jagannathpurpotrika-latest news

আজ, ,

সর্বশেষ সংবাদ
«» মহানবীর ব্যঙ্গচিত্রের প্রতিবাদে ওসমানীনগরে বিক্ষোভ «» জগন্নাথপুরে সৈয়দপুর-শাহারপাড়া ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডে ২০২০-২১ অর্থ বছরের ওয়ার্ড সভা অনুষ্ঠিত «» জৈন্তাপুরে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন করলেন প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী «» ফ্রান্সে বিশ্বনবী (সা.)কে নিয়ে ব্যঙ্গচিত্র প্রদর্শনের প্রতিবাদে জগন্নাথপুরে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত «» মহানবী (সাঃ)কে অবমাননার জন্য ফ্রান্সকে মুসলমানদের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে- মনসুরুল আলম মনসুর «» শিবগঞ্জে আ’লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত ১২ «» জগন্নাথপুরে যুবদলের ৪২তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত «» প্রবাসীরা নাড়ির টানে কষ্ঠার্জিত অর্থ দিয়ে এলাকার উন্নয়নে কাজ করেন : বিশ্বনাথে নাদেল «» সিলেটে অনশন ভাঙালেন মেয়র আরিফ «» খেলাফত মজলিস নেতা আলহাজ সৈয়দ আতাউর রহমানের ইন্তেকালে মজলিস নেতৃবৃন্দের শোক



সামর্থের আলোকে ফিতরা আদায় করুন, অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ান!

-মাওলানা মুহাম্মদ ওলীউর রহমান-

ঈদুল ফিতিরের দিন সূর্যোদয়ের পূর্বে যার নিকট যাকাত ফরজ হওয়ার পরিমাণ অর্থ-সম্পদ থাকে তার ্উপর ফিতরা ওয়াজিব। সাধারণত সাড়ে ৭ তোলা (৮৫ গ্রাম) সোনা বা সাড়ে ৫২ তোলা (৫৯৫ গ্রাম) রূপা অথবা তার সমমূল্যের সম্পদ যখন কোন ব্যক্তির জীবন ধারণের অত্যাবশ্যকীয় উপকরণাদীর অতিরিক্ত হবে এবং পূর্ণ এক বছর সে ঐ সম্পদের মালিক থাকবে তখন তার উপর যাকাত ফরজ হবে। তবে ফিতরার জন্য এক বছর পূর্ণ হওয়া শর্ত নয় বরং কেউ ঈদের দিনেই এই পরিমাণ সম্পদের মালিক থাকে তাহলে সে ফিতরা আদায় করতে হবে। ফিতরা আদায়ের মাধ্যমে একমাস রোজা পালনের ক্ষেত্রে যেসব ত্রুটি-বিচ্যুতি হয়েছে রোজা এ থেকে পরিশুদ্ধতা লাভ করে আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্যতা লাভ করে এবং এই ফিতরা প্রদানের মাধ্যমে অভাবী মানুষেরা অন্তত ঈদের দিনে কিছু খুশীতে অংশ নিতে পারে। হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, রোজাকে অশ্লীল ও অনর্থক কথাবার্তা থেকে পরিচ্ছন্ন করা এবং দরিদ্র্যদের পাওনা স্বরূপ রাসূল (সা.) সাদকায়ে ফিতর ওয়াজিব করেছেন। -আবু-দাউদ, মিশকাত

ফিতরা কাদের পক্ষ থেকে এবং কখন আদায় করতে হবে:

ফিতরা নিজের এবং নিজের নাবালেগ সন্তানদের পক্ষ থেকে আদায় করতে হবে। এবং পরিবারের ভরণ-পোষণে নির্ভরশীল বালেগ সন্তান, স্ত্রী ও মাতা-পিতা, চাকর-চাকরানীর ফিতরা দেয়াও গৃহ কর্তার দায়িত্ব। নাবালেগ সন্তানরা যদি মালদার হয় তাহলে ফিতরা তাদের মাল থেকে আদায় করা যাবে। (তাহতাবী) ঈদের নামাজের পূর্বে ফিতরা আদায় করা বাঞ্ছনীয়। তবে কোন কারণবশত ঈদের নামাজের পূর্বে আদায় না করতে পারলে নামাজের পরে এবং ঈদের দিনের আগেও ফিতরা আদায় করা জায়েজ আছে। (মারাকিউল ফালাহ)

