jagannathpurpotrika-latest news

আজ, ,

সর্বশেষ সংবাদ
«» সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভায় জাতীয় শোক দিবসের কর্মসূচি গ্রহণ «» শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে উন্নয়নের দিকে: সাংসদ মানিক «» কমলগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও ত্রাণ পাচ্ছে না পানিবন্দি পরিবার «» মৌলভীবাজারে বন্যায় হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দি «» সিলেটের প্রতিটি থানা হবে অসহায়-নির্যাতিত মানুষের আশ্রয়স্থল- পুলিশ সুপার «» জগন্নাথপুরে বাড়িঘরে পানি : মানুষের দুর্ভোগ বেড়েই চলছে «» গোলাপগঞ্জে তরুণী অপহরণ ও ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামী আটক «» বিশ্বনাথ থেকে সুরমা নদীতে ঝাঁপ দেয়া সেই তরুণের লাশ উদ্ধার «» গোয়াইনঘাটে আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সদস্য আটক «» সুনামগঞ্জে আতংকে বাড়ি ছেড়ে আশ্রয় নিচ্ছেন আত্মীয়ের বাড়িতে



সুষ্ঠ বিচার না হওয়ায় হত্যাকান্ড বেড়েই চলছে: ছাত্র মজলিসের কেন্দ্রীয় সভাপতি ইলিয়াস আহমদ

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র মজলিসের কেন্দ্রীয় সভাপতি ইলিয়াস আহমদ বলেন, বর্তমান সময়ে মানুষ ইসলামের বিধি-বিধান ভুলে গিয়ে সমাজকে কলুষিত করে তুলেছে। সর্বত্র অবিচার, অনাচার এবং পাপাচার বিরাজ করছে। মানুষের স্বাভাবিক জীবন যাত্রার মান ব্যাহত হচ্ছে। সর্বত্র হরিলুটের রাজত্ব চলছে। উন্নয়নের নামে সর্বত্র লুট করে খাচ্ছে শাষক গোষ্ঠী। দেশে প্রতিনিয়ত খুন-ধর্ষণ বেড়েই চলছে। এসব থেকে উত্তরণের জন্য ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বিকল্প নাই। তিনি আরো বলেন, সম্প্রতি বিজেপিশাসিত ঝাড়খণ্ডে চোর সন্দেহে তবরেজ আনসারী (২৪) নামে এক মুসলিম যুবককে পিটিয়ে হত্যা করেছে উগ্রহিন্দুত্ববাদী জনতা। তারা তবরেজ আনসারীকে জোর করে ‘জয় শ্রীরাম’ ও ‘জয় হনুমান’ ধ্বনি দিতে বাধ্য করে। ওই ঘটনায় দেশে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হওয়ায় ওপারে তাবরেজ নামক ছেলেটিকে পিটিয়ে হত্যা করার সপ্তাহ না ঘুরতেই এপারে রিফাতকে কুপিয়ে মেরে জানান দেওয়া হলো পশু সভ্যতার দৌড়ে আমরাও আছি। এভাবে দিন দুপুরে শতশত মানুষের সামনে কোনো মানুষকে কেউ তখনই মেরে ফেলার সাহস পায়, রাষ্ট্র যখন তাদের শেল্টার দেয়। সুতরাং যে ব্যাখ্যা দেওয়া হোক আর যে ভাষাতেই দেওয়া হোক, ইনিয়ে বিনিয়ে সরকারকে কভার-আপ করবার চামচামিটা যে সুরেই করা হোক, দু’দেশের সরকার এই দুই হত্যার দায় কোনোভাবেই এড়াতে পারে না। রিফাত নামের যে ছেলেটিকে প্রকাশ্য দিবালোকে এবং তার স্ত্রীর সামনেই কুপিয়ে মারা হলে, এই বর্বরতা পশু সমাজেও হয় না। পশুরাও এমন করে না। তারচে’ও বড় কথা, শত শত নপুংসক মানুষ চেয়ে চেয়ে দেখল। কেউ কিছু বলল না! একজনও এগিয়ে এলো না। আশ্চর্য!

 

তিনি আরো বলেন, মুসলমানদের ভারতে সবকিছু করার অধিকার আছে। এটা তাদের জন্মস্থান। তারা এ দেশের নাগরীক। দেশ ও দেশের স্বার্ভবৌমত্বকে রক্ষা করার দায়িত্বও তাদের আছে। দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন তারাও দেখে। মুসলমানদেরকে নৈতিকতা তাদেরকে তাদের ধর্ম শিক্ষা দিয়েছে।
কিন্তু বর্তমানে ভারতে মুসলমানদের উপর নৃশংসতা করা হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আজ মুসলিমদের রাস্তাঘাটে নামাজ পড়ার প্রতিবাদে রাস্তায় হনুমান পাঠ চলছে। মুসলমানদের বাধ্য করা হচ্ছে তাদের মুখ দিয়ে নিজ ধর্মবিশ্বাসের বিপরিত শব্দ উচ্চারণ করতে।

 

