jagannathpurpotrika-latest news

আজ, ,

সর্বশেষ সংবাদ
«» শায়েস্তাগঞ্জে প্রথম চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন আব্দুর রশিদ তালুকদার ইকবাল «» বাবা নির্যাতন করায় মায়ের বিয়ে দিল ছেলে «» ঘুষ চাহিদামতো না পেয়ে এক দিনমজুরকে পেটালেন থানা পুলিশ «» মিশরের প্রথম নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট হাফিজ শহীদ মুরসির সর্বশ্রেষ্ঠ ডিগ্রী অর্জন «» বিশ্বনাথে কিশোরীর মৃত্যু নিয়ে রহস‌্যের সৃষ্টি «» সিলেট চেম্বারের নির্বাচন পরিচালনা বোর্ডের চেয়ারম্যান হলেন নাসির উদ্দিন খান «» ক্রিকেটের ইতিহাসে এই প্রথম পাহাড় ডিঙিয়ে জয় পেল বাংলাদেশ «» দক্ষিণ সুনামগঞ্জে বিল ব্যবহারকারী সংগঠনের সদস্যদের লভ্যাংশ বিতরণ ও অভিজ্ঞতা বিনিময় «» ‘খালেদা জিয়াকে জামিন দেওয়ার দায়িত্ব আদালতের’ «» দোয়ারা বাজারে বৃহত্তর বালিউরা ”সেবা” স্বেচ্ছাসেবী সামাজিক সংগঠনের ৩১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি ঘোষনা



মৌলভীবাজারে বাঁধ ভেঙ্গে প্লাবিত দু’টি গ্রাম, পানিবন্দি ৫০টি পরিবার

নিজস্ব প্রতিবেদক :: বর্ষন ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার আদমপুর ইউনিয়নের নাজাতকোনা এলাকায় ধলাই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধের পুরাতন ভাঙ্গন দিয়ে পানি বেরিয়ে বন্যার সৃষ্টি হয়েছে। বন্যার পানিতে পানিবন্দি হয়েছেন অর্ধশতাধিক পরিবার ও হুমকির মুখে রয়েছে ২০টি ঘর। কমলগঞ্জ উপজেলার ধলাই নদীর আদমপুর ইউনিয়নের নাজাতকোনা ও পশ্চিম ঘোড়ামারা গ্রামে কয়েক বছর ধরে বাঁধ ভাঙ্গা থাকার কারণে এই অবস্থা দেখা দিয়েছে। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ড বাঁধ মেরামতে স্থানীয়দের অসহযোগীতাকে দায়ী করছে।

এদিকে শুক্রবার সন্ধ্যার পর থেকে মনু নদীর পানি বিপদ সীমার ১০৭ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

শুক্রবার দুপুর থেকে ধলাই নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে ঘোড়ামারা গ্রাম এলাকায় বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। দুপুরে নাজাতকোনা এলাকায় ধলাই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধের পুরাতন বিশাল একটি ভাঙ্গন দিয়ে পানি উপচে প্লাবিত হচ্ছে গ্রাম। বিকাল পর্যন্ত ঘোড়ামারা ও নাজাতকোনা গ্রামের অর্ধশতাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। দুইদিনের বৃষ্টিপাতে ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে ধলাই নদী কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে উঠছে। ফলে গ্রামের আব্দুল ওয়াহিদ, নুরুজ্জামান মিয়া, তমিজ উদ্দীন, রমিজ উদ্দীন, মন্নাফ মিয়া, জমশেদ মিয়া, মর্জিনা বিবি, আবেদা বেগম, আব্দুল গফুর, সমেদ মিয়া, ওয়েছ মিয়া, হেলাল উদ্দীন, সাজেদা বেগম, মাজিদা বেগমের ঘরগুলো নদী ভাঙ্গনের কবলে পড়েছে। পানির তোড়ে ঘোড়ামারা গ্রামের এলজিইডি’র রাস্তাটি ২/৩ ফুট পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে। ঘোড়ামারা গ্রামে মণিপুরী থিয়েটারে পানি প্রবেশ করেছে।

কমলগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম ঘোড়ামারা গ্রামের হোসেন আলীর মেয়ে কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী রওশন আরা বেগম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ধলাই নদীর ভাঙ্গনে আমরা গ্রামের পনের পরিবার নি:স্ব হয়ে গেছি। নদীর বাঁধ মেরামত না হওয়ায় একমাত্র ঘরটি নদী গর্ভে তলিয়ে গেছে। এখন আমাদের থাকার মতো স্থায়ী জায়গা নেই। আমাদের অসহায়ত্ব দেখার মতোও কেউ নেই। কোথায় যাবো, কোথায় থাকবো, কি খাবো কেউ খবর নেয় না।

