jagannathpurpotrika-latest news

আজ, ,

সর্বশেষ সংবাদ
«» সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভায় জাতীয় শোক দিবসের কর্মসূচি গ্রহণ «» শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে উন্নয়নের দিকে: সাংসদ মানিক «» কমলগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও ত্রাণ পাচ্ছে না পানিবন্দি পরিবার «» মৌলভীবাজারে বন্যায় হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দি «» সিলেটের প্রতিটি থানা হবে অসহায়-নির্যাতিত মানুষের আশ্রয়স্থল- পুলিশ সুপার «» জগন্নাথপুরে বাড়িঘরে পানি : মানুষের দুর্ভোগ বেড়েই চলছে «» গোলাপগঞ্জে তরুণী অপহরণ ও ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামী আটক «» বিশ্বনাথ থেকে সুরমা নদীতে ঝাঁপ দেয়া সেই তরুণের লাশ উদ্ধার «» গোয়াইনঘাটে আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সদস্য আটক «» সুনামগঞ্জে আতংকে বাড়ি ছেড়ে আশ্রয় নিচ্ছেন আত্মীয়ের বাড়িতে



শবে বরাত তাৎপর্য ও আমল : আল্লামা মুফতী সাঈদ আহমদ পালনপুরী

পনেরো শা‘বান সম্পর্কে চারটি বিশুদ্ধ কথা আমাদের মনে রাখতে হবে :

 

১. এ রাতে আল্লাহ তাআলা আপনাকে যতটুকু সাধ্য দেবেন, আপনি ঘরে বসে ব্যক্তিগতভাবে ইবাদত করবেন। কিন্তু তা না করে এটাকে হৈ-হুল্লোড়ের রাত বানানো, মসজিদে ও কবরস্থানে সমবেত হওয়া, খাবার-দাবারের স্থূল আয়োজন করা- এগুলো ভুল কাজ। এগুলোর কোনো বাস্তবতা নেই। এ রাতে নফল পড়া উচিত। পুরো রাত নামায পড়া আবশ্যক নয়। আল্লাহ তাআলা আপনাকে যতটুকু সাধ্য দিয়েছেন, আপনি ঘরে বসেই নফল নামায পড়ুন। এ রাতের ইবাদত একাকী পালন করতে হয়, সংঘবদ্ধভাবে নয়।

 

২. পরদিন রোযা রাখুন। এটি মুসতাহাব রোযা।

 

৩. এ রাতে আপনি নিজের জন্যে, আপনার মৃত আত্মীয়-স্বজনের জন্যে ও পুরো উম্মতের জন্যে মাগফিরাতের দুআ করুন। এ দুআর জন্যে কবরস্থানে যাওয়া জরুরি নয়। এ রাতে নবি করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অবশ্যই কবরস্থানে গিয়েছেন; কিন্তু লুকিয়ে গিয়েছেন। হযরত আয়েশা রাদি. ঘটনাচক্রে জানতে পেরেছিলেন। উপরন্তু এ রাতে নবি করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাউকে কবরস্থানে যেতে বলেননি। কাজেই এ নিয়ে আমাদের দেশে যে তামাশাগুলো হয়, সেগুলো পুরোপুরি ভুল।

 

৪. যদি কারো সঙ্গে আপনার ঝগড়া-বিবাদ-কলহ থাকে তাহলে এ রাতে মীমাংসা করে নিন। যদি মীমাংসা না করেন তাহলে আল্লাহর ক্ষমা পাবেন না।

 

এই রজনী সম্পর্কে এ চার কাজ যঈফ হাদিসের মাধ্যমে প্রমাণিত। যঈফ হাদিস তখন গ্রহণযোগ্য নয়, যখন তার বিপরীতে সহিহ হাদিস থাকবে। সহিহ হাদিসের মুকাবিলায় যঈফ হাদিস গ্রহণযোগ্য নয়। কিন্তু যদি কোনো মাসআলাতে শুধু যঈফ হাদিসই থাকে এবং তার বিপরীতে কোনো সহিহ হাদিস না থাকে, সেক্ষেত্রে যঈফ হাদিস গ্রহণযোগ্য। শুধু পনেরো শা‘বানের মাসআলাই নয়; এমন অজস্র মাসআলা রয়েছে, যেগুলোর ব্যাপারে যঈফ হাদিস রয়েছে। আর যঈফ হাদিসের মাধ্যমে অবশ্যই মাসআলা প্রমাণিত হয়। যেমন, সালাতুত তাসবিহের ব্যাপারে ১১টি রেওয়ায়েত রয়েছে। সবগুলোই যঈফ। এতদসত্ত্বেও মহান সালাফের যুগ থেকে সালাতুত তাসবিহ আদায়ের প্রচলন রয়েছে।

আর হ্যাঁ, যঈফ হাদিসের মাধ্যমে ওয়াজিব ও সুন্নত স্তরের আমল প্রমাণিত হয়। মুসতাহাব স্তরের বিধান প্রমাণিত হয়। কাজেই সালাতুত তাসবিহ আদায় করা মুসতাহাব। একই নীতি পনেরো শা‘বানের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। এ সম্পর্কে যতগুলো রেওয়ায়েত এসেছে, সেগুলোও যঈফ। কাজেই এগুলোর মাধ্যমে মুসতাহাব স্তরের আমল প্রমাণিত হবে। কাজেই এ ধরনের হাদিসে বর্ণিত চারটি কাজ মুসতাহাব হবে।

 

যারা বলে শবে বরাতের ভিত্তি নেই। এ রাতের আমলের ভিত্তি নেই। তাদের কথা সঠিক নয়।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কথা হলো, সূরা দুখানের তৃতীয় আয়াত انا انزلناہ فی لیلۃ مبارکۃ কে শবে বরাতের ওপর প্রয়োগ করা ভুল। ওই আয়াতে শবে কদরের কথা বলা হয়েছে। কেননা কুরআন কারিম শবে কদরে অবতীর্ণ হয়েছে। আল্লাহ আমাদের কে আমল করার তৌফিক দিন।