jagannathpurpotrika-latest news

আজ, ,

সর্বশেষ সংবাদ
«» ছাতকে চাঁদাবাজ ইদন মিয়া গ্রেফতার «» ছাতকের আলীগঞ্জ বাজারে দক্ষিণ ছাতক উপজেলা বাস্তবায়নের দাবিতে আবেদন «» খেলাফত মজলিস মৌলভীবাজারে বড়লেখা উপজেলায় উলামা ও সূধী সমাবেশ সম্পন্ন «» গোয়াইনঘাটে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে হামলা, গ্রেফতার ১ «» খেলাফত মজলিস সিলেট মহানগরীর নির্বাহী সভা অনুষ্ঠিত «» আগামী শুক্রবার সিলেটে সমমনা ইসলামী দলের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ «» ছাতকে বাড়ি ফেরার পথে গৃহবধূ ধর্ষণ, যুবক গ্রেফতার «» সিলেটে শেখ রাসেলের ৫৭তম জন্মদিন পালন «» ওসমানীনগর ইউপি নির্বাচনে বিএনপিসহ একাধিক প্রার্থীর আচরণবিধি লঙ্গন «» জগন্নাথপুরে স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতার উপর হামলার ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের



এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে ধর্ষণকাণ্ডে গ্রেফতার ছাত্রলীগের পাঁচ ‘নেতাকর্মী’

ডেস্ক রিপোর্ট :: এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে স্বামীকে বেঁধে রেখে নারীকে গণধর্ষণের ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় পাঁচ আসামিকে গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে মামলার প্রধান আসামিসহ এজহারনামীয় আসামি রয়েছে চারজন। গ্রেফতারকৃত সবাই ছাত্রলীগের টিলাগড় কেন্দ্রীক গ্রুপের নেতাকর্মী। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে রাত পর্যন্ত পৃথক অভিযানে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়।

 

গ্রেফতারকৃতরা হলেন-মামলার প্রধান আসামি সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলার চান্দাইপাড়া গ্রামের তাহিদ মিয়ার ছেলে এমসি কলেজের ৫ম ব্লক হোস্টেলের বাসিন্দা সাইফুর রহমান (২৮), মামলার ৩নং আসামি হবিগঞ্জ সদরের বাগুনীপাড়ার শাহ মো. জাহাঙ্গীর মিয়ার ছেলে এমসি কলেজ হোস্টেলের ৭নং ব্লকের ২০৫ নং কক্ষের বাসিন্দা শাহ মো. মাহবুবুর রহমান রনি(২৫), মামলার ৪ নং আসামি সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার আটগ্রামের কানু লস্করের ছেলে বর্তমানে শাহপরান রাজপাড়া এলাকার বাসিন্দা অর্জুন লস্কর(২৫) এবং মামলার ৫নং সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার বড়নগদীপুর গ্রামের বাসিন্দা রবিউল ইসলাম (২৫) এবং মামলার সন্ধিগ্ধ আসামি রাজন আহমদ ওরফে রাজ চৌধুরী।

 

পুলিশ জানায়, রোববার সকালে মামলার প্রধান আসামি সাইফুর রহমান (২৮) ছদ্মবেশে  ভারতে পালানোর চেষ্টাকালে সুনামগঞ্জের ছাতক থানা পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। এদিন সকালে সিলেট মহানগর গোয়েন্দা পুলিশেরে পরিদর্শক আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে একটি টিম হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলা মনতলা এলাকা থেকে অর্জুন লস্করকে গ্রেফতার করে।

 

রোববার রাত ৮টার দিকে হবিগঞ্জ শহরের অনন্তপুর এলাকায় র‌্যাবের হাতে আটক হন মামলার আরেক আসামি শাহ মাহবুবুর রহমান ওরফে রনি (২৫)। র‌্যাবের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিশ্চত করা না হলেও রনির আত্মীয় চুনারুঘাট উপজেলার মিরাশী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. আইয়ুব আলী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। আনন্তপুর এলাকার একজন অ্যাডভোকেটের বাসায় রনি র‌্যাবের হাতে আত্মসমর্পণ করেন। রনি এমসি কলেজে ইংরেজী বিভাগের মাস্টার্সের অনিয়মিত ছাত্র। সে ছাত্রাবাসের ৭ নম্বর ব্লকের ২৫০ নম্বর কক্ষে থাকতো। পরবর্তীতে রাত সাড়ে ৯টার দিকে গণধর্ষণ মামলার ৫ নম্বর এজাহারনামীয় আসামী রবিউল ইসলামকে হবিগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি টিম নবীগঞ্জ উপজেলার ইনাতগঞ্জ থেকে গ্রেফতার করে।

