jagannathpurpotrika-latest news

আজ, ,

সর্বশেষ সংবাদ
«» হাটহাজারী মাদ্রাসার শিক্ষকদের বিবৃতি : আল্লামা শফীর লাশ নিয়ে রাজনীতি করবেন না «» আজমিরীগঞ্জে বাল্য বিয়ে পণ্ড, জরিমানা «» বিশ্বনাথে দশঘর ইউপি নির্বাচনে আ.লীগের নৌকার প্রার্থী জবেদুর «» এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে ধর্ষণকাণ্ডে গ্রেফতার ছাত্রলীগের পাঁচ ‘নেতাকর্মী’ «» নির্যাতিতার জবানবন্দি : হাতে-পায়ে ধরলেও মন গলেনি ধর্ষকদের «» আজ শেখ হাসিনার জন্মদিন «» ছাতকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৪তম জন্মদিন পালন «» অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম আর নেই «» ছাতকে সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে গণধর্ষণ ও অস্ত্র মামলার প্রধান আসামী সাইফুর গ্রেফতার «» এমসি কলেজের ছাত্রাবাসে ধর্ষণের ঘটনায় কাউকে ছাড় নয়- ওবায়দুল কাদের



একজন আদর্শ শিক্ষক অধ্যক্ষ মাওঃ শামছুজ্জামান চৌধুরী

নাম: অধ্যক্ষ মাওঃ মোহাম্মদ শামছুজ্জামান চৌধুরী, পিতা মরহুম মোহাম্মদ ইউনুছ চৌধুরী, জন্ম ২৩শে এপ্রিল ১৯৫৭ ইং, ৭ই বৈশাখ ১৩৬৪ বাংলায় মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ থানার কৃষ্ণপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তিনি।

 

 

শিক্ষা জীবন:
তিনি প্রাথমিক শিক্ষা প্রাইমারী স্কুল থেকে শেষ করেন।মাধ্যমিক শিক্ষা শমসেরনগর এটি.এম উচ্চা বিদ্যালয় থেকে শেষ করেন। তিনি ১৯৭০ সালে ভানুগাছ সফাত আলী সিনিয়র মাদরাসা থেকে মাদরাসার শিক্ষা শুরু করেন।১৯৭৪ সালে সৎপুর টাইটেল মাদরাসা বিশ্বনাথ, সিলেট থেকে দাখিল দেন। ১৯৭৬ সালে একি মাদরাসায় আলিম দেন।১৯৭৮ সালে সিলেট সরকারী আলিয়া মাদ্রাসা থেকে ফাজিল দেন। উচ্চমাধ্যমিক ১৯৮১ সালে সুনামগঞ্জ সরকারী কলেজ।কামিল ১৯৮৫ সালে ঢাকা, গাজিপুর দুর্বাঢী আলিয়া মাদরাসা থেকে শেষ করেন। ১৯৭৬ সালে সিলেট কুদর উল্লাহ্‌ জামে মসজিদের খতিব ও পেশ ইমাম ক্বারী মাওঃ জমির উদ্দিন (র.) কাছ থেকে ক্বিরআতের সনদ লাভ করেন।

 

 

কর্ম জীবন:

 

