jagannathpurpotrika-latest news

আজ, ,

সর্বশেষ সংবাদ
«» দক্ষিণ সুনামগঞ্জে অধ্যক্ষ রবিউল ইসলাম আর নেই «» সুনামগঞ্জে ধানের বিকল্প হিসেবে চাষ হচ্ছে ভুট্টা, সরিষা ও সূর্যমুখী «» ঘুষের টাকা জোগাড় করতে গোপনে ২ বিয়ে, স্ত্রীদের টানা-হেঁচড়ায়… «» মৌলভীবাজারে আ.লীগের সভা বর্জন : যা বললেন শফিক «» জগন্নাথপুরে হিফযুল কুরআন প্রতিযোগিতায় সিলেট বিভাগের ২০০জন অংশ নিয়ে ২০জন বিজয়ী «» ভালো স্কুল-কলেজের সন্ধানে সুনামগঞ্জ ছাড়ছে অনেক পরিবার «» গোলাপগঞ্জে সাংবাদিকদের সাথে বিদায়ী অধ্যক্ষের মতবিনিময় «» শেখ হাসিনা কখনো ত্যাগীদের অবমূল্যায়ন করেন না: সিলেটে শফিক «» বিশ্বনাথে কৃষি উদ্যোক্তা তৈরী শীর্ষক বৈঠক অনুষ্ঠিত «» জগন্নাথপুরে অধ্যক্ষ ছমির উদ্দিন ও ড. সৈয়দ রেজওয়ান আহমদকে গুণীজন সংবর্ধনা প্রদান



হবিগঞ্জে ধান সংগ্রহে অনিয়মের অভিযোগে ৩ সদস্যের কমিটি গঠন

নিজস্ব প্রতিবেদক :: হবিগঞ্জে সরকারের খাদ্যশস্য সংগ্রহের আওতায় ধান চাল সংগ্রহে অনিয়মের অভিযোগ তদন্তের জন্য ৩ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করলেন জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা।

সোমবার সিলেটের আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রকের নির্দেশে এ কমিটি গঠন করেন জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা মো. আবদুস ছালাম। ৩ সদস্যে এ কমিটিতে আহ্বায়কের দায়িত্ব দেয়া হয় বাহুবল উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক নজীর আহমেদকে।

কমিটির সদস্যরা হলেন- খাদ্য পরিদর্শক প্রতাব কুমার সাহা ও খাদ্য পরিদর্শক কালিপদ সাহা। এ কমিটিকে ৭ দিনের ভিতরে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

 

এ তথ্য নিশ্চিত করেন জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা মো. আবদুস ছালাম জানান, সম্প্রতি সিলেটের আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কাছে হবিগঞ্জ-নবীগঞ্জ রোডস্থ মেসার্স এসএন অটো রাইছ মিলের স্বত্বাধিকারী শংকর পাল মিল মালিকদের কাছ থেকে চাল সরবরাহের ব্যাপারে অনিয়মের অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে সিলেটের আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করার জন্য জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন।

 

অটো রাইচ মিল ব্যবসায়ী শংকর পাল তার অভিযোগে উল্লেখ করেন তার মিলের সমক্ষমতা সম্পন্ন মেসার্স জনতা ড্রাইয়ার অটোমেটিক রাইচ মিল। এ মিলের পাক্ষিক ক্ষমতার ৪৬৬ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দের স্থলে ১ হাজার ৪২৯ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ করা হয়েছে। সেই স্থলে মিলটির মালিক উক্ত মিলের নামের পূর্বে বরাদ্দকৃত চালই সরবরাহ করেননি। কিন্তু উক্ত মিলের নামে অতিরিক্ত চাল বরাদ্দ প্রদান করে নীতিমালা লঙ্ঘন করা হয়েছে।

তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, তার মিলটি চালু করতে ১৭০ কিলোওয়াট বিদ্যুত প্রয়োজন হয় এবং তার মিলে ৪৬৬ মেট্রিক টন চাল উৎপাদন করতে ৫লাখ ৪৬ হাজার ৭৬৭ টাকা বিদ্যুত বিল বাবদ ব্যয় হয়েছে। পক্ষান্তরে জনতা ড্রাইয়ার অটোমেটিক রাইচ মিল এ ১লাখ ১৯হাজার ৯৯৮ টাকা বিলে কি ভাবে ১হাজার ৪২৯ মেট্রিক টন চাল উৎপাদন সম্ভব এ বিষয় নিয়ে তিনি সন্দেহ পোষন করেন।

তিনি এ বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানান। সোমবার তিনি অভিযোগের অনুলিপিত হবিগঞ্জ দুর্নীতি দমন কমিশনের উপ-পরিচালকের কাছে দিয়েছেন। দুর্নীতি দমন কমিশনের উপ-পরিচালক এ বিষয়টি তদন্ত করে দেখবেন বলে জানিয়েছেন।

