jagannathpurpotrika-latest news

আজ, ,

সর্বশেষ সংবাদ
«» গলায় ফাঁস দিয়ে শাবি শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা «» সিনহা হত্যা: ওসি প্রদীপ পুলিশ হেফাজতে «» ছাতকে খেলাফত মজলিসের ঈদ পুনর্মিলনী ও নির্বাহী বৈঠক অনুষ্ঠিত «» ছাতকে নামাযরত অবস্থায় মুসল্লি তৈয়ব আলীর মৃত্যু «» ছাতকে একতার অভিষেক ও ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান সম্পন্ন «» জগন্নাথপুরে চিলাউড়া ছাত্র ফোরামের ঈদ পুনর্মিলনী ও প্রীতি সমাবেশ সম্পন্ন «» সিলেটে এম. সাইফুর রহমান ও আ.ফ.ম কামাল হোসেনের নামে চত্বর স্থাপনের দাবি «» একজন আদর্শ শিক্ষক অধ্যক্ষ মাওঃ শামছুজ্জামান চৌধুরী «» ঈদ-উল- আযহা উপলক্ষে দেশবাসী ও মুসলিম উম্মাহকে খেলাফত মজলিসের শুভেচ্ছা «» জগন্নাথপুর উপজেলা কালচারাল ফোরাম এর নব-গঠিত কমিটিকে অভিনন্দন জানিয়ে আলোচনা সভা ও নগদ অর্থ বিতরণ



তুহিন হত্যা: আইয়্যামে জাহেলিয়াতকে ও হার মানিয়েছে

।। মাজহারুল ইসলাম জয়নাল ।।

 

সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার খেজাউরা গ্রামের তুহিন নামক নিষ্পাপ শিশুটির হত্যার ঘটনা অন্যদের মতো আমাকেও নাড়া দিয়েছে। নিষ্পাপ শিশুটির হত্যাকান্ডের নিষ্টুর চিত্র দেখে চোখের পানি আটকানো সত্যিই কঠিন।বুকের ভেতরটা কেমন জানি ধড়পড় করছে, প্রতিবাদের ভাষা হারিয়ে ফেলেছি। মাঝে মাঝে মনে হচ্ছে তুহিন হত্যাকারীরা আসলেই কি মানুষ? না মানুষের সুরতে পশু!কারণ মানুষেরা তো এত পাষাণ রৃদয়ের হওয়ার কথা নয়।এটা কি আমার বাংলাদেশ! নাকি অন্য কোন ভিনদেশের অসভ্য জংলী বনমানুষের ভিন্ন কোন জায়গায় আমরা বসবাস করছি! আইয়্যামে জাহেলিয়াতে ও এমন নির্দয়, নিষ্টুর, অমানবিক হত্যাকান্ড সংগঠিত হয়েছিল বলে আমার জানা নাই।

 

 

সম্প্রতি দেশজুড়ে শিশু হত্যা আর ধর্ষণের যেন মহোৎসব চলছে তা আমার কাছে আইয়ামে জাহেলিয়াত বা অন্ধকার যুগের চেয়ে ও খারাপ মনে হচ্ছে। অথচ আমরা নিজেদেরকে যতই সভ্য জাতি হিসেবে প্রমাণ করতে চাচ্ছি ততই আমরা যেন অসভ্য জাতিতে পরিণত হয়ে যাচ্ছি। তুহিন নামক নিষ্পাপ জান্নাতের পাখিটির কি অপরাধ ছিল?
না মানুষ হিসেবে জন্মগ্রহণ করাই তার অপরাধ ছিল?

যে সমাজের আইনের মারপ্যাঁচে হত্যাকান্ডের বিচার হয় না, কিংবা বিলম্বিত হয় সে সমাজে হত্যা, ধর্ষণ দিন দিন বাড়তেই থাকবে। শিশু হত্যার সাম্প্রতিক জরিপগুলো বলছে,

 

চলতি বছরের ২০১৯ সালের প্রথমার্ধে গড়ে মাসে ৩৪ শিশুর বেশি খুন হয়েছে। খুনের শিকার অর্ধেকের বেশি শিশুর বয়স ১২ বছরের নিচে। গত সাড়ে চার বছরে হত্যার শিকার মোট শিশুর সংখ্যা দেড় হাজারের বেশি।

 

পারিবারিক সহিংসতা, অপহরণ ও ধর্ষণের কারণে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শিশুহত্যার ঘটনা ঘটেছে। শিশুদের নিয়ে কাজ করেন এমন ব্যক্তিরা বলছেন, শিশুহত্যার সংখ্যা ও ধরণ উদ্বেগজনক। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, বিচারহীনতা ও পারিবারিক মূল্যবোধের অবক্ষয়ের কারণে শিশুহত্যা বাড়ছে।

