jagannathpurpotrika-latest news

আজ, ,

সর্বশেষ সংবাদ
«» ছাতকে প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে পুলিশ সদস্য আহত «» ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বড় হুজুরের জানাযার নামাজে মুসল্লিদের ঢল «» বিশ্বনাথে অবশেষে ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে জালিয়াতির মামলা রেকর্ড «» গলায় ফাঁস দিয়ে শাবি শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা «» সিনহা হত্যা: ওসি প্রদীপ পুলিশ হেফাজতে «» ছাতকে খেলাফত মজলিসের ঈদ পুনর্মিলনী ও নির্বাহী বৈঠক অনুষ্ঠিত «» ছাতকে নামাযরত অবস্থায় মুসল্লি তৈয়ব আলীর মৃত্যু «» ছাতকে একতার অভিষেক ও ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান সম্পন্ন «» জগন্নাথপুরে চিলাউড়া ছাত্র ফোরামের ঈদ পুনর্মিলনী ও প্রীতি সমাবেশ সম্পন্ন «» সিলেটে এম. সাইফুর রহমান ও আ.ফ.ম কামাল হোসেনের নামে চত্বর স্থাপনের দাবি



এক নজরে মাওলানা আব্দুল আউয়াল বড় হুজুর : ড. সৈয়দ রেজওয়ান আহমদ

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী সৈয়দপুর দারুল হাদীস মাদরাসার সাবেক শিক্ষা সচিব, ভারপ্রাপ্ত মুহতামীম, সৈয়দপুর সৈয়দীয়া শামছিয়া ফাজিল মাদরাসা, কাতিয়া দারুল হাদীস মাদরাসা এবং বারকোট হুসাইনিয়া মাদরাসার সাবেক শিক্ষক, সৈয়দপুর দরগাহ জামে মসজিদের সাবেক মোতাওয়াল্লী সৈয়দপুরের আলেম সমাজের ভরষাস্থল, মাওলানা সৈয়দ আব্দুল আউয়াল (বড় হুজুর) শুক্রবার (৫ জুন) সকাল ১০টায় তিনির নিজ বাসভবনে মাওলায়ে হাক্বিক্বীর ডাকে সাড়া দিয়ে পরপারে পাড়ি জমিয়েছেন- ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। বিকাল ৫.৩০ মিনিটের সময় সৈয়দপুর দারুল হাদীস মাদরাসা সংলগ্ন ‘শাহী ঈদগাহ’ ময়দানে তাঁর দ্বিতীয় সাহেবজাদা মাওলানা সৈয়দ রশিদ আহমদের ইমামতিতে সম্পন্ন হয়। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স ছিলো ৮৬ বছর। তিনি স্ত্রী, ৬ ছেলে ৭ মেয়েসহ অসংখ্য আত্বীয়-স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। বাংলাদেশের অন্যতম আধ্যাত্মিক গ্রাম সৈয়দপুরে ২২ এপ্রিল ১৯৩৫ খ্রি. এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন মরহুম মাওলানা সৈয়দ আব্দুল আউয়াল রহ.। বাবা সৈয়দ আব্দুল মান্নান ছিলেন একজন খাটি অাল্লাহওয়ালা বুজুর্গ।

 

 

 

শিক্ষা জীবন: প্রাথমিক শিক্ষা জীবন সৈয়দপুর হুসাইনিয়া হাফিজিয়া মাদরাসায় এবং পরবর্তীতে ঢাকা উত্তর রানাপিং হুসাইনিয়া আরাবিয়া মাদরাসা সিলেট থেকে দাওরায়ে হাদীস পাশ করে শিক্ষা জীবন সমাপ্ত করেন।

 

 

 

মরহুমের অন্যতম উস্তাদগণ: হযরত মাওলানা হুসাইন আহমদ মাদানী রহ. ও আল্লামা আনওয়ার শাহ কাশ্মীরী রাহ.-এর অন্যতম শাগরেদ শায়খুল হাদীস আল্লামা রিয়াছত আলী রহ. (শায়খে চৌঘুরী), মরহুম মাওলানা হাফিজ আব্দুল গাফফার রহ. (বারকুঠি), মাওলানা মোঃ তাহির আলী রহ. (তৈপুরী), মাওলানা আরমান আলী রহ. (রাজাগঞ্জী), শায়খুল হাদীস মাওলানা হুসাইন আহমদ রহ. (বারকুঠি) এবং হাফিজ মাওলানা মোঃ যাওয়াদ রহ. (রানাপিং) প্রমূখ।