 

এদিকে হবিগঞ্জে সরকারের খাদ্যশস্য সংগ্রহের আওতায় ধান চাল সংগ্রহে অনিয়ম নিয়ে নানা তথ্য বের হয়ে আসছে। মিল মালিকদের মধ্যে চাল বন্টনেও কর্তৃপক্ষ বৈষম্য করেছেন। যে মিল মালিক খাদ্য কর্মকর্তাদের উৎকোচ দিয়ে ম্যানেজ করতে পেড়েছেন তাদের মিলে বরাদ্দের তালিকায় বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। আবার প্রভাব বিস্তার করেও অনেক মিল মালিক চাল বরাদ্দ বেশি নিয়েছেন। অতিরিক্ত বরাদ্দ নেয়ার পর অনেকে নিজেদের মিল থেকে চাল উৎপাদন না করে বিভিন্ন স্থান সংগ্রহ খাদ্য গোদামে চাল দিয়েছেন। যার তদন্ত করলেও প্রমান পাওয়া যাবে জানিয়েছেন মিল মালিকরাও।

গত ২৫ এ নিয়ে বিভিন্ন পত্রিকায় হবিগঞ্জে সরকারের খাদ্যশস্য সংগ্রহ আওতায় ধান-চাল সংগ্রহে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে মর্মে প্রকাশ হলে মিল মালিক জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকসহ অন্যান্য কর্মকর্তাদের মধ্যে টনক নড়ে। সংবাদটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্য ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে চাল কেলেংকারী বিষয় নিয়ে অনেকে সুষ্টু তদন্তের দাবি জানান।

 

সূত্র জানায়, গত ২৫ এপ্রিল সিলেট আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক অভ্যান্তরীন বোরো অভিযান (২০১৯) মৌসুমে হবিগঞ্জ জেলার ২৬টি মিলের ৮হাজার ৬৬৭টি মেট্রিক টন সিদ্ধ চাউল বরাদ্দ দেয়া হয়।

এর মধ্যে হবিগঞ্জ সদর উপজেলার ৭টি অটো রাইচ মিলকে বরাদ্দ দেয়া হয় ১হাজার ৬৪৮ মেট্রিক টন চাল। এর মধ্যে মেসার্স এসএন অটো রাইচ মিল ৪৬৬ মেট্রিক, মেসার্স জনতা ড্রাইয়ার অটোমেটিক রাইচ মিলকে ৪৬৬ মেট্রিক টন, মেসার্স সুরমা অটো রাইচ মিলকে ৫৭১ মেট্রিক টন, শেখ বয়লার রাইচ মিলকে ৩০ মেট্রিক টন, মেসার্স এ রহিম রাইচ মিলকে ৪৯ মেট্রিক, মেসার্স রফিক রাইচ মিলকে ৩৬ মেট্রিক টন ও মেসার্স ইন্তাজ রাইচ মিলকে ৩০ মেট্রিক চাল বরাদ্দ দেয়া হয়। লাখাই উপজেলার মেসার্স সাদিয়া অটো রাইচ মিলকে ১হাজার ৭৩ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়।

মাধবপুর উপজেলার ৭টি অটো রাইচ মিলকে ৯৯০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়। এর মধ্যে মের্সাস মানহা অটো রাইচ মিলকে ৭৩২, মেসার্স আদনান রাইচ মিলকে ৮২ টন, দি আয়েশা রাইচ মিলকে ৫৩, মেসার্স জগদীশপুর রাইচ মিলকে ৫৩, মেসার্স মিতা বয়লার মিলকে ৩৫ ও শাহ্ আব্বাস (রাঃ রাচই এন্ড এগ্রো ইন্ডাষ্ট্রিজকে ৩৫ টন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়।

চুনারুঘাট উপজেলার মেসার্স ওমর শরীফ বয়লার রাইচ মিলকে ৩৬৮ ও মেসার্স বিসমিল্লাহ বয়লার রাইচ মিলকে ২০৬ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়। বাহুবল উপজেলার মেসার্স এলাহী ভরসা রাইচ মিলকে ১৭৭, আদর্শ বয়লার রাইচ মিলকে ১৩৯, মের্সাস শোভা বয়লার রাইচকে ২৬৪ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়। নবীগঞ্জ উপজেলার মেসার্স টেকাদিঘী বয়লার রাইচ মিলকে ৪১১, মেসার্স প্রভাসিনী বয়লার রাইচ মিলকে ৫১৪ ও মেসার্স চৌধুরী বয়লার রাইচ মিলকে ২৫৮ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়। বানিয়াচং উপজেলার মেসার্স ছামির আলী অটোমেটিক রাইচ মিলকে ২হাজার ২৪৭, মেসার্স বিসমিল্লাহ রাইচ মিলকে ২৪৯, মেসার্স শাহ পরান বয়লার রাইচ মিলকে ৯৩ ও মেসার্স আব্দুল মতিন বয়লার মিলকে ৩০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়।