 

 

বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরামের (বিএসএএফ) বছরওয়ারি পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে এই তথ্য পাওয়া গেছে। বিএসএএফ শিশু অধিকার বিষয়ে কাজ করে এমন ২৬৯টি বেসরকারি সংস্থা বা এনজিওগুলোর জাতীয় নেটওয়ার্ক।

 

বিএসএএফের গত সাড়ে চার বছরের পরিসংখ্যান বলছে, শিশুহত্যা বাড়ছে। ২০১৯ সালের প্রথম ছয় মাসে মোট ২০৫টি শিশু হত্যার শিকার হয়েছে। ২০১৮ সালে সে সংখ্যা ছিল ৪১৮, এর আগের বছর ছিল ৩৩৯। আগেও শিশুহত্যার একই প্রবণতা দেখা গেছে।

 

 

দেশ বড় ধরনের বিপর্যয়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে আইন ও সালিশ কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক শীপা হাফিজা বলেন, সহিংসতার ধরণ দিন দিন ভয়ংকর হচ্ছে। মানুষ বেপরোয়া হচ্ছে, কোনো অপরাধ করতেই দ্বিধা করছে না। অপরাধ কমাতে শাস্তি দ্রুত ও দৃশ্যমান করতে হবে। (সূত্র: প্রথম আলো)

 

 

শিশু হত্যার মূল কারণ হচ্ছে, অপরাধী দের ছাড় দেওয়া কিংবা উপযুক্ত বিচার না করা।
দুংখজনক হলে ও সত্য আজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান,ঘরে-বাইরে সর্বত্রই বাচ্চাদের নিরাপত্তা দিতে আমরা ব্যর্থ হচ্ছি। প্রতিটি সূচকেই গত বছরের চেয়ে শিশুর প্রতি হত্যা নিপীড়ন বেড়েই চলছে

অর্থ্যাৎ আমরা শিশুদের নিরাপত্তা দিতে পারছি না। অপরাধীরা মনে করে না যে তাদের উপযুক্ত শাস্তি হবে। দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়ার কারণে দোষী ব্যক্তির শাস্তি নিয়ে আস্থা নেই মানুষের।সবচেয়ে বড় কারণ হচ্ছে মানবিক মূল্যবোধের অবক্ষয়। মানুষ যখন তার মানবিক মূল্যবোধ হতে পশুর বৈশিষ্ট্যে চলে যায়, তখন সে হিংস্র জানোয়ার হতেও আরো নিকৃষ্ট হয়।

 

তুহিন এর খুনিরাত বনের হিংস্র প্রাণীর চেয়ে নিকৃষ্ট,কারণ একটা নিষ্পাপ শিশুকে হত্যা করেও তাদের পশুত্ব থামেনি বরং তারা তুহিনের কান ও লিংগ কে কেটে দিয়েছে এবং হত্যার পরে তার পেটের মধ্যে দুটি চাকু ঢুকিয়ে রেখেছে,কি পাষাণহৃদয় খুনিদের।

 

 

পত্রিকা মাধ্যমে জানলাম তুহিন হত্যার খুনি নাকি তার পিতা নিজেই, এটা বলতে কেন জানি গা শিউরে উটে।একজন পিতা দাবিদার তার সন্তানকে কিভাবে নিজ হাতে খুন করলো। সে কখনো পিতা হতে পারে না; সে বনের হিংস্র জানোয়ারের চেয়েও নিকৃষ্ট।

 

মাননীয় প্রধান মন্ত্রির নিকট বিনীত অনুরুধ, মানুষরুপী এই জানোয়ারটাকে জনসম্মুখে ফাসির কাষ্টে ঝুলিয়ে বিচার কার্যকর করুন।
তাই আসুন, নিষ্পাপ শিশু হত্যাকারী ও ধর্ষণকারীদেরকে সামাজিক ভাবে বয়কট করার পাশাপাশি জনসম্মুখে তাদের ফাঁসি কার্যকর করার আন্দুলন গড়ে তুলি।এবং দ্রুত বিচার আইনে সল্পতম সময়ের ভিতরে অপরাধীদেরকে আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্ছ শাস্তি মৃত্যুদন্ড কার্যকর করতে পারলেই হয়তবা আমরা শিশুদের নিরাপত্তা দিতে পারবো।

 

লেখক: প্রাবন্ধিক ও কলামিস্ট, মোবাঃ 01748237131