তিনি ১৯৮৬ সালে ছাত্রজীবন শেষ করে নিজ শহর শমসেরনগর আল-ফালাহ লাইব্রেরি এন্ড ষ্টেশনারী নামে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলার মাধ্যমে কর্মজীবন শুরু করেন। ১৯৮৭ সালে নিজ এলাকায় একটি মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করে ১৯৯৩ সাল পর্যন্ত এই মাদরাসার পরিচালকের দায়ীত্ব পালন করেন। তিনি ১৯৯৫ সাল থেকে
ট্রাভেলস এজেন্সি সাথে সংশ্লিষ্ট হন। পরবর্তীতে ১৯৯৭ সালে মৌলভীবাজার কুসুমবাগ এলাকায় আল-ইখওয়ান ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল নামক ট্রাভেলস এজেন্সি প্রতিষ্ঠা করেন।তিনি ১৯৯৭ সালে আল-আরাফা ইসলামী সোসাইটির প্রতিষ্টার মাধ্যমে মধ্য দিয়ে মৌলভীবাজার ইসলামী একাডেমীর প্রতিষ্ঠা এবং প্রিন্সিপাল হিসাবে দায়ীত্ব গ্রহন করেন। এখনে তিনি এই প্রতিষ্টানের প্রতিষ্টাতা প্রিন্সিপাল হিসেবে দায়ীত্বে আছেন। ১৯৯৯ সালে তিনি সেইঞ্চুরী কম্পিউটার একাডেমী নামে ট্রেনিং সেন্টার প্রতিষ্ঠা করেন। এ সময় মৌলভীবাজার শহরে ৩/৪ টার মতো কম্পিউটারের দোকান/সেন্টার ছিল। এ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কয়েকশত লোককে তিনি নিজ দায়ীত্বে কম্পিউটারের প্রশিক্ষণ দেন। এই প্রতিষ্টানের তিনিই মালিক, পরিচালক এবং ট্রেনিং ইনষ্টাক্টর ছিলেন।২০০১ সালে তিনি সেইঞ্চুরী অনুবাদ সেন্টার নামে একটু অনুবাদ সেন্টার স্থাপন করেন।যাহা অদ্যাবধি চালু আছে। উল্লেখ্য যে, মৌলভীবাজারে অনুবাদের পাশাপাশি কম্পিউটারে আরবী ও উর্দূ সফটওয়্যারের কাজ সর্বপ্রথম এখানেই চালু হয়। ২০০৩ সালে ট্রেনিং একাডেমী বন্ধ করে কুসুমবাগ বাণিজ্যিক এলাকায় সেইঞ্চুরী কম্পিউটার্স এন্ড অফসেট প্রেস নামক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চালু করেন। বর্তমানে সেইঞ্চুরী কম্পিউটার্স প্রতিষ্ঠানটি চালু আছে।

 

 

বৈবাহিক ও পারিবারিক জীবন:
১৯৮৯ সালে মৌলভীবাজার, বড়কাপনের সুনামধন্য আমেম মরহুম মাওলানা আহমদ হুসেনের প্রথম কণ্যাকে বিয়ে করে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। উনি বর্তমানে ৩ ছেলে ও ৩ মেয়ের জনক।

 

রাজনৈতিক জীবন: তিনি ১৯৭০ সালে
মাদরাসা ছাত্রদের সংগঠন জমিয়তে তালাবায়ে আরবিয়ার প্রাথমিক সদস্য পদ গ্রহণের মাধ্যমে সাংগঠনিক জীবনের সূচনা হয়। ১৯৭১ সালের পরবর্তী সময়ে সকল ইসলামী সংগঠনের তৎপরতা নিষিদ্ধ থাকলেও বেশ কিছু ও ধর্মীয় কালচারালের সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন। ১৯৮৩ সালে হযরত হাফেজ্জী হুজুরের নেতৃিত্বে ১১ দলীয় সম্মেলিত সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হলে এ আন্দোলনে মৌলভীবাজার প্রতিনিধি হিসাবে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। ১৯৮৫ সালে ঢাকায় স্থানান্তরিত হন এ সময় ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন শাখায় কাজ করেন। ১৯৮৭ সালে ঢাকায় সর্বদলীয় ভাবে ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলন নামক একটি জোট প্রতিষ্ঠা লাভ করলে এ আন্দোলনে মৌলভীবাজার জেলা শাখা গঠন কালে মাওঃ খলিলপুর রহমাম রাজনগরী (র:) কে আহবায়ক এবং সৈয়দ মাসউদ আহমদ এবং অধ্যক্ষ মাও: শামছুজ্জামান চৌধুরীকে যুগ্ন আহবায়ক করে জেলা কমিটি গঠন করা হয়। এখনে তিনি যুগ্ন আহবায়কের দায়িত্ব প্রাপ্ত হলেও এ কার্যক্রম বেশি দিন চলে নি। কারণ এই জোট কিছুদিন পরেই দলে পরিণত হয়। ১৯৮৯ সালে ৮ ডিসেম্বর খেলাফত আন্দোলন ও ইসলামী যুব শিবির ঘোষণাপত্রের মাধ্যমে খেলাফত মজলিস প্রতিষ্ঠা হলে প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই জেলা শাখার বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেন। এক্ষেত্রে ১৯৯১-১৯৯২ সালে জেলার যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় মজলিসের শুরা সদস্য হিসাবে নিয়োজিত ছিলেন।১৯৯৬ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত আওয়ামী দুঃশাসন বিরোধী আন্দোলনে চারদলীয় জোট প্রতিষ্ঠিত হলে জেলাতে তৎকালীন বি.এন.পির জেলা সভাপতি এডভোকেট এবাদুর রহমান চৌধুরী কে আহবায়ক ছিলেন, বাকী চারদলের সভাপতি, সেক্রেটারি দের যুগ্ন আহবায়ক করা হয়। খেলাফত মজলিসের জেলা সেক্রেটারি হিসাবে অধ্যক্ষ মাওঃ শামসুজ্জাম চৌধুরীকেও যুগ্ন আহবায়কের দায়িত্ব দেওয়া হয়। দুঃশাসন বিরোধী আন্দোলনে মৌলভীবাজার জেলায় অধ্যক্ষ মাওঃ শামসুজ্জাম চৌধুরী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ইসলামী ঐক্যজোট গঠিত হলে মৌলভীবাজার জেলায় খেলাফত মজলিস ছাড়া ঐক্যজোটের অন্য কোন শরীক দলের শাখা ছিল না। তাই খেলাফত মজলিসের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককেই ঐক্যজোটের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করতে হয়। এখানি তিনি ইসলামী ঐক্যজোটের মৌলভীবাজার জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। এবং ১৯৯৮ সালে ঐক্যজোটের ঢাকা-সিলেট রোডমার্চ কর্মসূচি বাস্তবায়নে কার্যকারী ভূমিকা রাখেন। ১৯৯৭ সালে খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় সদস্য পদ লাভ করেন। ২০০৬ সালে ওলামা পরিষদ মৌলভীবাজার এর সদস্য নির্বাচিত হন এবং ২০২০ সালে আমেলা পূনর্গঠিত হলে ওলামা পরিষদের সহ-সভাপতি নির্বাচিত হন। ২০০৭-২০০৮ সাল পর্যন্ত খেলাফত মজলিসের মৌলভীবাজার জেলা সভাপতি ও কেন্দ্রীয় মজলিসের শুরার সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৯ সালে খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য ও সিলেট বিভাগের জোন এর পরিচালক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন।২০১৭-২০১৮ সাল পর্যন্ত খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় সহ-প্রশিক্ষন সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৮ থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে নিয়োজিত আছেন।

