jagannathpurpotrika-latest news

আজ, ,

সর্বশেষ সংবাদ
«» লবণ নিয়ে গুজব, বড়লেখায় সাত প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা «» কমলগঞ্জে টমেটোর বাম্পার ফলন «» গোয়াইনঘাটে টাকার জন্য বিদ্যালয় আঙ্গিনায় পশুরহাট ইজারা! «» সিলেটে কম দামে পেঁয়াজ কিনতে গিয়ে দুই নারী-পুরুষ গুলিবিদ্ধ «» ছাতকে অর্থদন্ডে সাজা প্রাপ্ত পলাতক আসামী গ্রেফতার «» জগন্নাথপুরে ছাত্রলীগ নেতা দলীয় প্রভাবে প্রবাসীর ভূমি দখল «» বড়লেখায় বানরের আক্রমণে অাহত ২৫, আতঙ্কে এলাকাবাসি «» কোন পীর কারো জান্নাতের জামিন হতে পারেন না: সিলেটে পীর চরমোনাই «» জাতীয় লেখক পরিষদের আত্মপ্রকাশ «» ছাতক-দোয়ারার মুহিবুর রহমান মানিকের বিরুদ্ধে কু-রুচিপূর্ন বক্তব্যের প্রতিবাদে ঝিগলীতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা



সুনামগঞ্জে সুরমা ও ধোপাজান নদীতে চাঁদাবাজি থামছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক :: নৌপথে চাঁদাবাজি বন্ধে প্রশাসনের ‘জিরো টলারেন্স’ ঘোষণার পরও চাঁদাবাজি থামছে না। বরং চাঁদাবাজদের একাধিক সিন্ডিকেট আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। এতে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন সুনামগঞ্জের সুরমা ও ধোপাজান নদীতে মালবাহী নৌযানের চালক ও ব্যবসায়ীরা।

নৌযান চালক ও ব্যবসায়ীদের একাধিক সূত্র জানায়, বালু-পাথর ডাম্পিং এলাকা ঘিরে সুরমা ও ধোপাজান নদীর মোড়ে মোড়ে প্রায় দেড় ডজন চাঁদাবাজ সিন্ডিকেট নামে-বেনামে বিভিন্ন রশিদ ও টোকেনের মাধ্যমে প্রতিদিনই লাখ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, জেলার অন্যতম ব্যবসায়িক প্রাণকেন্দ্র ছাতক থেকে সিলেট জেলার গোয়াইনঘাট এবং ছাতক থেকে সুরমা নদীর প্রবাহ ধরে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় বালি-পাথর সরবরাহ করেন স্থানীয় ও অস্থানীয় ব্যবসায়ীরা। আর এই বালু-পাথর পরিবহনে বাল্কহেড, কার্গো, স্টিলবডি নৌকাসহ প্রভৃতি নৌযান চলাচলের সুবাদে প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় থেকে সংঘবদ্ধ চাঁদাবাজরা নদীর চলতি পথে এই চাঁদা উত্তোলন করছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বালু-পাথর ব্যবসায়ী এবং নৌকার চালকরা জানিয়েছেন, ছোট ছোট ট্রলার নিয়ে চাঁদাবাজরা মালামাল বহনকারী নৌ-পরিবহনের পিছু নেয় এবং জোর করে চাঁদা আদায় করে। কমপক্ষে ১৫ প্রকার টোকেন দেখিয়ে চাঁদাবাজরা বিভিন্ন স্থানে নৌযান আটকিয়ে প্রতিটি বাল্কহেড, কার্গো, স্টিলবডি নৌকা থেকে ৫শ থেকে এক হাজার টাকা করে চাঁদা আদায় করে নিচ্ছে। এসব চাঁদার টোকেনে নাম হিসেবে রয়েছে- উজান-ভাটি, চলতি নদী, বিআইডব্লিউটিএ, বাঁশ মার্কা, ইউনিয়ন পরিষদ ট্যাক্স, পৌরসভার নিলাম ট্যাক্স প্রভৃতি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার হালুয়ারঘাট ও আমবাড়ি নামক স্থানের মাঝামাঝি এবং সুনামগঞ্জ সুরমা নদীর উপর নবনির্মিত আব্দুর জহুর সেতু সংলগ্ন সুরমা নদীতে, ওয়েজখালির ভাটিতে দাপটের সাথে চাঁদাবাজি করছে উজান-ভাটি, বিআইডব্লিউটিএ, চলতি নদী নামক টোকেনধারী একাধিক সিন্ডিকেট। প্রভাবশালী বলয়ের ছত্রছায়ায় লালিত এসব চাঁদাবাজ সিন্ডিকেটের সদস্যরা অত্যন্ত বেপরোয়া ও মারমুখী অবস্থায় নৌযানে হানা দিয়ে থাকে। নৌযানে থাকা শ্রমিকরা চাঁদা প্রদান না করলে তাদেরকে বেদম মারপিট করে চাঁদাবাজরা।

