jagannathpurpotrika-latest news

আজ, ,

সর্বশেষ সংবাদ
«» ওসমানীনগরে নিজ মান্দারুকার মাঠে শেখ রাসেল ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলায় কিং গ্রুপের শুভেচ্ছা «» ছাতকে মেয়র প্রার্থী রাশিদা আহমদ ন্যান্সি’র সমর্থনে নির্বাচনী সভা ও মিছিল «» বিয়ে ছাড়া একসঙ্গে ৪ মাস, অতঃপর প্রেমিকের পলায়ন «» ছাতক উপজেলা ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দকে অভিনন্দন «» বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ৪৫ সদস্য বিশিষ্ট কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা «» দোয়ারাবাজার পান্ডারগাঁও ইউ/পিতে এফবিএস ফোরাম’র নতুন কমিটি ঘোষণা «» জুড়ীতে অসহায়দের মধ্যে শীতবস্ত্র বিতরণ «» ছাতকে বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী রাশিদা আহমদ ন্যান্সির নির্বাচনী পথসভা «» দুর্নীতির মহামারী থেকে দেশকে রক্ষার জন্য নৈতিক মূল্যবোধ সম্পন্ন নেতৃত্ব তৈরি করতে হবে- ছাত্র মজলিস «» মৌলভীবাজারে নৌকা ডুবিয়ে বিজয়ী ‘বিদ্রোহী’ ফের বহিষ্কার



বাংলাদেশে ছাত্র ইসলামী আন্দোলন ও ইসলামী ছাত্র মজলিস : মুখলিছুর রহমান

স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশে জাতীয় পর্যায়ে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র শিবির, ইসলামী ছাত্র সমাজ, ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন, ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশ, ইসলামী ছাত্র সেনা, ইসলামী ছাত্র খেলাফত, ইসলামী ছাত্র মোর্চা, যাত্রার কিছু দিনের মধ্যেই বিলুপ্ত হওয়া ছাত্র তানজীম ও বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র খেলাফত মজলিস প্রবৃত্তি সংগঠন আত্মপ্রকাশ করে। তন্মধ্যে হাতে গোনা কয়েকটি সংগঠনের দেশব্যাপী কার্যক্রম রয়েছে। অবশিষ্ট সংগঠনগুলো নামসর্বস্ব আছে। এছাড়া আঞ্চলিক কিছু ইসলামী ছাত্র সংগঠনও রয়েছে, যেমন আঞ্জুমানে তালামীযে ইসলামিয়া। যা বৃহত্তর সিলেট ভিত্তিক বেশ সক্রিয়। মুসলিম ছাত্র পরিষদ নামে সিলেট ভিত্তিক আরেকটি ইসলামী ছাত্র সংগঠন নব্বই দশকে সক্রিয় ছিল। বর্তমানে বিলুপ্ত।

 

১৯৯০ সালে দেশ যখন স্বৈর শাসনের যাঁতাকলে পিষ্ট, ক্যাম্পাস গুলো একেকটি মিনি ক্যান্টনমেন্টে রুপান্তরিত হয়েছিল। ছাত্র সংগঠনের ক্যাডারদের রাজপথে চায়নিজ কুড়াল আর হকিস্টিক নিয়ে মহড়া চলছিল; ঠিক তেমনি একটি সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্র নেতা মুহাম্মদ শফিক উদ্দিন, আবদুল কাদির সালেহ, শওকত আলী ও জামাল উদ্দিন তালুকদারের মতো নৈতিকতার বলে বলিয়ান কতিপয় ছাত্র নেতা জানুয়ারির ৫ তারিখ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে মিলিত হলেন একটি নবতর ও সমন্বয়ধর্মী ছাত্র ইসলামী আন্দোলনের যাত্রা ঘোষণার জন্যে। সাহস করে তাঁরা সেদিন ছাত্র সমাজের প্রতি ঘোষণা দিলেন ‘জ্ঞান অর্জন, চরিত্র গঠন ও সমাজ বিপ্লবের জেহাদে শরীক হোন।’ ভোরের সুর্যালোকের সাথে তাদের সেই যোগোপোযোগী আহ্বান বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র মজলিস নাম ধারণ করে ছড়িয়ে পড়ে ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইল ব্যাপী। টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া, রুপসা থেকে পাথারিয়া সর্বত্রই তাদের সেই আহ্বান পৌঁছে দিতে ঝাঁপিয়ে পড়েন জিন্দাদিল মর্দে মুজাহিদরা। ছাত্র ইসলামী আন্দোলনের ইতিহাসে তারা ত্যাগ ও কুরবানির এক অনুপম উপমা তৈরী করেন। বিশ্ববিদ্যালয়, আলিয়া ও কওমী মাদরাসা, স্কুল-কলেজ সর্বত্রই অনুরণিত হতে থাকে এই নবতর শ্লোগান। ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে কোরাস কন্ঠে উচ্চারিত হতে থাকে: ‘আমরা নিরব হবোনা; নি:স্তব্ধ হবোনা
যত দিনে কুরআনকে সংবিধান পাবোনা। রাজপথে মজলিস+ধ্বংস হবে ইবলিস। ছাত্র মজলিসের অপর নাম+আদর্শের সংগ্রাম। অস্ত্র ছাড়ো কলম ধরো+সন্ত্রাসমূক্ত ক্যাম্পাস গড়ো।’ এসব শ্লোগান সাধারণ ছাত্রদের দৃষ্টি কাড়ে। ফলে মেধাবী ও শান্তি কামী ছাত্র জনতা আপন ঠিকানা খোঁজে নেয় ছাত্র মজলিসে। ছাত্র মজলিসের প্রশিক্ষণ পদ্ধতি, জনশক্তির স্থর বিন্যাস, চরিত্র গঠনে ব্যক্তিগত রিপোর্ট সংরক্ষণ ও দায়িত্বশীলদের তদারকী, নামাজ সহ নৈমিত্তিক আমল, কুরআন-হাদীস ও ইসলামী সাহিত্য অধ্যয়নের পাশাপাশি একাডেমিক পড়া-লেখায় জনশক্তির মনযোগ অনেক অভিভাবককে আশান্বিত করে তোলে। তারা আদরের সন্তানদেরকে ছাত্র মজলিসের দায়ীত্বশীলদের হাতে তুলে দিতে থাকেন। ফলে ত্রিশ বছরের ব্যবধানে ছাত্র মজলিস জাতিকে উপহার দিতে সক্ষম হয়:
১। একদল নিবেদিতপ্রাণ আদর্শ দেশপ্রেমিক সুনাগরিক।
২। সরকারের বিভিন্ন বাহিনী,প্রশাসন ও সেবা প্রতিষ্ঠানে অসংখ্য চরিত্রবান, ন্যায়পরায়ণ এবং নীতিবান কর্মকর্তা-কর্মচারী।
৩। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সমূহে অগণিত দায়িত্ববান আদর্শ শিক্ষক।