 

 

এছাড়াও ১৯৯৭ সাল থেকে অদ্যবদি আল আরাফা ইসলামী সোসাটির সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেছেন। ২০০৬ সাল থেকে অদ্যবদি নিজ জন্মস্থান শমসেরনগর কৃষ্ণপুর শাহ জালাল ঈদগাহের খতিব ও ইমাম হিসেবে নিয়োজিত আছেন। ২০১২ -২০১৭ সাল পর্যন্ত স্কলার এইড কিন্ডার গার্টেন স্কুল নামক প্রতিষ্টানের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এবং এখনো তিনি অনেক সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ইসলামী সংগঠনের সাথে সম্পৃক্ত আছেন।

 

 

সাহিত্যিক জীবন -সাহিত্য সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে তিনি ১৯৭৮ সালে সুনামগঞ্জ থাকাকালীন তৎকালীন জাতীয় পত্রিকা “জাহানে নও” এর জেলা প্রতিনিধি ছিলেন। দৈনিক সংগ্রাম পত্রিকার আঞ্চলিক প্রতিনিধি ছিলেন। আ,খ,ম বদরুদ্দোজা সম্পাদিত জাতীয় সাপ্তাহিক “পল্লী বাংলা”এবং মাসুদ মজুমদার সম্পাদিত “সাপ্তাহিক বিক্রম ” এর মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধির দায়িত্ব আঞ্জাম দেন। এছাড়াও নিজ সম্পাদনায় বেশ কিছু সাহিত্য সাময়িক এবং প্রবন্ধ রচনা বিভিন্ন সময় প্রকাশিত হয়।

 

বর্তামানে তিনি খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক, মৌলভীবাজার ইসলামী একাডেমীর প্রতিষ্টাতা প্রিন্সিপাল এবং নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সেইঞ্চুরী কম্পিউটার্স এর পরিচালনার দায়িত্বে নিয়োজিত আছেন। আল্লাহ উনাকে দীর্ঘজীবী করুক।

 

 

লেখক: সাব্বির আহমদ

 

সেক্রেটারি,

 

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র মজলিস মৌলভীবাজার শহর।
গ্রাম: বারহাল, অলহা, মৌলভীবাজার সদর উপজেলা
রক্তের গ্রুপ : B+
মোবাইল নাম্বার:০১৭২১৩৪৬৭৮৩