বালু-পাথর ব্যবসায়ী আনিসুর রহমান রনি জানান, ওইসব চাঁদাবাজ সিন্ডেকেটের যন্ত্রণায় স্থানীয় এবং দূর-দূরান্তের ব্যবসায়ী ও পরিবহনে সংশ্লিষ্টরা অতিষ্ঠ। কিন্তু এই উৎপাত থেকে মুক্ত থাকার কোন পথ আমরা দেখছি না। কারণ এই কাজে পরোক্ষভাবে প্রভাবশালীরা জড়িত রয়েছেন। যে কারণে প্রাণের ভয়ে এসব দুধর্ষ ও বেপরোয়া সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পায় না। আর প্রতিবাদ করলেও প্রতিকার পাওয়া যায় না। তাই বাধ্য হয়ে সিন্ডিকেটের চাহিদা মতো নদীর বাঁকে বাঁকে চাঁদা না দেওয়া ছাড়া আর কোন উপায় নেই।

সুনামগঞ্জ ব্যবসায়ী সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক হাবিব আহমদ জানান, সংঘবদ্ধ চাঁদাবাজরা ধোপাজান অংশে ডাম্পিং কেন্দ্র ডলুরা, জিনারপুর, বালাকান্দি, মনিপুরিঘাট, উড়ারকান্দা, অক্ষয়নগর, ইব্রাহিমপুর, সদরগড়, সুনামগঞ্জ পৌরসভার অভ্যন্তরে বড়পাড়া, মল্লিকপুর, ওয়েজখালি, হবতপুর, টুকেরবাজার প্রভৃতি স্থানে প্রতিদিন বালু-পাথরবাহী নৌযান আটকে বিভিন্ন নামের টোকেন দেখিয়ে চাঁদা আদায় করে। নৌকার ধরণ অনুযায়ী চাঁদার পরিমাণ কম-বেশি হয়ে থাকে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নৌযানের চালকরা জানান, প্রতি কার্গো, বাল্কহেড থেকে চাঁদা না দিলে তাদের বেদম মারধর করাসহ প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। ট্রিপ নিয়ে চলতি পথে নৌপথ তাদের কাছে ভয়ংকর। এভাবে চলতে থাকলে এক সময় নৌযান পরিবহন বন্ধ হয়ে যাবার আশঙ্কা রয়েছে বলে চালকরা মনে করেন।

এদিকে বিআইডব্লিউটিএর আশুগঞ্জ-ভৈরব বাজার নদী বন্দর, ভৈরব-এর উপ-পরিচালক মো. আসাদুজ্জামানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, নদী দিয়ে ভাসমান চলন্ত নৌকা, বাল্কহেড, কার্গো বা ট্রলারকে টোল দিতে হবে না কোথাও। সুনামগঞ্জের সুরমা নদীতে বিআইডব্লিইটিএ’র আওতায় শুল্ক আদায় কেন্দ্র নামে অন্য কোন ঘাট বা পয়েন্ট ইজারা দেওয়া নেই। কেউ বিআইডব্লিউটিএ’র নামে কোন ঘাটে টোল আদায় করলে, সেটি বেআইনি ধরে নিতে হবে।

সুনামগঞ্জ পৌরসভার মেয়র নাদের বখত বলেন, পৌরসভার অন্তর্গত সুরমা নদীর তীরে নৌযান থেকে বালু-পাথর ডাম্পিং করলে ট্যাক্স দিতে হয়। তবে চলন্ত নৌযান থেকে চাঁদা আদায়ের কোনো নিয়ম নেই।