পশ্চিম ঘোড়ামারা গ্রামে নদীর গ্রাস হওয়া বাড়িঘর ঘুরে দেখা যায়, নদীর স্রোতে হোসেন আলীসহ গ্রামের পনেরটি ঘর নদীভাঙ্গনের কবলে পড়ে। আরও পাঁচটি রয়েছে ঝুঁকিপূর্ণ। হোসেন আলীর পাকা ঘরের অর্ধেক অংশ নদীতে চলে গেছে। ঘরের অবশিষ্ট অংশে বাঁশের বেড়া দিয়ে তারা মানবেতর জীবন যাপন করছেন।

ঘোড়ামারা গ্রামের মজিদা বেগম, নুরুজ্জামান, সাজেদা বেগম ও আব্দুল গফুর ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বন্যার পূর্বে যদি আমাদের এলাকায় নদীর বাঁধ মেরামত করা হতো তাহলে আর আমাদের এই ক্ষতি হতো না। কিছুদিন পূর্বে নদীর স্রোতে আমাদের ঘরগুলো নদীতে চলে গেছে। এখন আমাদের থাকার জায়গা নেই। আমরা এতোটা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও এখন পর্যন্ত কোন সহযোগিতা পাইনি।

ঘোড়ামারা গ্রামের বাসিন্দা মণিপুরী থিয়েটারের প্রতিষ্ঠাতা কবি ও নাট্যকার সুভাশীস সমীর ও জেলা শিল্পকলা একাডেমির কালচারেল অফিসার জ্যোতি সিন্হা বলেন, অভাবনীয় আকস্বিক বন্যায় ফের কবলিত হয়েছে আমাদের ঘোড়ামারা গ্রাম। উজান থেকে নেমে আসা পানির ঢলে আমাদের বাড়ির উঠান ডুবে গেছে। গ্রামের দক্ষিণ পশ্চিম কোণে ধলাই নদীতে গতবার যে বিরাট ভাঙন হয়েছিল, প্রলয়ংকরী বন্যা এসেছিল, একটি মাত্র পরিবারের বাঁধায় সেখানে আজো বাঁধ দেয়া সম্ভব হয়নি, স্থানীয় প্রশাসনও ব্যর্থ। মাত্র বর্ষার মৌসুম শুরু। এবার কয়দফা বন্যা আসে জানি না। এই গ্রামেই মণিপুরি থিয়েটার অডিটোরিয়াম (গতবার অনেক ক্ষতি হয়েছিল ভবনটির), মন্ডপ, প্রাইমারি স্কুলসহ আরো অনেক কিছু রয়েছে। এবারও কি রেহাই পাবে না কোনোটাই! তারা বিষয়টির অতি দ্রুত সমাধান ও নদীতে বাঁধ দেবার জোর দাবি জানিয়েছেন প্রশাসনের কাছে।
আদমপুর ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য হেলাল উদ্দীন বলেন, আসলে এখানে পানি উন্নয়ন বোর্ড গত বছর কাজে আসলেও কিছু মানুষের আপত্তির কারণে কাজ করা সম্ভব হয়নি।

আদমপুর ইউপি চেয়ারম্যান আবদাল হোসেন বলেন, বাঁধা অপসারিত করে পানি উন্নয়নের সাথে যোগাযোগ করা হলেও তারা বাঁধ নির্মাণ না করাতে জনভোগান্তি বেড়েছে।

কমলগঞ্জ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা আশেকুল হক বলেন, সরেজমিনে ঘুরে দেখবেন এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডকে ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলেছি।

এ ব্যাপারে মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রনেন্দ্র শংকর চক্রবর্তী বলেন, বিগত ২০১৭ সনে বাঁধ মেরামতের জন্য জন্য যে প্রকল্প নেয়া হয় সেখানে স্থানীয়দের আপত্তির কারণে ঠিকাদার কাজ করতে পারেনি। পরে বাধ্য হয়ে ঠিকাদার চলে আসেন। বর্তমানেও যদি জনপ্রতিনিধিসহ স্থানীয়দের সহযোগিতা পাওয়া যায় এবং ঘরগুলো সরানো হয় তাহলে কাজ করা সম্ভব হবে।