে ৮০টিরও বেশি হিন্দুবাড়িতে হামলা ও লুটপাট করে। গত সোমবার শাল্লার পাশের উপজেলা দিরাইয়ে ইসলামি জলসা করেন হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হক। তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঢাকা সফরের সমালোচনা করে তা ঠেকানোর ঘোষণা দেন। এর প্রতিক্রিয়ায় শাল্লার ওই হিন্দু গ্রামের এক বাসিন্দা মামুনুলকে সাম্প্রদায়িক উল্লেখ করে তার বক্তব্যের সমালোচনা করেন।
এ নিয়ে উত্তেজনা তৈরি হলে স্ট্যাটাসদাতাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে বুধবার সকালে দিরাইয়ের দুটি মসজিদে মাইকিং করে হেফাজত সমর্থকদের জড়ো করা হয়। সংগঠনের স্থানীয় নেতারা পুলিশ ও প্রশাসনকে আশ্বাস দেন যে, তারা মিছিল করে চলে আসবেন। তবে মিছিলকারীরা নোয়াগাঁও এসে অতর্কিত হামলা শুরু করে। এই ঘটনায় স্থানীয় এক ইউপি চেয়ারম্যান যে মামলা করেছেন, তাতে প্রধান আসামি করা হয়েছে স্বাধীন মেম্বারকে। তিনি ঘটনার সময় পালিয়ে গেলেও শুক্রবার রাতে নিউজবাংলাকে ফোন করে আত্মসমর্পণের আগ্রহের কথা বলেন। পরে পিবিআই তাকে রাতেই ধরে নিয়ে আসে। উপজেলা সভাপতি রঞ্জন রায়ের ঘনিষ্ঠ স্বাধীন শুক্রবার শাল্লার নোয়াগাঁও পরিদর্শনে যান দিরাই আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতা-কর্মীরা।
এ সময় জুয়েল মিয়া নিজেকে দিরাই পৌর যুবলীগের সভাপতি পরিচয় দিয়ে বলেন, তারা স্বাধীনকে কোনো দিন যুবলীগের কোনো দায়িত্বে বা অনুষ্ঠানে দেখেননি।
তিনি জানান, ২০১৯ সালে দিরাই উপজেলা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে না মেনে চেয়ারম্যান পদে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে লড়েন উপজেলা যুবলীগের সভাপতি রঞ্জন রায়। সে সময় স্বাধীন তার পক্ষে কাজ করেছেন।।গত বৃহস্পতিবার স্বাধীনের বাড়িতে গিয়ে রঞ্জন রায় ও দিরাই পৌরসভার সাবেক মেয়র মোশারফ মিয়া সান্ত্বনা দিয়ে এসেছেন অভিযোগ করে জুয়েল মিয়া বলেন, ‘তারা কিসের ভিত্তিতে স্বাধীনের বাড়িতে গিয়ে সান্ত্বনা দেন?’।স্বাধীনের সঙ্গে পরিচয়ের কথা স্বীকার করলেও তিনি ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি নন বলে নিউজবাংলাকে জানান রঞ্জন রায়।
তিনি বলেন, ‘স্বাধীনের সঙ্গে আমার পরিচয় ২০ বছর ধরে। আমি আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হলেও সে কর্মীদের মতো আমার জন্য কাজ করেছে, ভোট প্রার্থনা করেছে। তবে সে যুবলীগের কেউ নয়।’ তিনি স্বাধীনের বাড়িতে যাননি দাবি করে রঞ্জন বলেন, ‘দলের কিছু লোক আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।’