jagannathpurpotrika-latest news

আজ, ,

সর্বশেষ সংবাদ
«» লবণ নিয়ে গুজব, বড়লেখায় সাত প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা «» কমলগঞ্জে টমেটোর বাম্পার ফলন «» গোয়াইনঘাটে টাকার জন্য বিদ্যালয় আঙ্গিনায় পশুরহাট ইজারা! «» সিলেটে কম দামে পেঁয়াজ কিনতে গিয়ে দুই নারী-পুরুষ গুলিবিদ্ধ «» ছাতকে অর্থদন্ডে সাজা প্রাপ্ত পলাতক আসামী গ্রেফতার «» জগন্নাথপুরে ছাত্রলীগ নেতা দলীয় প্রভাবে প্রবাসীর ভূমি দখল «» বড়লেখায় বানরের আক্রমণে অাহত ২৫, আতঙ্কে এলাকাবাসি «» কোন পীর কারো জান্নাতের জামিন হতে পারেন না: সিলেটে পীর চরমোনাই «» জাতীয় লেখক পরিষদের আত্মপ্রকাশ «» ছাতক-দোয়ারার মুহিবুর রহমান মানিকের বিরুদ্ধে কু-রুচিপূর্ন বক্তব্যের প্রতিবাদে ঝিগলীতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা



সিলেট জেলা অাওয়ামী লীগের সম্মেলনে শীর্ষ নেতৃত্বে আলোচনায় ৭ নেতা

জেএসবি টুয়েন্টিফোর ডেস্ক :: সিলেট জেলা আওয়ামী লীগে এখন আলোচনা একটাই, সম্মেলন। আর সম্মেলন কেন্দ্র করে আসছে পদপদবীর আলোচনাও। সিলেট জেলা আওয়ামী লীগে সভাপতি পদে কে আসছেন, এ নিয়ে নানা জল্পনাকল্পনা চলছে দলটির নেতাকর্মীদের মধ্যে। গুরুত্বপূর্ণ এ পদে অন্তত সাত নেতার নাম আলোচিত হচ্ছে।

 

 

আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা গেছে, সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন আগামী ৫ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। সম্মেলনে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, যুগ্ম সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত থাকবেন। এ সম্মেলনের মাধ্যমে দীর্ঘ প্রায় ৮ বছর পর নতুন নেতৃত্ব আসবে সিলেট জেলা আওয়ামী লীগে।

 

 

জানা গেছে, আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে জেলা শাখার সভাপতি পদে সাত নেতার নাম ঘুরপাক খাচ্ছে। তাঁরা হলেন- এডভোকেট লুৎফুর রহমান, শফিকুর রহমান চৌধুরী, মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী কয়েস, মাসুক উদ্দিন আহমদ, আশফাক আহমদ, আহমদ আল কবির ও মুক্তিযোদ্ধা সাদ উদ্দিন।

 

 

এডভোকেট লুৎফুর রহমান বর্তমানে সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি। ২০১৫ সালের ৯ সেপ্টেম্বর জেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সভাপতি আব্দুজ জহির চৌধুরী সুফিয়ান মারা যাওয়ার পর ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব পান লুৎফুর। ২০১৬ সালের ২৮ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত জেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে বিজয়ী হন তিনি। আওয়ামী লীগের এবারের সম্মেলনে ‘ভারমুক্ত’ হতে চান লুৎফুর।

 

তিনি জানান, ‘আমি এবার সম্মেলনে সভাপতি পদে আছি। সম্মেলনে যদি কাউন্সিলরদের ভোট গ্রহণ করা হয়, আমি সভাপতি পদে প্রার্থী হবো। আশা করি, আমি থাকা অবস্থায় অন্য কেউ এ পদে প্রার্থী হবেন না। তবে কেউ প্রার্থী হলেও আমি বিজয়ী হবো।’ তিনি বলেন, ‘সিলেটে দলের সকল শাখার সবাই আমার সাথে আছেন। আমার সাথে যোগাযোগ করছেন।’

 

 

