jagannathpurpotrika-latest news

আজ, ,

সর্বশেষ সংবাদ
«» একজন আদর্শ শিক্ষক অধ্যক্ষ মাওঃ শামছুজ্জামান চৌধুরী «» ঈদ-উল- আযহা উপলক্ষে দেশবাসী ও মুসলিম উম্মাহকে খেলাফত মজলিসের শুভেচ্ছা «» জগন্নাথপুর উপজেলা কালচারাল ফোরাম এর নব-গঠিত কমিটিকে অভিনন্দন জানিয়ে আলোচনা সভা ও নগদ অর্থ বিতরণ «» সেপ্টেম্বরে স্কুল খুললে ডিসেম্বরেই প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা «» বিমানের নতুন সিদ্ধানে লন্ডন প্রবাসী সিলেটীরা ক্ষুব্ধ «» গোয়াইনঘাটে অর্ধশত ইয়াবাসহ যুবক আটক «» জগন্নাথপুরে পানিবন্দি মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে উপজেলা পরিষদে চেয়ারম্যান প্রার্থী সৈয়দ তালহা আলমের নগদ অর্থ দেড় লক্ষ টাকা বিতরণ «» সাবেক শিক্ষামন্ত্রীর তাগিদে শুরু হলো সিলেট-বিয়ানীবাজার রাস্তার সংস্কার কাজ «» বাহুবলে ভাগ্নির টাকা আত্মসাৎ ও বোনকে মারধোরের ঘটনায় অভিযোগ দায়ের «» দক্ষিণ সুনামগঞ্জে সংবাদ প্রকাশের পর পরই এএসআই হাসনাত ক্লোজড



তোমরা মানুষ হও জনগণ ও রাষ্ট্রকে বাঁচতে দাও : ফুজায়েল আহমাদ নাজমুল

-ফুজায়েল আহমাদ নাজমুল-

 

আমরা লক্ষ করছি গোটা বাংলাদেশ ধীরে ধীরে মৃত্যুর মুখে পতিত হচ্ছে। রাষ্ট্রের এলিট শ্রেণী হতে শুরু করে একেবারে গ্রামের কৃষক পর্যন্ত কেউই করোনা ভাইরাসের কালো থাবা থেকে ছুটে যেতে পারছে না। গ্রাম, নগর, শহর, বন্দর চারিদিকে যেন এক ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

 

 

একজন চোর, দুর্নীতিবাজ পাপী অন্তত মৃত্যুর সময়ও আল্লাহকে ভয় করে। পাপ কাজ থেকে বিরত থাকার আপ্রাণ চেষ্টা করে। পাশে থাকা একজন মানুষকে মৃত্যুর সাথে আলিঙ্গন করতে দেখলে দরদভরা ভালোবাসা নিয়ে দৌড়ে আসে পাশে। কিন্তু দুঃখজনক বাস্তবতা হলো মরণঘাতী করোনাকালীন দুর্যোগপূর্ণ মুহুর্তেও আমাদের দেশের মানুষরূপী অমানুষগুলোর দৌরাত্ম থেমে নেই। তাদের কাছ থেকে মানুষত্বের নুন্যতম গুণগুলো পর্যন্ত হারিয়ে গেছে। মানুষের জীবন ও রাষ্ট্র তাদের স্বার্থের কাছে আজ বড় অসহায়।

 

 

আমরা নিশ্চয়ই জানি, করোনায় আক্রান্ত একজন মুমূর্ষু রোগী সময়মতো ভেন্টিলেটর না পেলে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করতে হয়। ইতিমধ্যে ভেন্টিলেটরের অভাবে অনেক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। দেশে ১৬ কোটি মানুষের জন্য ভেন্টিলেটর রয়েছে মাত্র ১২৬৭টি। ইতিমধ্যে সরকারিভাবে ঘোষিত রোগী ৬০ হাজার ছাড়িয়েছে।

 

 

এছাড়াও বেসরকারি হিসেব মতে শনাক্তের বাইরে রয়েগেছে আক্রান্তদের একটি বড় অংশ। এ অবস্থায় ভেন্টিলেটর আমদানির বিকল্প নেই। কিন্তু আমদানি হবে কিভাবে? মানুষরূপী অমানুষগুলো জীবন বাঁচানোর শেষ অন্যতম হাতিয়ার ভেন্টিলেটরেও ভাগ বসাতে চায়। তারা শুরুতেই ত্রাণ চুরি করে গরীবের পেটে লাতি দিয়েছে। আর এবার ভেন্টিলেটরকে পুঁজি করে বড় লোক হওয়ার স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে চায়।

 

 

দৈনিক মানব জমিন এর এক প্রতিবেদনে আজ পড়লাম তীব্র সংকট মোকাবিলায় ভেন্টিলেটর আমদানির পরিকল্পনা নেয়া হলেও ক্রয়াদেশ দেয়া হয়নি। ভেন্টিলেটর আমদানির আগেই সেখানে দুর্নীতির কালো হাত দেখা দিয়েছে। তবে বিস্ময়কর হলো, এই ক্রয়ের সঙ্গে খোদ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ছেলে জড়িত থাকার ইঙ্গিত দিয়েছে একটি ইংরেজি সংবাদপত্র। স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের একটি সূত্র বলেছে, অস্বচ্ছতা ও দুর্নীতির কারণে আটকে আছে ভেন্টিলেটর আমদানি। দেয়া যাচ্ছে না কার্যাদেশ।

 

 

করোনাকালের শুরু থেকেই দেশের স্বাস্থ্য খাতের করুণ অবস্থা ধরা পড়ে আমাদের চোখে। পর্যাপ্ত আইসিইউ’র অভাব। মানসম্পন্ন পিপিই নেই। স্বাস্থ্য সরঞ্জামের অভাবে আক্রান্তদের সেবা দিতে চিকিৎসকরা যখন অপারগতা জানান তখনই বিশ্বব্যাংক ও এডিবি ঋণ দেয়। যা দিয়ে বিভিন্ন স্বাস্থ্য সরঞ্জাম কেনার উদ্যোগ নেয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। কিন্তু জাতি ও রাষ্ট্রের দুর্যোগপূর্ণ মুহুর্তেও মানুষরূপী অমানুষগুলো তাদের লোভ সামলাতে পারেনি। স্বাস্থ্য সরঞ্জাম কেনায় যে খরচ ধরা হয়েছে, তা বাজারমূল্যের চেয়ে দুই থেকে চার গুণ বেশি।

 

 

মানুষরূপী অমানুষগুলো সরকারের খুব কাছের হওয়াতে তারা অনেক শক্তিশালী। সরকারকে বলবো! ওদেরকে থামান। জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিন। দ্রুত ভেন্টিলেটর আমদানি করে আক্রান্তদের পাশে দাঁড়ান। আমরা মৃত্যুর মিছিল দীর্ঘ দেখতে চাই না। জনগণ বেঁচে না থাকলে একটি রাষ্ট্র বেঁচে থাকতে পারে না।

 

 

আর রাষ্ট্রের মানুষরূপী অমানুষগুলোকে বলবো! তোমরা মানুষ হও। জনগণ ও রাষ্ট্রকে বাঁচতে দাও। অচিরেই আল্লাহর কাছে তোমাদেরও ফিরে যেতে হবে। সকল ভালো ও মন্দ কার্মের হিসাব দিতে হবে। ভালো কর্মের জন্য জান্নাত আর মন্দ কর্মের জন্য জাহান্নাম অপেক্ষা করছে। সুতরাং আল্লাহকে ভয় করো। আল্লাহকে ভয় করো।

 

লেখক: লন্ডন, যুক্তরাজ্য।