jagannathpurpotrika-latest news

আজ, ,

সর্বশেষ সংবাদ
«» খেলাফত মজলিসের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী সভায় জ্বালানী তেল ও বিদ্যুতের দাম আবারো বৃদ্ধি করা হলে গণবিস্ফোরণ ঘটবে- মাওলানা ইসহাক «» আ.লীগে এখন নেতার শেষ নেই, নেতা আছে, কর্মী পাওয়া যায় না- ওবায়দুল কাদের «» বিএনপির ৭ নেতাকর্মী আটক «» জগন্নাথপুর সরকারি কলেজে নবীনবরণ উপলক্ষে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান «» সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলনে নতুন সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নাম ঘোষণা «» শায়খুল হাদিস রহ. ইস্যুতে ক্ষমা চাইল যমুনা টিভি «» ২০২০ সালে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ খেলবে ভারত! «» সিলেটে আওয়ামী লীগের সম্মেলনকে স্বাগত জানিয়ে জেলা যুবলীগের প্রচার মিছিল «» শাইখুল হাদীসকে নিয়ে যমুনা টিভির কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের প্রতিবাদে ইসলামী সর্বদলীয় সংবাদ সম্মেলন «» লন্ডনে ২য় ভাষার মর্যাদা পেল ‘বাংলা’



ঈদের মোবারকবাদ ও মুসলমান ভাইদের প্রতি আহ্বান

।।  সাদিক সালীম ।।

 

ঈদের দিন এক অপরকে মোবারকবাদ দেওয়ায় ও শুভেচ্ছা জ্ঞাপনে কোন দোষ নেই। যেমন, ‘তাক্বাব্বালাল্লাহু মিন্না ওয়া মিনকুম’ ঈদ মুবারক ইত্যাদি দুআমূলক বাক্য বলে এক অপরের সাথে সাক্ষাৎ করা বৈধ। যেহেতু ঈদে ও অন্যান্য খুশীতে মুবারকবাদ দেওয়া, বর্কত, মঙ্গল ও কবুলের দুআ করা ইসলামে স্পষ্টভাবে সীকৃত।

 

যেমন, সাহাবাগণ ঈদগাহ হতে ফিরার সময় এক অপরকে বলতেন, ‘তাক্বাব্বালাল্লাহু মিন্না ওয়া মিনকুম।

 

অন্যান্য খুশীর বিষয়ে মুবারকবাদ দেওয়ার ব্যাপারেও ইসলামে ইঙ্গিত রয়েছে। যেমন আনাস (রাঃ) বলেন, (বিজয়ের খবর নিয়ে) ‘‘—এ এজন্য যে, তিনি তোমার অতীত ও ভবিষ্যতের ত্রুটিসমূহ মার্জনা করবেন—’’ এই আয়াতটি (কুঃ ৮৮/২) হুদাইবিয়া থেকে ফিরার পথে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উপর অবতীর্ণ হল তখন তিনি বললেন, ‘‘আমার উপর এমন একটি আয়াত অবতীর্ণ হয়েছে, যা ধরাপৃষ্ঠে সমগ্র বস্তু থেকে আমার নিকট প্রিয়তম।’’ অতঃপর তিনি সাহাবাদের কাছে তা পড়ে শুনালেন। তা শুনে সাহাবাগণ বললেন, ‘যে জিনিস আল্লাহ আপনাকে দান করেছেন তার উপর আপনাকে মুবারকবাদ।

 

অনুরূপভাবে যখন কা’ব বিন মালেক (রাঃ)-এর তওবা কবুল হল তখন তাঁকে মুবারকবাদ দেওয়া হয়েছিল।

 

বিবাহ-শাদীতে আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘বারাকাল্লাহু লাকা অবারাকা আলাইক—’ বলে বরকে মুবারকবাদের দুয়া দিতেন।

 

অবশ্য ঈদের খুশীতে মুবারকবাদ দেওয়ার ব্যাপারে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক কোন হাদীস প্রমাণিত নেই। তবে কিছু সাহাবা ও তাবেয়ীন হতে এ কথা বিশুদ্ধরূপে প্রমাণিত আছে। অতএব কেউ এ কাজ করলে করতেও পারে এবং ছাড়লে ছাড়তেও পারে।

 

শায়খ আব্দুর রহমান সা’দী বলেন, ‘বিভিন্ন উপযুক্ত শুভক্ষণে মুবারকবাদ শরীয়তের এক ফলপ্রসূ বৃহৎ মূলের উপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত। কারণ, যাবতীয় কথা ও কাজের দেশাচার ও প্রথার মৌলিক মান হচ্ছে বৈধতা। অতএব কোন আচার বা প্রথাকে হারাম বলা যাবে না; যতক্ষণ না ঐ প্রথা বা আচারকে শরীয়ত নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। অথবা তাতে কোন বিঘ্ন বা ক্ষতি প্রকাশিত না হয়েছে। এই মহান মৌলনীতির সপক্ষে কিতাব ও সুন্নাহর সমর্থনও রয়েছে।

 

সুতরাং লোকেরা এই মুবারকবাদকে কোন ইবাদত বলে মনে করে না। বরং তা একটা প্রচলিত রীতি মনে করে; যাতে শুভক্ষণে খুশির সাথে এক অপরকে শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করে থাকে এবং তাতে কোন বাধা বা বিঘ্নও নেই। বরং তাতে উপকারই আছে; যেমন মুসলিমরা এক অপরকে এর মাধ্যমে উপযুক্ত দুআ দিয়ে থাকে এবং তাতে আপোসে সৌহার্দ্য, ভালবাসা ও সম্প্রীতি সঞ্চার ও বৃদ্ধি হয়ে থাকে। তাই রীতির সাথে যখন কোন লাভ ও মঙ্গল যুক্ত হয় তখন তা তার ফল হিসাবে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।
এবং মুসলমান ভাইদের প্রতি আহ্বান…
আপনারা উপরে বর্ণিত আমল ছাড়াও অন্যান্য নেক আমলের প্রতি যত্নশীল হোন। যেমন, আত্মীয় স্বজনদের সাথে দেখা-সাক্ষাত করা, হিংসা-বিদ্বেষ পরিহার করা, একে অপরকে মহব্বত করা এবং গরীব ও ফকীরদের উপর মেহেরবান হওয়া এবং আনন্দ উৎসবকে তাদের সাথে ভাগাভাগি করে নেওয়া ইত্যাদি। আল্লাহর কাছে প্রার্থনা, তিনি আমাদেরকে তাঁর পছন্দনীয় কথা, কাজ ও আমল করার তাওফিক দান করুন। আমীন

লেখকঃকলামিষ্ট ও ছাত্রনেতা।