এছাড়া রোববার মধ্যরাত ১টায় ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার কচুয়া নয়াটিলা এলাকা থেকে রাজন আহমদ ওরফে রাজ চৌধুরী (২৮) নামের আরেক আসামিকে গ্রেফতার করে র‍্যাব-৯ এর একটি দল। এ সময় রাজনকে পালাতে সহযোগিতা করায় আইনুল ইসলাম নামের আরেক যুবককেও আটক করা হয়।

র‌্যাব-৯ সিলেটের একটি সূত্র গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। গ্রেফতার রাজন ছাত্রাবাসে তরুণীকে গণধর্ষণ মামলার অজ্ঞাত আসামি ছিলেন। ছায়া তদন্তে নেমে র‍্যাব এ তথ্য নিশ্চিত হয়ে রাজনকে গ্রেফতার করে।

এ নিয়ে চাঞ্চল্যকর এই ঘটনায় পাঁচ আসামিকে গ্রেফতার করা হলো। এর মধ্যে চারজন মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। আর অপরজন মামলার অজ্ঞাতনামা আসামি।
এছাড়া এখনো পলাতক রয়েছে চাঞ্চল্যকর এ মামলার এজাহারনামীয় দুই আসামি যথাক্রমে কানাইঘাট উপজেলার গাছবাড়ি এলাকার মাহফুজুর রহমান মাসুম (২৫) ও সুনামগঞ্জ সদরের নিসর্গ-৫৭ বাসার মৃত রফিকুল ইসলামের ছেলে মেজরটিলা দিপীকা আবাসিক এলাকার বাসিন্দা তারেকুল ইসলাম তারেক (২৮)।
শাহপরান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, রাতে মামলার আসামি রণি ও রবিউলকে গ্রেফতারের খবর জানতে পেরেছি। এরআগে সকালে গ্রেফতারকৃত সাইফুর ও অর্জুনকে পুলিশ হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার (মিডিয়া) জ্যোতির্ময় সরকার বলেন, রোববার দিনে দুই আসামি গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত রয়েছে। রাতে আরো দুই আসামি গ্রেফতারের খবর জেনেছি। এছাড়া পলাতকদেরও গ্রেফতারে চেষ্টা চলছে।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে স্বামীকে আটক রেখে নারীকে ছাত্রলীগের ৬ জন নেতাকর্মী গণধর্ষণ করে। খবর পেয়ে রাত সাড়ে ১০টার দিকে ওই দম্পত্তিকে ছাত্রাবাস থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। পরবর্তীতে ধর্ষণের শিকার তরুণীকে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওসিসি সেন্টারে ভর্তি করা হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, দক্ষিণ সুরমার নবদম্পতি শুক্রবার বিকেলে প্রাইভেটকারে যোগে এমসি কলেজে বেড়াতে যান। বিকেলে এমসি কলেজের ছাত্রলীগের ছয়জন নেতাকর্মী স্বামী-স্ত্রীকে ধরে ছাত্রাবাসে নিয়ে প্রথমে মারধর করেন। পরে স্বামীকে আটকে রেখে স্ত্রীকে গণধর্ষণ করেন। ছাত্রলীগ নেতাদের প্রত্যেকেই ছাত্রাবাসে থাকেন। তারা টিলাগড় কেন্দ্রীক আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাডভোকেট রনজিত সরকার গ্রুপের অনুসারী।

এ ঘটনায় শনিবার ভোর রাতে ৬ জনের নামোল্লেখ করে অজ্ঞাত আরো ২/৩ জনকে অভিযুক্ত করে নগরের শাহপরান থানায় এ মামলা (২১(৯)২০২০) দায়ের করেন ধর্ষিতার স্বামী।

এছাড়া ঘটনার পর অভিযানে নেমে সাইফুরের কক্ষ থেকে অস্ত্র উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় পৃথক আরেকটি মামলা দায়ের করেন শাহপরান (র.) থানা পুলিশের উপ পরিদর্শক (এসআই) মিল্টন সরকার। ছাত্রলীগ ক্যাডার সাইফুর রহমানকে আসামি করে মামলা (নং-২২(৯)২০২০) দায়ের করেন তিনি।