 

সূত্রমতে চাল বরাদ্দের নিয়ম অনুযায়ী চালের গন্ধ, বর্ণ ও স্বাদ স্বাভাবিক হতে হবে। কেবল মাত্র স্থানীয় ভাবে সংগ্রহ মৌসুমের ধান থেকে উৎপাদিত বিনির্দেশ সম্মত চাল সংগ্রহযোগ্য হবে। মিল মালিকরা নিজ ব্যবস্থাপনা ও তত্বাবধানে বরাদ্দপ্রাপ্ত চালের বিপরীতে প্রয়োজনীয় বস্তা ক্রয় কেন্দ্রে সরবাহ/সংগ্রহ করতে হবে এবং কিস্তির সমপরিমান খালি বস্তা সংশ্লিষ্ট ক্রয় কেন্দ্র হতে সরবরাহ/সংগ্রহ করতে হবে। প্রতি কিস্তির চাল ক্রয়কেন্দ্রে সরবরাহ/সংগ্রহের ক্ষেত্রে ১(এক) পাক্ষিক হিসেবে গণ্য হবে। এছাড়া চালের মান নিশ্চিতসহ ১০টি শর্ত ও চুক্তি দেয়া হয়।

কিন্তু নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে সরকারি খাদ্য গোদামের কর্মকর্তারা উৎকোচ নিয়ে তাদের পছন্দের মিল মালিকদের কাছ থেকে চাল সরবরাহ করছেন। এ নিয়ে ব্যবসায়ীদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

এ ব্যাপারে মেসার্স শেখ বয়লার রাইচ মিলের পরিচালক শেখ তারেক উদ্দিন সুমন জানান, আগে আমাদের রাইচ মিলকে ১৪৫ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেয়া হতো। এখন ৬০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৩০ মেট্রিক টন চাল দিতে পেড়েছি।

তিনি বলেন, চাল বন্টনে চরম বৈষম্য করছেন কর্তৃপক্ষ। অনেকটা অনিয়মের মাধ্যমে চাল বন্টন করা হচ্ছে। আমার বয়লার মিলে ৫০/৬০জন শ্রমিক কাজ করেন। কিন্তু চাল বরাদ্দ কম পাওয়ার কারণে শ্রমিকরা এখন বেকার হয়ে পড়েছেন। আমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। আমার মত অনেক মিল মালিকরাও নিধারিত বরাদ্দ না পেয়ে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। অথচ অনেকেই প্রভাব খাটিয়ে বেশি চাল বরাদ্দ নিচ্ছেন। তিনি সরকারী চালের সুষম বন্টনের দাবি করেন।

নাম প্রকাশে অনিইচ্ছুক আরো কয়েকজন মিল মালিক জানান, এ বিষয়ে সংবাদ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে অনেকেই ধান চাল সংগ্রহের দুর্নীতির তদন্তের দাবি জানান। হবিগঞ্জ জেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি সৈয়দ কামরুল হাসান লিখেন ধান চাল সংগ্রহ নিয়ে বিগত ১১ বছর ধরে চলছে অনিয়ম। সংঘবদ্ধ চক্র নেতাদের সহায়তায় এ অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি দুর্নীতি দমন কমিশনকে এ বিষয়টি তদন্ত করার দাবি জানান।

আওয়ামী লীগ নেতা মনসুর আলীর তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে এ অনিয়মের তদন্ত করার দাবি জানান। খাদ্যশস্য সংগ্রহ অভিযানের শুরু দিকে জেলা প্রশাসক মাহমুদুল কবীর মুরাদ সরকারের কর্মসূচি সফল করার জন্য ও কৃষকরা যাতে ন্যায্যমূল্য পায় সে লক্ষ্যে কৃষকদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ধান ক্রয় করে কৃষকদেরকে উদ্বুদ্ধ করেন। বিভিন্ন উপজেলার ইউএনওরাও কৃষকদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ধান সংগ্রহ করেন। কয়েকদিন এ কার্যক্রম চলে। কিন্তু এ কার্যক্রম যখনই খাদ্যগোদাম কর্তৃপক্ষের হাতে যায়, তখনই অনিয়মের শুরু হয়।

চাল ও ধানের দাম সরকারিভাবে বেশি হওয়ায় অতিরিক্ত মুনাফা লাভের জন্য সরকারি খাদ্য কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে অসাধু মিল মালিকরা এ সুযোগ নেন।