 

 

 

কর্মজীবন: রানাপিং হুসাইনিয়া আরাবিয়া মাদরাসা থেকে পড়াশোনা শেষ করে (আমাদের দাদা হুজুর) সৈয়দপুর দারুল হাদীস মাদরাসার প্রায় প্রতিষ্ঠাকালীন উস্তাদ সৈয়দপুরের প্রবীন প্রায় সকল উলামায়ে কেরামের উস্তাদ বারকোট হুসাইনিয়া মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা হাফিজ মাওলানা আব্দুল গাফ্ফার রহ. এর আহবানে সাড়া দিয়ে বারকোট মাদরাসায় শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। কয়েক বছর শিক্ষকতার পর সৈয়দপুরের তৎকালীন মুরুব্বীয়ান এবং মাদরাসা কর্তৃপক্ষের অনূরুধে সৈয়দপুর আলীয়া মাদরাসায় শিক্ষক পদে যোগদান করে কিছুদিন শিক্ষকতা করেন। মরহুমের ভাষ্যমতে, “১৯৭১ সালের শেষের দিকে তাবলিগ জামাতের মারকাজে গেলে দেখা হয় মুজাহিদে মিল্লাত শায়খে কাতিয়া রহ. এর সাথে। মারকাজের প্রবীন মুরুব্বীর বয়ান শেষে চিল্লার জামাতে নাম লেখানো শুরু হলে শায়খে কাতিয়া রহ. তিনি নিজের নাম চিল্লার জামাতে লিখায়ে আমাকে (মরহুমকে) চিল্লার জন্য নাম লিখাতে বলেন। মাত্র পাঁচ টাকা তখন আমার পকেটে ছিল। আমি ইতস্তবোধ করছি তবুও হযরতের নির্দেশ পালনে চিল্লার জন্য নাম লিখাতে এগিয়ে আসি। আমি ওযর পেশ করলে হযরত জামাআতের আমীর সাহেবের হাতে আমার খরছের জন্য ২০টাকা দিয়ে চিন্থা নাই বলে দোয়া দেন। আমি চিল্লায় চলে যাই। চিল্লা শেষে জামাত যখন ঢাকা কাকরাইল মসজিদে ফিরে আসে, তখন আমি বাড়ীতে পৌছার বিষয়ে মনে মনে চিন্থা করতে থাকি, কারণ হাতে কোন টাকা নেই। আল্লাহু আকবার!কাকরাইল পৌছে শায়খে কাতিয়াকে মসজিদে দেখতে পাই। তিনি আমাকে দেখে বললেন, চলো ভাই। আমাকে নিয়ে ঢাকা থেকে হযরত শায়খে কাতিয়া তিনির মাদরাসায় চলে আসেন এবং আমাকে শিক্ষক পদে নিয়োগ দেন।” প্রায় তিন থেকে চার বছর কাতিয়া মাদরাসায় তিনি কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এলাকার পক্ষ থেকে সৈয়দপুর দারুল হাদীস মাদরাসায় নিয়োগ দানে জোর তাগিদ আসলে তিনি সৈয়দপুর মাদরাসায় শিক্ষকতা পদে যোগদান করেন এবং একাধারে প্রায় ৩৭বছর সৈয়দপুর মাদরাসায় শিক্ষকতা করেন। ২০১১ খ্রি. নিজ বার্ধক্যজনিত দূর্বলতা দেখিয়ে স্বেচ্ছায় মাদরাসা থেকে অব্যাহতি নেন। কওমি মাদরাসা অঙ্গনে কোন শিক্ষককে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি নিয়ে নিজেকে গুটিয়ে নেয়ার ঘটনা কারও জানা আছে বলে মনে হয় না। তিনি ইতিহাস সৃষ্টি করে গেলেন।
অত্যন্ত দুঃখের সাথে বলতে হয়, হুজুরের নামে মাদরাসার পক্ষ থেকে বিদায়ী কোন অনুষ্ঠানের আয়োজন হয়েছে বলে আমার জানা নেই।

 

 

 