তিনি আরো বলেন, তিনমাসের ব্যবধানে দেশবাসী দেখল চারটি ‘আকর্ষণীয়’ হত্যাকাণ্ড। প্রত্যেক পরবর্তী ঘটনা পূর্ববর্তী ঘটনার চেয়ে ভয়াবহ। বেদনাদায়ক। হৃদয়বিদারক। ফেনীর নুসরাতকে আগুনে পুড়িয়ে, বনানীতে এক রোযাদারকে ইফতারের মুহূর্তে চলন্ত গাড়ি থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে, কিশোরগঞ্জে তানিয়াকে ধর্ষণের পর মাথার খুলি উড়িয়ে এবং গতকাল বরগুনায় রিফাতকে দিন-দুপুরে স্ত্রীর সামনে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। শুক্রবার (২৮ জুন) ছাত্র মজলিস ঢাকা মহানগরী উত্তরের ২ দিন ব্যাপী সহযোগী সদস্য কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন৷

 

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সাবেক কেন্দ্রীয় বায়তুলমাল সম্পাদক মাওলানা আবুল হুসাইন বলেন, সড়ক দুর্ঘটনা যেমন বর্তমানে দেশের নৈমিত্তিক ঘটনা তেমনি অভিনব পদ্ধতির সব হত্যাকাণ্ডও এখন সাধারণ খবর। সংবাদমাধ্যমে এসব খবর ছাপার পর কী কী হতে পারে, কে কী বলতে পারে তা এখন দেশের প্রায় সবাই জানে। তাই এসব ভয়াবহ খবর এখন আর মানুষকে আহত করে না তেমন। আসলে একস্থানে আঘাত বারবার করলে তা সহনীয় হয়ে যায়। মানুষ ভাবতে থাকে, তরিকা যাই হোক আখের তো মৃত্যুই।

 

সভাপতির বক্তব্যে মুহাম্মদ আবদুল গাফফার বলেন, পৃথিবীর মুসলিম জঙ্গিদের নিয়ে যত লেখালেখি হয়, মিয়ানমার ও চীনের বৌদ্ধ জঙ্গিদের নিয়ে, ভারতের হিন্দু ও বিভিন্ন দেশের ইহুদি-খ্রিষ্টান বা নাস্তিক জঙ্গিদের নিয়ে তার সিকিভাগও লেখালেখি হয় না কেন? সবচে বেশি জঙ্গিবাদ গড়ে উঠেছে জাতীয়তাবাদকে কেন্দ্র করে, এরপরও সব দোষ ধর্মের কাঁধে চাপানো হয় কেন? তাও সব ধর্ম নয়, কেবলই ইসলাম ধর্মই কেন হয় একমাত্র দোষী?
সেকুলার মিডিয়ার কথা বাদ দিলাম, আমরা মুসলিমরাই জঙ্গিবাদ প্রসঙ্গ আসলে কেন সীমাবদ্ধতা ও সংকীর্ণতায় ভুগি? কেন নির্ধারিত একটা গণ্ডির মধ্যে ঘুরপাক খেতে থাকি? আমরাও কেন মিডিয়ার স্বরে হাসি আর মিডিয়ার সুরে কাঁদি?

 

সংগঠনের কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সভাপতি মুহাম্মদ আবদুল গাফফারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ২ দিন ব্যাপী সহযোগী সদস্য কর্মশালায় বিষয়ভিত্তিক আলোচনা পেশ করেন সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি মাওলানা মুহাম্মদ আজীজুল হক, সাবেক কেন্দ্রীয় বায়তুলমাল সম্পাদক খন্দকার রুহুল আমিন, মাওলানা আবুল হুসাইন, খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য মুফতি ওযায়ের আমীন, খেলাফত মজলিস ঢাকা মহানগরীর সহ-সভাপতি মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম, খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরীর সহ-সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মাওলানা সাইফ উদ্দীন আহমদ খন্দকার, বিশিষ্ট লেখক মাওলানা লিসানুল হক। শাখা সেক্রেটারি আজিজ উল্লাহ আহমদীর পরচালনায় সমাপনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সাবেক কেন্দ্রীয় বায়তুলমাল সম্পাদক মাওলানা আবুল হুসাইন, প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক সভাপতি এ বি এম শহিদুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় জোন সদস্য ও গাজীপুর মহানগরীর সাবেক সভাপতি মুহাম্মদ শিহাব উদ্দিন, গাজীপুর মহানগরী সভাপতি মুহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ সেক্রেটারি কে এম ইমরান হুসাইন, ফেনী জেলা শাখার সাবেক সভাপতি মুহাম্মদ সা’দ উদ্দীন, দাবানল শিল্পীগোষ্ঠীর পরিচালক মাওলানা কাউসার আহমদ সোহাইল, ঢাকা মহানগরী উত্তরের সাবেক অফিস সম্পাদক মুহাম্মদ নিজাম উদ্দিন, বৃহত্তর গুলশান জোনের প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি মুহাম্মদ কামাল হুসাইন প্রমুখ। বিজ্ঞপ্তি