jagannathpurpotrika-latest news

আজ, ,

সর্বশেষ সংবাদ
«» ছাতকে চাঁদাবাজ ইদন মিয়া গ্রেফতার «» ছাতকের আলীগঞ্জ বাজারে দক্ষিণ ছাতক উপজেলা বাস্তবায়নের দাবিতে আবেদন «» খেলাফত মজলিস মৌলভীবাজারে বড়লেখা উপজেলায় উলামা ও সূধী সমাবেশ সম্পন্ন «» গোয়াইনঘাটে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে হামলা, গ্রেফতার ১ «» খেলাফত মজলিস সিলেট মহানগরীর নির্বাহী সভা অনুষ্ঠিত «» আগামী শুক্রবার সিলেটে সমমনা ইসলামী দলের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ «» ছাতকে বাড়ি ফেরার পথে গৃহবধূ ধর্ষণ, যুবক গ্রেফতার «» সিলেটে শেখ রাসেলের ৫৭তম জন্মদিন পালন «» ওসমানীনগর ইউপি নির্বাচনে বিএনপিসহ একাধিক প্রার্থীর আচরণবিধি লঙ্গন «» জগন্নাথপুরে স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতার উপর হামলার ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের



জগন্নাথপুরে মাজারকে কেন্দ্র করে আধিপত্য বিস্তারে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ!

নিজস্ব প্রতিবেদক :: সুনামগঞ্জের প্রবাসী অধ্যুষিত ৮ আউলিয়ার পূর্ণ ভূমি জগন্নাথপুর উপজেলার আশারকান্দি ইউনিয়নের বড় ফেছি গ্রামের মোকামের-ঢালা নদীর তীরে ৩৬০ আউলিয়ার অন্যতম সফর সঙ্গী হযরত শাহ্ হাফিজ ফছিহ (র:) এর মাজার রয়েছে। দেশ- বিদেশের বিভিন্ন স্থান থেকে প্রতিদিন মানুষ ছুটে যান মাজার জিয়ার করতে।

 

 

মাজারে আসা ভক্তদের দানকৃত টাকা ও মাজার পরিচালনা কমিটি নিয়ে গ্রামে দুটি গ্রুপ সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পক্ষে বিপক্ষে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এতে পক্ষে বিপক্ষ সংবাদ প্রকাশের পর এলাকায় আলোচনা সমালোচনার ঝড় সৃষ্টি হয়েছে।

 

 

বড় ফেছি গ্রামের মৃত হাজী মোঃ আফিজ উল্লার পুত্র মোঃ ইলিয়াছ মিয়া গত ১৭ আগষ্ট জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বরাবরে একই এলাকার মৃত মনু মিয়ার ছেলে সাবেক জননন্দিত ইউপি সদস্য, বিশিষ্ট শালিসী ব্যক্তিত্ব, আওয়ামী লীগ নেতা খায়রুল ইসলাম ও মৃত হুছন মিয়ার ছেলে আব্দুল হকের বিরুদ্ধে অর্থসহ বিভিন্ন অর্থ আত্মসাৎ এর অভিযোগ এনে অভিযোগ দায়ের করেন।

 

 

স্থানীয় সমাজকর্মী রিয়াদ আহমদ, হাবিবুবুর রহমান, দেলোওয়ার হোসেনসহ কয়েকজন জানান, মাজার, কবরস্থান, ও স্কুলের উন্নয়ন কাজের টাকা আত্মসাৎ এর অভিযোগ এনে ইলিয়াছ মিয়া ও তার ভাতিজা সিএনজি ড্রাইবার আবুল কাহের বিরোধী। গ্রামের সর্ব শ্রেণীর মানুষ মাজার, কবরস্থান, স্কুল- মাদ্রাসা, মসজিদ, রাস্তাঘাটের উন্নয়নে ঐক্যবদ্ধ রয়েছেন।

 

 

মাজারের খাদেম  মৃত তুতা মিয়ার ২য় ছেল মোঃ বকুল মিয়া জানান, প্রায় তিন বছর ধরে তিনি মাজারের খাদেমের দায়িত্বে রয়েছেন। তিনি জানান, মাজারের দান বাক্স ৩টি রয়েছে। ২টি দান বাক্সের টাকা মাজার কমিটির সভাপতি, সেক্রেটারি, কেশিয়ারসহ কমিটির দায়িত্বে যারা রয়েছেন তারা খোলেন। এসব টাকা তারা খোলে কি করেন মাজারের খাদেম বকুল মিয়া তা সঠিক করে জানেননা। তিনি জানান প্রতি মাসে অনুমান প্রায় দশ হাজার টাকা দান বাক্সে মিলে। মাঝে মধ্যে দান বাক্স ভেঙ্গে টাকা চুরিও হয়।

 

 

মাজার পরিচালনা কমিটির বর্তমান সভাপতি আ.লীগ নেতা মুজিবুর রহমার মোরাদ ও সেক্রেটারি মইনুল হাসান মইন জানান, গ্রামের প্রতিটি গুষ্টির লোক নিয়ে মাজার পরিচালনা কমিটি গঠন করা হয়। বর্তমান ১৩ সদস্য বিশিষ্ট মাজার পরিচালনা কমিটি অনুমোদন করেছেন গ্রামবাসী। বর্তমান কমিটির সভাপতি মুজিবুর রহমান জানান, মাজারের দুটি দান বাক্স খোলে প্রতি মাসে ৭ থেকে ৮শ টাকা পাওয়া যায়।

 

 

মাজারের খাদেমের বক্তব্য আর মাজার পরিচালনা কমিটির সভাপতির বক্তব্যের মধ্যে কোন মিল নেই। মাজারের খাদেম ও সভাপতির দান বাক্সের টাকার হিসাবের কোন মিল নেই। যা আকাশ পাতাল ব্যবধান, কোন সমাজেই এমন হিসাব মেনে নেওয়ার কথা নয়।

 

 

সরেজমিন মাজারে গেলে, স্থানীয় শাহ মুকিত মিয়া, আশরাফুল ইসলাম, শাহ আরজু মিয়া, শাহ আয়াছ মিয়া, ইউনুস মিয়া, ইয়াওর মিয়া, হান্নান মিয়া, ফারুক হোসেন সহ অনেকেই জানান, একটি কুচক্রী মহল মাজারকে কেন্দ্র করে, নানান অপতৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। মাজারকে কেন্দ্র করে আধিপত্য বিস্তারে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ এনে শান্তিপ্রিয় এলাকাকে অশান্ত করতে চায়। তারা আরো জানান, খায়রুল ইসলাম এলাকার জনপ্রিয় ও সাবেক জনপ্রতিনিধি, দশ গাউর শালিসী ব্যক্তি তিনি। খায়রুল মেম্বারের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।

 

 

বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন জগন্নাথপুর উপজেলার মানবাধিকার সম্পাদক, দীঘলবাগ গ্রামের বাসিন্দা, সমাজকর্মী রুহুল আমীন খান জানান, এজন কামিল ওলির মাজারকে কেন্দ্র করে পক্ষে বিপক্ষে সমালোচনা বন্ধ করুন। যা হয়েছে যতেষ্ট এখনও সময় আছে আলোচনার টেবিলে বসে বিষয়টি সমাধান করা উচিত।

 

 

বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন জগন্নাথপুর উপজেলার সাধারণ সম্পাদক, আশারকান্দি ইউনিয়নের বাসিন্দা হাজি সোহেল আহমদ খান টুন জানান, বিষয়টি তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য পুলিশ-প্রশাসনের প্রতি তিনি অনুরোধ জানান।