বড় হুজুর উপাধি: সৈয়দপুর দারুল হাদীস মাদরাসার শিক্ষকতা পদে যখন তিনি যোগদান করেন শিক্ষকদের মধ্যে কয়েকজন ছিলেন তখন তাঁর ছাত্র। তন্মধ্যে মাদরাসার শিক্ষক দেশে ও প্রবাসে সকলের পরিচিত মূখ বৃটেনের শীর্ষ আলেম সৈয়দপুর মাদরাসার তৎকালীন উস্তাদ শায়েখ মাওলানা আসগর হোসাইন। মাওলানা আসগর হোসাইন তাঁর ক্লাশে ছাত্রদের দরস দিতে গিয়ে মাদরাসার নব নিয়োগকৃত শিক্ষক মাওলানা আব্দুল আউয়াল সাহেবের উদ্ধৃতি আসে। ক্লাশে উস্তাদের পক্ষ থেকে অন্য উস্তাদের আলোচনা আসায় ছাত্ররা প্রশ্ন করল’ হুজুর! তিনি আপনার হুজুর আমাদেরও হুজুর। তাহলে আমরা তিনিকে হুজুরের হুজুর বলে ডাকব না অন্য কোন কিছু সম্ভোধন করব। তিনি ছাত্রদেরকে বললেন, তোমরা আজ থেকে তিনিকে বড় হুজুর বলে ডাকবে। তখন থেকে হুজুরের নামের সাথে সংযুক্ত হয় “বড় হুজুর।” ইন্তেকালের পূর্ব পর্যন্ত মাদরাসাসহ এলাকার সকলেই তিনিকে বড় হুজুর বলেই চিনতেন ও ডাকতেন।

 

 

 