ফিতরার সর্বোচ্চ ও সর্ব নিম্ন পরিমাণ:

খেজুর, খুরমা, পনির, কিশমিশ, আটা, ময়দা এই বস্তুগুলোর চলমান বাজার মূল্য দ্বারা ফিতরার মূল্য নির্ধারণ করা হয়। খেজুর, খুরমা, যব, কিশমিশ, পনির দিয়ে ফিতরা আদায় করলে এর পরিমাণ হলো এক সা’ বা ৩ কেজি ৩০০ গ্রাম। আর আটা, ময়দা দ্বারা যদি ফিতরা দেয়া হয় তাহলে এর পরিমাণ হলো অর্ধ সা’ বা ১ কেজি ৬৫০ গ্রাম। অর্থাৎ এই পরিমাণ খাদ্য বা তার মূল্য একজনের পক্ষ থেকে আদায় করতে হবে। খেজুর বাজারে বিভিন্ন মানের রয়েছে। যে মানের খেজুর নির্ধারণ করবেন সে অনুযায়ী ফিতরার মূল্য ও নির্ধারিত হবে। আটা এবং ময়দার বাজার মূল্য থেকে কিছুটা বেশি ধরা হলে অসুবিধা নেই কিন্তু পরিমাণের চেয়ে কম হলে ফিতরা আদায় হবে না। স্থানও কালভেদে এসব দ্রব্যের দাম কমবেশ হলে ফিতরার মূল্যও কমবেশ হবে।

সামর্থের আলোকে ফিতরা আদায় করা জরুরী:

প্রত্যেক সামর্থবান ব্যক্তি নিজ সামর্থের আলোকেই সাদকাতুল ফিতর আদায় করা উচিত। রাসূল স. এর যুগে সাধারণত কিশমিশ, খেজুর, খুরমা ইত্যাদি দিয়েই ফিতরা আদায় করা হত। ঈদুল আযহায় যেভাবে বিত্তশালীরা বেশি মূল্যের পশু কুরবানী করেন এবং মধ্যবিত্তের লোকেরা মধ্যম দামের পশু কুরবানী করে থাকেন, অনুরূপ ঈদুল ফিতরেও বিত্তশালীরা বেশি দামের ফিতরা দেয়া এবং কম বিত্তের লোকেরা তার সামর্থের আলোকে ফিতরা আদায় করাই উচিত। মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত সবাই একেবারে কম মূল্যের দ্রব্য দিয়ে ফিতরা আদায় করা উচিত না। সবাই আটা দিয়ে ফিতরা না দিয়ে পনির, খেজুর, খুরমা, কিশমিশ ইত্যাদি দ্রব্য দিয়ে ও ফিতরা আদায় করা দরকার। এতেকরে দরিদ্য্র লোকেরা বেশি উপকৃত হবে।

ফিতরা দরিদ্র মানুষের অধিকার:

ফিতরা কেবল দান-খয়রাতের নাম নয়, এটা দরিদ্র্য মানুষের অধিকার। এ অধিকার সংরক্ষিত সম্পদশালীদের সম্পদে। দান-খয়রাতের ক্ষেত্রে গোপনীয়তা অবল্বন করা উত্তম। এমনকি যাকে দানকরা হচ্ছে সে যদি বুঝতে না পারে যে, তাকে দান-খয়রাতের টাকা বা মাল দেয়া হচ্ছে তাহলে সেটা আরো উত্তম। যারা দান-খয়রাত করেন তারা অবশ্য লোকদেখানোর মানসিকতা পরিহার করতে হবে। অন্যথায় আল্লাহর কাছে তাদের দান-খয়রাত গ্রহণযোগ্য হবেনা। চিত্ত ও সম্পদের পরিশোধন এবং আল্লাহর কাছে রোজার গ্রহণযোগ্যতা লাভের জন্য আল্লাহ পাক আমাদেরকে গুরুত্ব সহকারে ফিতরা আদায় করার তাওফিক দান করুন।

লেখক: পেশ ইমাম ও খতীব, পূর্বভাটপাড়া জামে মসজিদ, ইসলামপুর, সিলেট- মোবাইল: 01714-608726