jagannathpurpotrika-latest news

আজ, ,

সর্বশেষ সংবাদ
«» দক্ষিণ সুনামগঞ্জে অধ্যক্ষ রবিউল ইসলাম আর নেই «» সুনামগঞ্জে ধানের বিকল্প হিসেবে চাষ হচ্ছে ভুট্টা, সরিষা ও সূর্যমুখী «» ঘুষের টাকা জোগাড় করতে গোপনে ২ বিয়ে, স্ত্রীদের টানা-হেঁচড়ায়… «» মৌলভীবাজারে আ.লীগের সভা বর্জন : যা বললেন শফিক «» জগন্নাথপুরে হিফযুল কুরআন প্রতিযোগিতায় সিলেট বিভাগের ২০০জন অংশ নিয়ে ২০জন বিজয়ী «» ভালো স্কুল-কলেজের সন্ধানে সুনামগঞ্জ ছাড়ছে অনেক পরিবার «» গোলাপগঞ্জে সাংবাদিকদের সাথে বিদায়ী অধ্যক্ষের মতবিনিময় «» শেখ হাসিনা কখনো ত্যাগীদের অবমূল্যায়ন করেন না: সিলেটে শফিক «» বিশ্বনাথে কৃষি উদ্যোক্তা তৈরী শীর্ষক বৈঠক অনুষ্ঠিত «» জগন্নাথপুরে অধ্যক্ষ ছমির উদ্দিন ও ড. সৈয়দ রেজওয়ান আহমদকে গুণীজন সংবর্ধনা প্রদান



সিলেট জেলা আওয়ামী লীগ এক নেতার কাঁধে!

নিজস্ব প্রতিবেদক :: সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের নতুন কমিটি গঠিত হয় ২০১১ সালে। সে কমিটির মেয়াদ ২০১৪ সালে শেষ হয়। কিন্তু এখন অবধি নতুন কমিটির মুখ দেখেননি জেলা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। জেলা আওয়ামী লীগের প্রধান দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিও ‘ভারপ্রাপ্ত’, বয়োবৃদ্ধ। কমিটির অন্যরাও সক্রিয় নন পুরোপুরি। এরকম অবস্থায় সিলেট জেলা আওয়ামী লীগকে অনেকটা একাই টেনে নিচ্ছেন সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রায় পাঁচ বছর ধরে সিলেট জেলা আওয়ামী লীগ মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি দিয়ে চলছে। দীর্ঘদিন অপেক্ষা করেও নতুন কমিটি না আসায় যারা পদপ্রত্যাশী, তারা এখন রাজনীতিতে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছেন।

জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুজ জহির চৌধুরী সুফিয়ান ২০১৫ সালের ৯ সেপ্টেম্বর মারা যান। এরপর ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব দেয়া হয় এডভোকেট লুৎফুর রহমানকে। বয়োবৃদ্ধ এই নেতা বর্তমানে জেলা পরিষদেরও চেয়ারম্যান। একদিকে বয়সের ভারে ন্যুব্জতা, অন্যদিকে জেলা পরিষদের দায়িত্ব, এ দুইয়ের কারণে দলীয় রাজনীতিতে সক্রিয় নন লুৎফুর। তিনি নিজেই দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি চেয়ে বিগত সময়ে বক্তব্য রেখেছেন।

সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটিতে সহসভাপতি পদে থাকা ইমরান আহমদ ও মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী সংসদ সদস্যের দায়িত্ব পালন করছেন। আরেক সহসভাপতি আশফাক আহমদ সদর উপজেলা চেয়ারম্যান। জনপ্রতিনিধি হওয়ায় দলীয় রাজনীতিতে খুব বেশি সময় দিতে পারেন না তারা। সহসভাপতি পদে থাকা ইফতেখার হোসেন শামীম সড়ক দুর্ঘটনায় প্রয়াত হয়েছেন।

জেলা আওয়ামী লীগের অন্যান্য পদে যারা আছেন, তাদের সিংহভাগই এখন দলীয় রাজনীতিতে নিষ্ক্রিয়।

এর মধ্যে হাতেগোনা দু-চারজন নেতার সহযোগিতায় সিলেট জেলা আওয়ামী লীগকে একাই টানছেন সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সিলেট জেলা আওয়ামী লীগ এখন শফিক চৌধুরীর কাঁধে ভর করে দাঁড়িয়ে আছে। সিলেটজুড়ে দলীয় কর্মসূচি পালন, তৃণমূল নেতাকর্মীদের সক্রিয় ও সংগঠিত রাখা, বিপদে-আপদে নেতাকর্মীদের পাশে দাঁড়ানো সবক্ষেত্রেই অগ্রণী ভূমিকা রাখছেন শফিক।

আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মতে, সিলেটে আওয়ামী লীগের যে কোনো কর্মসূচি বাস্তবায়নে সবার অগ্রভাগে থাকেন শফিক চৌধুরী। বিভিন্ন উপজেলা ও পৌরসভা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা দলের যে কোনো বিষয়ে দিকনির্দেশনা নিতে শফিকের কাছে ছুটে আসেন।

জানা গেছে, সিলেটের যে কোনো উপজেলা কিংবা পৌরসভা আওয়ামী লীগ কর্তৃক আয়োজিত কর্মসূচিতে ছুটে যান সাবেক সংসদ সদস্য শফিকুর রহমান চৌধুরী। দলের কোনো নেতাকর্মী অসুস্থ হলে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা কিংবা দেখতে যাওয়ার ক্ষেত্রেও বিরাম নেই তার। এছাড়া দলীয় নেতাকর্মীদের বিয়ে, গায়ে হলুদ, ওয়ালিমাসহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেও সরব উপস্থিতি থাকে শফিকুর রহমান চৌধুরীর।

সংশ্লিষ্টদের মতে, নিজের কর্মগুণেই বর্তমানে সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের প্রধান নীতিনির্ধারক হয়ে ওঠেছেন শফিক চৌধুরী। এর ফলে আগামীতে জেলা আওয়ামী লীগের নতুন কমিটি হলে সেখানে সভাপতির দায়িত্ব তার কাঁধে বর্তাতে পারে বলে মনে করছেন নেতাকর্মীরা।

এ প্রসঙ্গে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের এক নেতা বলেন, ‘শফিক ভাই হচ্ছেন অলরাউন্ডার রাজনীতিবিদ। সবদিক এক হাতেই সামাল দিচ্ছেন তিনি। জেলা আওয়ামী লীগ তার কাঁধেই ভর করে চলছে।’

জানতে চাইলে শফিকুর রহমান চৌধুরী বলেন, ‘আওয়ামী লীগ আমার ভালোবাসা। জীবনের সিংহভাগ সময়ই এই দলের প্রতি আমি নিবেদন করেছি। দলের জন্য কাজ করে যাওয়াই আমার ব্রত।’

তিনি বলেন, ‘কেউ বেশি কাজ করে, কেউ কম-এটাই হয়। তবে আমি জেলার ভারপ্রাপ্ত সভাপতির সম্মতিতেই কাজ করি। দলের অন্যরাও আমাকে সহযোগিতা করেন।’