লোভ-মোহ-হিংসা, সংকীর্নতা ও পরশ্রীকাতরতা মূক্ত একদল সমাজসচেতন বিগদ্ধ আলেমে রব্বানী।
৫। অসংখ্য সৎ ব্যবসায়ী ও ব্যবসা উদ্যোক্তা এবং প্রবাসী রেমিটেন্স যোদ্ধা।
৬। বিভিন্ন ইসলামী দল, সংগঠন-সংস্থা ও প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় যোগ্য এবং দক্ষ নেতৃত্ব।
৭। রাষ্ট, সমাজ ও স্থানীয় সরকারে নেতৃত্ব দেয়ার যোগ্য অসংখ্য নেতা-কর্মী।
৮। নিজস্ব ছাত্র সোর্স থেকেই বেরিয়ে আসা নেতা-কর্মী পরিচালিত সমন্বিত কাফেলা খেলাফত মজলিস, ডক্টরস সোসাইটি, আইনজীবী মজলিস, মহিলা মজলিস, শ্রমিক মজলিস।
৯। ইসলামী ঐক্যের সকল প্রয়াসে নিবেদিত প্রাণ একদল চৌকস ও জানবাজ কর্মী।
১০। ছাত্র মজলিসের প্রাক্তন নেতা-কর্মী দ্বারা পরিচালিত সারা দেশের অসংখ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন- সংস্থা, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান, মিডিয়া, সাহিত্য-সাংস্কৃতিক সংগঠন, সেবামূলক সোসাইটি ও উন্নয়ন সংস্থা।
تلك عشرة كافية.
ছাত্র মজলিসের এসব অবদানের ওপর প্রামাণ্য গবেষণা প্রয়োজন।এই সল্প পরিষরে যা তুলে ধরা সম্ভব নয়।

 

এছাড়া সমাজ বিপ্লবের লক্ষে নিরন্তর সংগ্রাম এবং দেশ, জাতি ও উম্মাহর সার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছাত্র মজলিস আজো ক্লান্ত-শ্রান্ত নয়; লক্ষ্য পানে চলছে অবিরাম।
৩১ তম প্রতিষ্ঠা দিবসে বর্তমান নেতৃত্বকে জানাই মোবারকবাদ। দেশবাসীকে জানাই বিপ্লবী অভিবাদন। মরহুম আখম হায়দার আলী ও শেখ গোলাম আসগর ভাই সহ একাফেলার পতাকা উড্ডীন রেখে যারা পরকালের যাত্রী হয়ে গেছেন, সকলের তরে ছাত্র মজলিস সদকায়ে জারিয়া হিসেবে সমহিমায় সমুজ্জল থাকুক অনাদিকাল। আমীন।
লেখক: সাবেক সভাপতি, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র মজলিস, চট্টগ্রাম মহানগর। বর্তমানে শিক্ষক, সংগঠক ও ব্যবসা উদ্যোক্তা।