jagannathpurpotrika-latest news

আজ, ,

সর্বশেষ সংবাদ
«» একজন আদর্শ শিক্ষক অধ্যক্ষ মাওঃ শামছুজ্জামান চৌধুরী «» ঈদ-উল- আযহা উপলক্ষে দেশবাসী ও মুসলিম উম্মাহকে খেলাফত মজলিসের শুভেচ্ছা «» জগন্নাথপুর উপজেলা কালচারাল ফোরাম এর নব-গঠিত কমিটিকে অভিনন্দন জানিয়ে আলোচনা সভা ও নগদ অর্থ বিতরণ «» সেপ্টেম্বরে স্কুল খুললে ডিসেম্বরেই প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা «» বিমানের নতুন সিদ্ধানে লন্ডন প্রবাসী সিলেটীরা ক্ষুব্ধ «» গোয়াইনঘাটে অর্ধশত ইয়াবাসহ যুবক আটক «» জগন্নাথপুরে পানিবন্দি মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে উপজেলা পরিষদে চেয়ারম্যান প্রার্থী সৈয়দ তালহা আলমের নগদ অর্থ দেড় লক্ষ টাকা বিতরণ «» সাবেক শিক্ষামন্ত্রীর তাগিদে শুরু হলো সিলেট-বিয়ানীবাজার রাস্তার সংস্কার কাজ «» বাহুবলে ভাগ্নির টাকা আত্মসাৎ ও বোনকে মারধোরের ঘটনায় অভিযোগ দায়ের «» দক্ষিণ সুনামগঞ্জে সংবাদ প্রকাশের পর পরই এএসআই হাসনাত ক্লোজড



ঘোষণায়ে বে নযীর ও ছাহেবজাদা সমাচার : হুসাইন আহমদ মিসবাহ

“আমার পরে আমার ছেলেকে যেন আমার স্থলাভিষিক্ত করা না হয়”। রাজধানীর বারিধারা মাদরাসার মুহতামিম, বাংলাদেশের অন্যতম শীর্ষ আলেম ও রাজনীতিবিদ, আল্লামা নুর হুসাইন কাসেমী এমনি অসিয়ত করেছেন। স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, তাঁর অবর্তমানে তাঁর কোন ছেলেকে যেন তাঁর পদে মানে বারিধারার মুহতামিম করা না হয়। অথচ উনার ছেলের সে যোগ্যতা আছে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে এমন “ঘোষণায়ে বে নযীর” জাতির জন্য ইতিবাচক দৃষ্টান্ত। স্বশ্রদ্ধ অভিনন্দন ও মোবারকবাদ আল্লামা কাসেমীকে।

 

 

এই “রাজতান্ত্রিক” ধারা দেশের জন্য কোন অংশেই করোনা থেকে হালকা নয়। প্রায় প্রতিষ্ঠানেই এই ধারা লক্ষণীয়। ব্যক্তি মালিকানাধীন হলে ভিন্ন কথা, কিন্তু পাবলিক পরিচালিত প্রতিষ্ঠানে এমনটি হবার কথা ছিলনা। বাবার পরে ছেলেকে, ছেলে হিশেবে তার স্থানে বসানোর এই ধারা ইসলামি ও বাংলাদেশী কোন আইনই সাপোর্ট করেনা।
কেউ বলতে পারেন, ছেলে হিশেবে নয়, বর তার যোগ্যতা বা এলাকার চাহিদায় দায়িত্ব দেওয়া হয়। সে ক্ষেত্রে আমাদের কথা হল-

 

 

এক. ছেলে থেকে বেশি যোগ্য কাউকে পাওয়া যায়নি? স্বাধীন ভাবে খোজা হয়েছিল? কিছু অপেক্ষা করলে বা খোজার পরিধি বিস্তৃত করলে পাওয়া যেতনা?

 

দুই. সাধারণত শিক্ষক নিয়োগে যে ভাবে ইন্টারভিউ নেওয়া হয়, সনদসহ শিক্ষা-ধিক্ষা, পড়ানো শৈলী, খুটিয়ে দেখায় হয়, ছাহেবজাদাদেরকে বাবার আসনে বসাতে কি এই প্রক্রিয়া কার্যকর করা হয়? যদি না হয়, তাহলে যোগ্যতা কিভাবে বিবেচিত হল?

 

তিন. অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখা যায়, বড় ছাহেবজাকেই স্থলাভিষিক্ত করা হয়। সবার কি বড় ছাহেবজাদাই যোগ্য থাকেন?

 

চার. বাস্তবে ছাহেবজাদা যোগ্য হলে অন্য প্রতিষ্ঠানে কেন থাকেন না? বাবার প্রতিষ্ঠানেই কেন আসতে হবে? বাবার প্রতিষ্ঠানের বিশেষত্ব কী?

 

পাচ. আর এলাকার চাহিদা! এলাকাবাসী স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে চেয়েছে, নাকি কোন চাপের কারণে চেয়েছে, সেটা কি খতিয়ে দেখা হয়? তারা যোগ্য হিশেবে চায়, নাকি সাবেক মুহতামিম সাহেবের প্রতি ভালবাসার নিদর্শন হিশেবে চায়? নাকি কোন ফিতনা থেকে বাঁচতে চায়? স্বাধীন ভাবে চাওয়ার সুযোগ কি সবস্থানে থাকে?

 

ছয়. যোগ্য থাকার পরও কেউ যদি বলে, সে তার যোগ্যতায় নয়, বরং বাবার কারণে দায়িত্ব পেয়েছে! তার কি মুখে ধরা যাবে? এমনটি বলার সুযোগ সে কেন পাবে? এর মাধ্যমে ছাহেবজাদার যোগ্যতাকে কি প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়না?

 

দেশের চলমান এই প্রেক্ষাপটে আল্লামার কাসেমীর এই ঘোষণা নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার। বাকী দায়িত্বশীল আল্লামারা কি এভাবে ঘোষণা দিতে পারেন না? ছাহেবজাদারা কি বুক ফুলিয়ে বলতে পারেন না যে, আমি বাবার প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব নিয়ে আমার যোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করবোনা। যোগ্যতা থাকলে আমার জন্য শত শত প্রতিষ্ঠান আছে।

 

আল্লামা কাসেমীকে কারা পছন্দ করেন আর কারা অপছন্দ করেন আমি জানিনা। ব্যক্তিগত ভাবে উনার সাথে আমার কোন সম্পৃক্ততা নেই। দেশের “অন্যতম শীর্ষ আলেম ও রাজনীতিবিদ” ব্যতিত আমার কাছে উনার ব্যাপারে আর কোন তথ্য নেই। উনার ইলিম-আমল, চাল-চলন, আচার-ব্যবহার, লেন-দেন, ইত্যাদি বিষয়াদি আমার জানা নেই। তাই উনার পক্ষে আমি কোন সাফাই গাইছিনা। উনার এই সিদ্ধান্তটি আমার কাছে ভাল ও সময়োপযোগী মনে হয়েছে, তাই উল্লেখ করেছি।

 

আল্লাহ আমাদের সবাইকে সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার তাওফিক দিন। আমীন। লেখক: বালাগঞ্জ, সিলেট।