jagannathpurpotrika-latest news

আজ, ,

সর্বশেষ সংবাদ
«» জগন্নাথপুরে মিরপুর ইউনিয়নে আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী শেরীন বিশাল ভোটে চেয়ারম্যান নির্বাচিত «» ছাত্র মজলিস শ্যামপুর থানার বার্ষিক কর্মী সমাবেশ অনুষ্ঠিত «» জগন্নাথপুরে রাত পোহালেই ভোট যুদ্ধ শুরু ॥ কে হচ্ছেন সেই ভাগ্যবান চেয়ারম্যান «» ছাতকের কিলবার্ণ এন্ড হামস্টেড মুসলিম কালচারাল সেন্টারের ইমাম ও খতিবকে সংবর্ধনা «» ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহযোগী সদস্য সমাবেশে আবাসিক হলগুলোতে গড়ে ওঠা টর্চার সেল ধ্বংস করতে হবে: ছাত্র মজলিস «» ছাত্র মজলিস ঢাকা মহানগরী উত্তরের বার্ষিক সহযোগী সদস্য সমাবেশ অনুষ্ঠিত «» প্রধানমন্ত্রী-রাষ্ট্রপতি নিয়ে কটাক্ষ, সিলেটের মোগলবাাজার থেকে আটক ১ «» ছাত্রলীগের মিছিলে খুনের রক্ত: ভিপি নুর «» ছাত্র জমিয়তের মতবিনিময় সভায় অাগামি ১১ জানুয়ারী সিলেট বিভাগীয় সদস্য সম্মেলন ঘোষণা «» ফেসবুক ব্যবহারকারীদের উদ্দেশ্যে শাহীনুর পাশা চৌধুরীর কিছু কথা



শবে বরাত তাৎপর্য ও আমল : আল্লামা মুফতী সাঈদ আহমদ পালনপুরী

পনেরো শা‘বান সম্পর্কে চারটি বিশুদ্ধ কথা আমাদের মনে রাখতে হবে :

 

১. এ রাতে আল্লাহ তাআলা আপনাকে যতটুকু সাধ্য দেবেন, আপনি ঘরে বসে ব্যক্তিগতভাবে ইবাদত করবেন। কিন্তু তা না করে এটাকে হৈ-হুল্লোড়ের রাত বানানো, মসজিদে ও কবরস্থানে সমবেত হওয়া, খাবার-দাবারের স্থূল আয়োজন করা- এগুলো ভুল কাজ। এগুলোর কোনো বাস্তবতা নেই। এ রাতে নফল পড়া উচিত। পুরো রাত নামায পড়া আবশ্যক নয়। আল্লাহ তাআলা আপনাকে যতটুকু সাধ্য দিয়েছেন, আপনি ঘরে বসেই নফল নামায পড়ুন। এ রাতের ইবাদত একাকী পালন করতে হয়, সংঘবদ্ধভাবে নয়।

 

২. পরদিন রোযা রাখুন। এটি মুসতাহাব রোযা।

 

৩. এ রাতে আপনি নিজের জন্যে, আপনার মৃত আত্মীয়-স্বজনের জন্যে ও পুরো উম্মতের জন্যে মাগফিরাতের দুআ করুন। এ দুআর জন্যে কবরস্থানে যাওয়া জরুরি নয়। এ রাতে নবি করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অবশ্যই কবরস্থানে গিয়েছেন; কিন্তু লুকিয়ে গিয়েছেন। হযরত আয়েশা রাদি. ঘটনাচক্রে জানতে পেরেছিলেন। উপরন্তু এ রাতে নবি করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাউকে কবরস্থানে যেতে বলেননি। কাজেই এ নিয়ে আমাদের দেশে যে তামাশাগুলো হয়, সেগুলো পুরোপুরি ভুল।

 

৪. যদি কারো সঙ্গে আপনার ঝগড়া-বিবাদ-কলহ থাকে তাহলে এ রাতে মীমাংসা করে নিন। যদি মীমাংসা না করেন তাহলে আল্লাহর ক্ষমা পাবেন না।

 

এই রজনী সম্পর্কে এ চার কাজ যঈফ হাদিসের মাধ্যমে প্রমাণিত। যঈফ হাদিস তখন গ্রহণযোগ্য নয়, যখন তার বিপরীতে সহিহ হাদিস থাকবে। সহিহ হাদিসের মুকাবিলায় যঈফ হাদিস গ্রহণযোগ্য নয়। কিন্তু যদি কোনো মাসআলাতে শুধু যঈফ হাদিসই থাকে এবং তার বিপরীতে কোনো সহিহ হাদিস না থাকে, সেক্ষেত্রে যঈফ হাদিস গ্রহণযোগ্য। শুধু পনেরো শা‘বানের মাসআলাই নয়; এমন অজস্র মাসআলা রয়েছে, যেগুলোর ব্যাপারে যঈফ হাদিস রয়েছে। আর যঈফ হাদিসের মাধ্যমে অবশ্যই মাসআলা প্রমাণিত হয়। যেমন, সালাতুত তাসবিহের ব্যাপারে ১১টি রেওয়ায়েত রয়েছে। সবগুলোই যঈফ। এতদসত্ত্বেও মহান সালাফের যুগ থেকে সালাতুত তাসবিহ আদায়ের প্রচলন রয়েছে।

আর হ্যাঁ, যঈফ হাদিসের মাধ্যমে ওয়াজিব ও সুন্নত স্তরের আমল প্রমাণিত হয়। মুসতাহাব স্তরের বিধান প্রমাণিত হয়। কাজেই সালাতুত তাসবিহ আদায় করা মুসতাহাব। একই নীতি পনেরো শা‘বানের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। এ সম্পর্কে যতগুলো রেওয়ায়েত এসেছে, সেগুলোও যঈফ। কাজেই এগুলোর মাধ্যমে মুসতাহাব স্তরের আমল প্রমাণিত হবে। কাজেই এ ধরনের হাদিসে বর্ণিত চারটি কাজ মুসতাহাব হবে।

 

যারা বলে শবে বরাতের ভিত্তি নেই। এ রাতের আমলের ভিত্তি নেই। তাদের কথা সঠিক নয়।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কথা হলো, সূরা দুখানের তৃতীয় আয়াত انا انزلناہ فی لیلۃ مبارکۃ কে শবে বরাতের ওপর প্রয়োগ করা ভুল। ওই আয়াতে শবে কদরের কথা বলা হয়েছে। কেননা কুরআন কারিম শবে কদরে অবতীর্ণ হয়েছে। আল্লাহ আমাদের কে আমল করার তৌফিক দিন।