jagannathpurpotrika-latest news

আজ, ,

সর্বশেষ সংবাদ
«» শায়েস্তাগঞ্জে প্রথম চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন আব্দুর রশিদ তালুকদার ইকবাল «» বাবা নির্যাতন করায় মায়ের বিয়ে দিল ছেলে «» ঘুষ চাহিদামতো না পেয়ে এক দিনমজুরকে পেটালেন থানা পুলিশ «» মিশরের প্রথম নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট হাফিজ শহীদ মুরসির সর্বশ্রেষ্ঠ ডিগ্রী অর্জন «» বিশ্বনাথে কিশোরীর মৃত্যু নিয়ে রহস‌্যের সৃষ্টি «» সিলেট চেম্বারের নির্বাচন পরিচালনা বোর্ডের চেয়ারম্যান হলেন নাসির উদ্দিন খান «» ক্রিকেটের ইতিহাসে এই প্রথম পাহাড় ডিঙিয়ে জয় পেল বাংলাদেশ «» দক্ষিণ সুনামগঞ্জে বিল ব্যবহারকারী সংগঠনের সদস্যদের লভ্যাংশ বিতরণ ও অভিজ্ঞতা বিনিময় «» ‘খালেদা জিয়াকে জামিন দেওয়ার দায়িত্ব আদালতের’ «» দোয়ারা বাজারে বৃহত্তর বালিউরা ”সেবা” স্বেচ্ছাসেবী সামাজিক সংগঠনের ৩১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি ঘোষনা



সিলেটে চলছে রিকশাওয়ালাদের বকশিস বাণিজ্য

ডেস্ক রিপোর্ট :: বাণিজ্যটা শুরুটা হয়েছে সপ্তাহখানেক আগে। এখন তা অত্যাচারের পর্যায়ে। রিকশাওয়ালাদের বকশিস বাণিজ্য নিয়ে অনেকে হতাশা প্রকাশ করলেও কেউকেউ অবশ্য তা উপভোগও করছেন। ঈদুল ফিতর বলে কথা!

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসবের বাকী আর মাত্র ক’দিন। শেষ মুহুর্তের কেনাকাটায় ব্যস্ত সিলেটবাসী। দুপুুর থেকে শুরু করে মধ্যরাত পর্যন্ত রাস্তায় পা ফেলা দায় অবস্থা। রিকশা-অটোরিকশাতো আছেই, আছে অন্যান্য যানবাহনও।

এইসব যানবাহনের চালকরা এখন দেড় থেকে দুইগুণ বেশী ভাড়া হাঁকছেন। বেশী ভাড়া চাইছেন রিকশাচালকরাও।  যেখানে ১০টাকার ভাড়া, এখন তারা নিচ্ছেন ২০ থেকে ২৫/৩০ টাকা পর্যন্ত। কারণ, ঈদ। ঈদুল ফিতর। যুক্তিও দারুন! মামা, পোলা-মাইয়া নিয়া ঈদ করুমনা?

তাদের এমন আব্দারে কেউ তেমন কঠিন কিছু বলতেও পারছেন না। চুপচাপ দিয়ে যাচ্ছেন।

তবে এরমধ্যে নিম্ন আয়ের মানুষ যারা রিকশায় চড়তে বাধ্য হচ্ছেন, তাদের কাছে বিষয়টি রীতিমতো অত্যাচার বলেই মনে হচ্ছে। একেতো বাধ্য হয়ে রিকশা নিচ্ছেন তারা, তার উপর দ্বিগুণ ভাড়া! নিজেরই ঈদের ঠিক-ঠিকানা নেই, অন্যের খরচ যোগানো! কেউকেউ জড়িয়ে পড়ছেন তর্কবিতর্কে। এক পর্যায়ে তা গালাগালের দিকেও গড়াচ্ছে।

রবিবার দুপুরের কথাই ধরুন। তালতলা পয়েন্টে প্রথমে মৃদু কথা কাটাকাটি, এরপর গালাগালি শুরু করলেন একজন বয়স্ক যাত্রী। নাম তার আব্দুল কাইয়ুম (৫৫)।

জানালেন, বন্দর থেকে বরাবর এখানে এসে ১০ টাকা  ভাড়া দিচ্ছি। অথচ ড্রাইভার চেয়ে বসেছে ২০ টাকা। কারণ জিজ্ঞেস করতেই, বলে ঈদের বকশিস।

কাইয়ুম রিকশাওয়ালাকে ১৫ টাকা দিতে চাইলেও সে মানছেনা। কাকুতি-মিনতি করছে। তাই রাগে ফোঁস ফোঁস করছেন তিনি। এদিকে রিকশাচালকও নাছোড়বান্দা। শেষ পর্যন্ত গালাগাল করতে করতেই তিনি ২০ টাকাই দিলেন।

বিষয়টি উপভোগও করছেন মোটামুটি স্বচ্ছল যাত্রীরা। সন্ধ্যার পর আম্বরখানা থেকে জিন্দাবাজার এসে নামলেন দুই মহিলা যাত্রী। তারা ২০ টাকা রিকশাওয়ালাকে ধরিয়ে দিতেই তার আব্দার,  আফা, ঈদ করুমনা! দেন ৪০টা ট্যাহা দেন।

৪০ টাকা না দিলেও আরো ১০ টাকা বাড়িয়ে দিয়ে সামনে এগুলেন তারা। মুখে মৃদু হাসি।

যাত্রীরা চলে গেলে ব্রাম্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর থানার রহিম উদ্দিন (৩২) জানালেন, সিলেটে গত ৫/৬ বছর থেকে তিনি রিকশা চালাচ্ছেন। ঈদে অনেকেই না চাইলেও বকশিস হিসাবে কিছু বাড়তি টাকা দেন। তবে কখনো কখনো গালাগাল বা চড় থাপ্পড়ও জোটে।

রহিম আলী জানান, বাড়তি কয়েকটা টাকা পাওয়া যায় বলে বউ-বাচ্চা নিয়ে ঈদের আনন্দে শরিক হতে পারেন তিনি। নইলে?

আমগো আর ঈদ করণ লাগতনা মামা! পেডের ভাতই ঠিক মতোন জুডেনা!