ছাত্রবৃন্দের মধ্যে অন্যতম: মাওলানা শায়েখ আসগর হুসাইন, সাবেক উস্তাদ, সৈয়দপুর দারুল হাদীস মাদরাসা, ও যুক্তরাজ্য প্রবাসী), মাওলানা মুখলিছুর রহমান,(সাবেক উস্তাদ, ঢাকা দক্ষিন হুসাইনিয়া মাদরাসা, গোলাপগঞ্জ), মরহুম হাফিজ মাওলানা সৈয়দ মুতিউর রহমান (সাবেক মুহতামীম, সৈয়দপুর দারুল হাদিস মাদরাসা), মাওলানা মোঃ জমিল আহমদ বারকুঠি (সাবেক উস্তাদ, সৈয়দপুর দারুল হাদিস মাদরাসা), মাওলানা মোঃ তারিফ উদ্দীন, সাবেক মুহাদ্দীস, সৈয়দপুর দারুল হাদিস মাদরাসা), মাওলানা মোঃ ফারুক আহমদ (উস্তাদ, সৈয়দপুর দারুল হাদিস বালিকা মাদরাসা), মাওলানা সৈয়দ মুস্তাকিম আলী (সাবেক মুহাদ্দীস, সৈয়দপুর দারুল হাদিস বালিকা মাদরাসা), মাওলানা মোঃ আব্দুর রউফ (সাবেক উস্তাদ, কুবাজপুর মাদরাসা), মাওলানা সৈয়দ মুতাহির আলী (সাবেক ইমাম ও খতীব, চৌধুরীবাড়ী জামে মসজিদ ও প্রতিষ্ঠাতা, আহমদ গুল নূরানীয়া মাদরাসা), মাওলানা মোঃ সিদ্দীক আহমদ (সভাপতি, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম, সৈয়দপুর শাহারপাড়া ইউনিয়ন), মাওলানা মোঃ সুফিয়ান খান, (শিক্ষা সচিব, সৈয়দপুর দারুল হাদিস বালিকা মাদরাসা), মাওলানা আনহার আহমদ (সাবেক শিক্ষক, ইসহাকপুর দারুল হাদীস মাদরাসা), মাওলানা মনোয়ার আলম টাইটেলী, (সাবেক সহকারী অধ্যাপক, সৈয়দপুর ফাজিল মাদরাসা), মাওলানা সৈয়দ আবুল মহসিন, (সবেক উস্তাদ, সৈয়দপুর দারুল হাদিস বালিকা মাদরাসা), হাফিজ মাওলানা সৈয়দ নূরুদ্দীন শাহজান (সাবেক মুহাদ্দীস, সৈয়দপুর দারুল হাদিস বালিকা মাদরাসা), হাফিজ মাওলানা সৈয়দ ফখরুল ইসলাম (মুহতামীম, সৈয়দপুর দারুল হাদিস মাদরাসা), হাফিজ মাওলানা সৈয়দ ইমাম উদ্দীন (ইমাম ও খতীব, সান্দারল্যান্ড জামে মসজিদ, সান্দারল্যান্ড), মাওলানা হারুন রশীদ (মুহতামীম, তেঘরিয়া বালিকামাদরাসা), হাকিম মাওলানা সৈয়দ তাজুল ইসলাম, (সাবেক শিক্ষক, মহীউসসুন্নাহ রনকেলী, গোলাপগঞ্জ), মাওলানা সৈয়দ মোশাররফ আলী, (খতীব ও ট্রাস্টী, হাক’নী সেন্ট্রাল মসজিদ ও সাবেক মহাসচিব, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম, ইউরোপ), হাফিজ মাওলানা সৈয়দ শামীম আহমদ (মুহতামীম, শামীমাবাদ মাদরাসা, সিলেট), মাওলানা মুফতি সৈয়দ নুমান আহমদ, (সাবেক শিক্ষক, সৈয়দপুর দারুল হাদীস মাদরাসা), মাওলানা সৈয়দ ফারুক আহমদ চৌধুরী, (বিশিষ্ট কমিউননিটি নেতা, যুক্তরাজ্য), মরহুম মাওলানা ফখরুল ইসলাম, সাবেক শিক্ষক, তাজপুর মাদরাসা,উসমানীনগর), মাওলানা সৈয়দ আবু আলী, (মুহতামীম, সৈয়দপুর দারুল হাদিস বালিকা মাদরাসা), মাওলানা সৈয়দ ফয়জুল হক, (মুহতামীম, রামনগর খাদীজাতুল কুবরা মহিলা টাইটেল মাদরাসা, জামালগঞ্জ), মরহুম মাওলানা হাফিজ সৈয়দ ফুজায়েল আহমদ (সাবেক শিক্ষা সচিব, সৈয়দপুর দারুল হাদিস মাদরাসা), মাওলানা হাফিজ সৈয়দ হাজী ইমদাদ উল্লাহ (মুহতামীম, দারুল হাদীস কাতিয়া মাদরাসা) মাওলানা সৈয়দ ছলিম আহমদ (ইমাম ও খতীব, ফিস মার্কেট, জিদ্দা), মাওলানা সৈয়দ আব্দুর রাজ্জাক (শিক্ষা সচিব ও মুুহাদ্দিস সৈয়দপুর দারুল হাদিস মাদরাসা), মাওলানা মিজানূল ইসলাম খান (যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী ও সাবেক শিক্ষক, সৈয়দপুর দারুল হাদিস বালিকা মাদরাসা), মাওলানা সৈয়দ মুনসিফ আলী (সাবেক ইউপি সদস্য), মাওলানা সৈয়দ বদরুল ইসলাম (বিশিষ্ট কমিউনিটি নেতা, যুক্তরাজ্য), হাফিজ মাওলানা সৈয়দ ময়নূল ইসলাম (সিনিয়র উস্তাদ, সৈয়দপুর দারুল হাদীস মাদরাসা ও সাবেক শিক্ষা সচিব, দারুল হাদিস ইসহাকপুর মাদরাসা), মাওলানা সৈয়দ মসরুর আহমদ কাসেমী, (সিনিয়র উস্তাদ ও সাবেক শিক্ষা সচিব, সৈয়দপুর দারুল হাদীস মাদরাসা), মাওলানা সৈয়দ মশহুদ হুসেন, (ইমামও খতীব, শাহজালাল মসজিদ এন্ড মাদ্রাসা, হাডার্সফিল্ড, ইউ,কে ও সাবেক প্রভাষক, সৈয়দপুর ফাজিল মাদরাসা), হাফিজ মাওলানা আলী আহমদ (সিনিয়র উস্তাদ, সৈয়দপুর দারুল হাদীস মাদরাসা), মাওলানা মোঃ মওসুফ আহমদ (মুহাদ্দীস, এশা’আতুল উলুম মাদরাসা, লন্ডন ও মহাসচিব, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম, ইউরোপ), মরহুম মাওলানা সৈয়দ আখতার আহমদ (সাবেক মুহতামীম, দারুল হাদীস শামছিয়া মহিলা মাদরাসা), মাওলানা মোঃ আ’লা উদ্দীন (ইমাম ও খতীব, মসজিদুল আবরার, চাথাম, ক্যান্ট, লন্ডন), মাওলানা মোঃ শাহিন আহমদ,(মুহতামীম, শাহারপাড়া শাহকামাল মাদরাসা), হাফিজ মাওলানা সৈয়দ জুবের আহমদ, (যুক্তরাজ্য), মাওলানা সৈয়দ আশফাক হোসেন, সদস্য গভর্ণিং বডি, সৈয়দপুর ফাজিল মাদরাসা), মাওলানা সৈয়দ ফয়েজ আহমদ (যুক্তরাজ্য), মাওলানা মোহাম্মদ আহমদ জাকারিয়া (যুক্তরাজ্য), হাফিজ মাওলানা সৈয়দ জুনাইদ আহমদ (যুক্তরাজ্য) হাফিজ মাওলানা সৈয়দ তামিম আহমদ, (মহাসচিব, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম, ইউকে) এবং হাফিজ সৈয়দ জিয়াউল ইসলাম, ইমাম ও খতীব, হেন্ডন জামে মসজিদ, সান্দারল্যান্ড সিটি) প্রমূখ।