সিলেট-৩ আসনের টানা তিনবারের সাংসদ মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী কয়েস; যিনি জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি পদে আছেন। এবার সম্মেলনের মাধ্যমে সভাপতি পদে আসতে চান তিনি। এ লক্ষ্যে ‘মানসিক প্রস্তুতি আছে’ বলেও জানিয়েছেন কয়েস।

 

মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী কয়েস জানান, ‘১৯৬৮ সাল থেকে সিলেটে আওয়ামী লীগের রাজনীতি দেখে আসছি, ৫১ বছর হয়ে গেছে। বিগত দিনে সভাপতি পদে আসার মানসিক প্রস্তুতি ছিল না। তবে এবার আছে। যদি নেত্রী (শেখ হাসিনা) চান, তবে আমি আছি।’ তিনি বলেন, ‘সম্মেলনে যদি ভোটের মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্বাচিত হয়, তবে দলের নেতাকর্মীরা চাইলে আমি আছি।’ সভাপতি হতে পারলে সিলেট জেলা আওয়ামী লীগকে ‘ডিজিটালাইজড’ করতে চান মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘সংসদে সবাই আমাকে ‘ডিজিটাল এমপি’ বলেন। আমি নতুন আঙ্গিকে সিলেট জেলা আওয়ামী লীগকে সাজাতে চাই। নেত্রী কি চান, আমি জানি। সে আলোকেই কাজ করবো। আমার পদ্ধতি হবে ভিন্ন, সবকিছু হবে ডিজিটাল।’

 

 

জানা গেছে, সভাপতি পদে নেতাকর্মীদের মধ্যে বেশ আলোচিত হচ্ছে শফিকুর রহমান চৌধুরীর নাম। তিনি বর্তমানে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-২ আসন থেকে সাংসদ নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বি ছিলেন বিএনপির প্রভাবশালী নেতা, বর্তমানে ‘নিখোঁজ’ ইলিয়াস আলী।

 

 

একাধিক আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী জানান, শফিক চৌধুরী দলের জন্য অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছেন। দলের সিদ্ধান্ত মেনে নেতাকর্মীদের চাওয়া স্বত্বেও দু’বার তিনি জাতীয় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে বিরত থাকেন। দলের জন্য সবসময় কাজ করেন বলে তিনি ‘চব্বিশ ঘন্টার রাজনীতিবিদ’ হিসেবেও পরিচিত। এজন্য তিনি সভাপতি হলে দল আরো গতিশীল হবে। শফিক চৌধুরীও নেতাকর্মীদের চাওয়াকে সম্মান দিতে চান। তবে তিনি বলছেন, পদের জন্য নয়, মানুষের জন্য তিনি রাজনীতি করেন। তিনি বলেন, ‘যদি নেত্রী (শেখ হাসিনা) দেন আর নেতাকর্মীরা চায়, তবে আমি সভাপতি পদে আগ্রহী আছি। তবে আমি কোনো পদের জন্য রাজনীতি করি না। রাজনীতি হচ্ছে মানুষের কল্যাণের জন্য।’

 

 

সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি পদে বর্তমান সহসভাপতি ও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আশফাক আহমদ, বর্তমান সহসভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মাসুক উদ্দিন আহমদ, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক সাদ উদ্দিন আহমদ এবং যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য আহমদ আল কবিরের নামও শোনা যাচ্ছে।

 

 

মুক্তিযোদ্ধা মাসুক উদ্দিন আহমদ জানান, ‘রাজনীতিতে প্রায় ৫২ বছর হয়ে গেছে। সবসময় পরিষ্কার, পরিচ্ছন্ন থেকেছি। নেত্রী যে সিদ্ধান্ত দেন, তিনি যদি কর্মী হিসেবে রাখেন তাও আছি, দায়িত্ব দিলেও আছি।’

 

মাসুক উদ্দিন আহমদও ২০১৩ সালের নির্বাচনে সিলেট-৫ আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছিলেন। পরে আসটি জাতীয় পার্টিকে ছেড়ে দিলে দলীয় প্রধানের নির্দেশে তিনি মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন।

 

সাদ উদ্দিন আহমদ জানান, ‘কেন্দ্র থেকে সিগন্যাল আসবে। এখনও আসেনি। এজন্য আগেভাগে কিছু বলতে চাই না। দেখা যাক।’