 

 

 

আমাদের সম্পর্ক: আমাদের পরিবারের সাথে ছিল তিনির আত্মার সম্পর্ক। আব্বাজান রহ.কে তিনি মামুজি বলে ডাকতেন। মরহুমের ভাষ্যমতে “আমাদের দাদীজান তাঁকে খুব শ্নেহ করতেন। বাড়ীতে গেলেই ছোট বেলায় আমাদের দাদীর কাছ থেকে শ্নেহভরা মায়াদয়ার কথা বেশি বেশি বলতেন। তাছাড়া তিনি ছিলেন আমাদের দোলা ভাই।

 

 

২০০৫ খ্রি. হঠাৎ আমাকে খবর দিলেন ভাগিনা মাওলানা সৈয়দ রশিদের মাধ্যমে। বাড়ীতে গেলাম। আমাকে দেখে বললেন, ”প্রিন্সিপাল আসছও! বড় বোনকে ডাকলেন এবং বলতে শুরু করলেন; আমার খালেদ (তিনির ছোট ছেলে) কারও কথা শুনে না, আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি তাকে তোমার হাওলা করতাম। তুমি দায়িত্ব নিয়ে তাকে মানুষ বানাইতায়।” আমি চিন্থায় পড়ে গেলাম, হুজুরের সাহেবজাদা তাছাড়া ভাগিনা; এত্তোবড় দায়িত্ব; কতটুকু স্বার্থক ফলাফল দেখাতে পারবো। দোয়া নিয়ে বিদায় নিলাম। পরের দিন, খালেদ ভর্তি হতে মাদরাসায় আসে। মাদরাসার দু’জন শিক্ষককে তার বিষয় জানিয়ে তার প্রতি নজরদারী করতে অনূরুধ করি। আলহামদুলিল্লাহ! দাখিল এবং আলিম ভাল ফলাফল অর্জন করে ফতেহপুর থেকে ফাজিল পাশ করে কামিল শেষের দিকে। অপরদিকে কওমী মাদরাসা থেকে দাওরা সমাপনী। হুজুরকে দেখতে গেলেই দোয়া করতেন।

 

 

আজ তিনি আমাদের ছেড়ে চলে গেলেন। দোয়ার ভান্ডার আস্তে আস্তে আমরা হারাতে যাচ্ছি। কার কাছে গিয়ে নিজের বেদনা শেয়ার করবো। আমাদের কাছে নিয়ে কে বসাবে? প্রান খুলে অতীত হওয়া মুরুব্বীদের কথা কে শুনাবে? আমরা হারিয়েছি আমাদের দোয়ার জায়গা, পরামর্শের জায়গা, হারিয়েছি একজন অভিভাবক।
রাব্বে কারীম, আমাদের শুণ্যস্থান পূরণ করে গাইবি খাজানা থেকে যোগ্য মুরুব্বী ও অবিভাবক তৈরী করে দাও। ওগো মাবুদ! আমাদের প্রান প্রিয় বড় হুজুরের দীর্ঘ প্রায় ৫৬ বছরের দ্বীনের খেদমত কবুল করুন, তাঁকে জান্নাতের উঁচু মাকাম নসীব করুন। আমীন।

 

লেখক: অধ্যক্ষ, সৈয়দপুর ফাজিল মাদ্রাসা, জগন্নাথপুর, সুনামগঞ্জ।